শরণখোলায় একদিকে নির্মাণ, অন্যদিকে ভাঙছে সড়ক
jugantor
শরণখোলায় একদিকে নির্মাণ, অন্যদিকে ভাঙছে সড়ক

  শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি  

২৮ জুন ২০২০, ২২:৫৯:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

একদিকে সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে, অন্যদিকে তা ভেঙে পড়ছে এবং দেবে যাচ্ছে। নামমাত্র বালু দেয়া আর কোনো প্রকার কম্পেকশন ছাড়াই করছে আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রশস্তকরণের হেরিংবোনের কাজ।

সড়ক বিভাগের তদারকির অভাবের কারণে জুন ক্লোজিং-এর আগেই বাগেরহাটের সাইনবোর্ড-শরণখোলা-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কে এভাবে যেন-তেনভাবে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৬ মাস আগে সাইনবোর্ড-শরণখোলা-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কের আমড়াগাছিয়া কাঠেরপুল থেকে রায়েন্দা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের দরপত্র আহ্বান করে। সড়কের দু'পাশে তিন ফুট করে পাঁচ কিলোমিটার পার্শ্ব প্রশস্তকরণের জন্য হেরিংবোনের প্রাক্কলন করা হয়।

বাগেরহাটের মোজাহার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় ওই কাজ নিয়ে শুরু থেকে অনিয়মের আশ্রয় নেয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ফেলে রেখে এখন জুন মাসে বিল উত্তোলনের জন্য তড়িঘড়ি করে এবং দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে।

শনিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণ কাজে মাত্র আড়াই থেকে তিন ইঞ্চি বালু দেয়া হচ্ছে। বড় কথা হচ্ছে, কোনো প্রকার কম্পেকশন ছাড়াই ইট বিছানোর কারণে গাড়ির চাকার সঙ্গে তা সড়কের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ ছাড়া পাশে কোনো মাটি না দেয়ায় বিভিন্ন জায়গা থেকে ইতিমধ্যে ভেঙে সড়কের বাইরে পড়ছে।

এ সময় ধানসাগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কম্পেকশন ছাড়া বালুর পরিমাণ কম দিয়ে এত খারাপভাবে কাজ করছে তা বলে বুঝানো যাবে না। কাজ শেষ করার আগেই তা ভেঙে পড়ছে। এই কাজের নামে সরকারি অর্থ লোপাট ছাড়া আর কিছুই না বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ধানসাগর ইউপি চেয়ারম্যান মাঈনুল ইসলাম টিপু, আমড়াগাছিয়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা অজিত কির্তনিয়া, মনিন্দ্রনাথ হালদার বলেন, দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রাখার পর জুন মাসে বিল তুলে নেয়ার জন্য এখন যেন-তেনভাবে কাজ শেষ করছেন। এর চেয়ে কাজ না করা ভালো ছিল। তারা বিষয়টি দেখার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজের মালিক মশিউর রহমান সেন্টু বলেন, বৃষ্টির কারণে নির্মাণাধীন সড়কের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে তা ঠিক করে দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওই কাজের তদারকি কর্মকর্তা রিপন মিয়া বলেন, তার যোগদানের আগে ওই কাজের প্রাক্কলন করা হয়েছে। প্রাক্কলনে মাত্র তিন ইঞ্চি বালু ধরায় কাজটি ঠিকমতো হচ্ছে না। এলাকাবাসীর অভিযোগের কারণে বিষয়টি নিয়ে আমরাও বিব্রত। তবে, যে সব স্থানে দেবে বা ভেঙে গেছে তা ঠিক করে দেয়া হবে।

বাগেরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন বলেন, এ বিষয়টি আমিও দেখে এসেছি। কম্পেকশনের পরে মূলত তিন ইঞ্চি বালু থাকার কথা। আসলে বৃষ্টির কারণে নির্মাণ করা সড়ক দেবে যাচ্ছে। তবে সব কাজ ঠিক করে না দেয়া পর্যন্ত ঠিকাদারকে বিল দেয়া হবে না।

শরণখোলায় একদিকে নির্মাণ, অন্যদিকে ভাঙছে সড়ক

 শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি 
২৮ জুন ২০২০, ১০:৫৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

একদিকে সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে, অন্যদিকে তা ভেঙে পড়ছে এবং দেবে যাচ্ছে। নামমাত্র বালু দেয়া আর কোনো প্রকার কম্পেকশন ছাড়াই করছে আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রশস্তকরণের হেরিংবোনের কাজ।

সড়ক বিভাগের তদারকির অভাবের কারণে জুন ক্লোজিং-এর আগেই বাগেরহাটের সাইনবোর্ড-শরণখোলা-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কে এভাবে যেন-তেনভাবে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৬ মাস আগে সাইনবোর্ড-শরণখোলা-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কের আমড়াগাছিয়া কাঠেরপুল থেকে রায়েন্দা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের দরপত্র আহ্বান করে। সড়কের দু'পাশে তিন ফুট করে পাঁচ কিলোমিটার পার্শ্ব প্রশস্তকরণের জন্য হেরিংবোনের প্রাক্কলন করা হয়।

বাগেরহাটের মোজাহার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় ওই কাজ নিয়ে শুরু থেকে অনিয়মের আশ্রয় নেয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ফেলে রেখে এখন জুন মাসে বিল উত্তোলনের জন্য তড়িঘড়ি করে এবং দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে।

শনিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণ কাজে মাত্র আড়াই থেকে তিন ইঞ্চি বালু দেয়া হচ্ছে। বড় কথা হচ্ছে, কোনো প্রকার কম্পেকশন ছাড়াই ইট বিছানোর কারণে গাড়ির চাকার সঙ্গে তা সড়কের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ ছাড়া পাশে কোনো মাটি না দেয়ায় বিভিন্ন জায়গা থেকে ইতিমধ্যে ভেঙে সড়কের বাইরে পড়ছে।

এ সময় ধানসাগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কম্পেকশন ছাড়া বালুর পরিমাণ কম দিয়ে এত খারাপভাবে কাজ করছে তা বলে বুঝানো যাবে না। কাজ শেষ করার আগেই তা ভেঙে পড়ছে। এই কাজের নামে সরকারি অর্থ লোপাট ছাড়া আর কিছুই না বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ধানসাগর ইউপি চেয়ারম্যান মাঈনুল ইসলাম টিপু, আমড়াগাছিয়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা অজিত কির্তনিয়া, মনিন্দ্রনাথ হালদার বলেন, দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রাখার পর জুন মাসে বিল তুলে নেয়ার জন্য এখন যেন-তেনভাবে কাজ শেষ করছেন। এর চেয়ে কাজ না করা ভালো ছিল। তারা বিষয়টি দেখার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজের মালিক মশিউর রহমান সেন্টু বলেন, বৃষ্টির কারণে নির্মাণাধীন সড়কের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে তা ঠিক করে দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওই কাজের তদারকি কর্মকর্তা রিপন মিয়া বলেন, তার যোগদানের আগে ওই কাজের প্রাক্কলন করা হয়েছে। প্রাক্কলনে মাত্র তিন ইঞ্চি বালু ধরায় কাজটি ঠিকমতো হচ্ছে না। এলাকাবাসীর অভিযোগের কারণে বিষয়টি নিয়ে আমরাও বিব্রত। তবে, যে সব স্থানে দেবে বা ভেঙে গেছে তা ঠিক করে দেয়া হবে।

বাগেরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন বলেন, এ বিষয়টি আমিও দেখে এসেছি। কম্পেকশনের পরে মূলত তিন ইঞ্চি বালু থাকার কথা। আসলে বৃষ্টির কারণে নির্মাণ করা সড়ক দেবে যাচ্ছে। তবে সব কাজ ঠিক করে না দেয়া পর্যন্ত ঠিকাদারকে বিল দেয়া হবে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন