আম্পানে বিধ্বস্ত কয়রায় টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি

  খুলনা ব্যুরো ২৮ জুন ২০২০, ২২:৩৯:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

আম্পানে বিধ্বস্ত কয়রা উপজেলায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছেন দুর্গত এলাকার মানুষেরা।

রোববার দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদনপত্রটি হস্তান্তর করেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।

আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, সুপার সাইক্লোন আম্পানে কয়রা উপজেলার ১২১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২১টি স্থান ভেঙ্গে উপজেলার ৬৮টি গ্রামের ৫১ হাজার ঘরবাড়ি, ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল, ১৫ হাজার গবাদি পশু এবং ৫ হাজার মৎস্য ঘেরসহ উপজেলার ১ লাখ ৮২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১ হাজার ৮৮৩ জন অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং ২০ হাজার শিশুসহ হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে রাস্তায় ও আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

এ জন্য আম্পানের আঘাতে গৃহহীন হওয়া পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, যথেষ্ট খাদ্য সহায়তা এবং সুপেয় পানির সরবারহ নিশ্চিত করা আশু প্রয়োজন। এমতাবস্থায় বৃহত্তর খুলনার উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যানের অংশবিশেষ কয়রা উপজেলায় প্রশস্থ টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।

আবেদনে ৫ দফা সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে ইকো-ট্যুরিজমের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে খুলনার পীর খানজাহান আলী ব্রিজ সংলগ্ন ছাচিবুনিয়া থেকে বটিয়াঘাটা ও সোলাদানা হয়ে পাইকগাছা পর্যন্ত সড়কটি মহাসড়কে উন্নীত করা, কয়রা উপজেলার আংটিহারার সঙ্গে ভারতের পাশাপাশি শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ পর্যন্ত বর্ধিত করা, আংটিহারাতে একটি ডকইয়ার্ড নির্মাণ করা, বাংলাদেশের বৃহত্তম উপজেলা শ্যামনগর এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা কয়রাকে একটি মাস্টার প্ল্যানের আওতায় এনে প্রস্তাবিত টেকসই বেড়িবাঁধ কমপক্ষে ৪০-৪৫ ফুট প্রশস্থ করা, সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের শিল্পায়ন করা, বেড়িবাঁধের ভেতরে তাল, নারিকেল এবং দেশি জাতের প্রচুর ফলের চাষ করতে ইউএনডিপির সহযোগিতায় গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড থেকে এ ধরনের সামাজিক বনায়ন প্রকল্প গ্রহণ করা, কয়রা উপজেলায় ২১টি স্লুইচগেট নির্মাণ ও সংস্কারপূর্বক বর্ষাকালের মিঠাপানির সংরক্ষণ এবং লবণাক্ত পানি প্রবেশ সীমিত করে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি ও মিঠা পানির চিংড়িসহ মাছ চাষে ব্যাপক সম্প্রসারণ করা।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, কাঁকড়া চাষের জন্য পানির পিএইচ প্রয়োজন হয় ২২ অথবা তদূর্ধ্ব। অর্থাৎ চিংড়ি চাষের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ লবণাক্ত পানির প্রয়োজন হয়। পরিবেশের সুষ্ঠু সংরক্ষণের স্বার্থে বাঁধের অভ্যন্তরে কাঁকড়া চাষের আওতামুক্ত রাখার দাবি জানানো হয়।

আবেদনপত্র প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিব্বুল্লাহ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম আকাশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসীম উদ্দীন।

ঘটনাপ্রবাহ : ঘূর্ণিঝড় আম্পান

আরও
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত