যমুনার পানি বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপরে
jugantor
যমুনার পানি বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপরে

  আসাদুল ইসলাম বাবুল, ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি  

২৯ জুন ২০২০, ১৫:২৯:০৪  |  অনলাইন সংস্করণ

যমুনার পানি বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপরে, পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। এতে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

যমুনার পানি বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অনেক স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। গৃহহারা হয়েছে শত শত পরিবার।

জানা যায়, গত কয়েক দিনে যমুনার পানি অতিমাত্রায় বৃদ্ধির কারণে যমুনা নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে গৃহহীন হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। তলিয়ে গেছে পাট, আউশ ধান, তিল, সবজি, বাদামসহ কয়েক হাজার একর জমির ফসল।

চরচন্দনী গ্রামের কৃষক রহিজ উদ্দিন জানান, এদিকে নদীর পানি বাড়ছে অন্যদিকে বাড়ি ভাঙছে, যা আবাদ করছিলাম সব বানে তলায়া গেছে। বাড়িঘর গরু-ছাগল লইয়া কনু যামু, কি করমু কিছুই দিসা পাইতাছি না।

গাবসারা ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির জানান, ইউনিয়নের প্রায় ১৫ গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ভূঁইয়াপাড়া, ফলদাপাড়া, রামপুর, খন্দকারপাড়া, চন্দনী, নিকলাপাড়া, মেঘারপটল গ্রামের প্রায় ৩১০ পরিবার দিশাহারা হয়ে পড়েছে।

ভাঙনকবলিত ছিন্নমূল পরিবারগুলো অতিকষ্টে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ২৫০ পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী মোল্লা।

এদিকে ভাঙন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ। গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ি ভালকুটিয়া ও কষ্টাপাড়া গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়ি যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে গোবিন্দাসী গরুর হাট, গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয়, ৩০০ বছরের পুরনো কষ্টাপাড়া কালীমন্দির, খানুরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

নিকরাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন সরকার জানান, কোনাবাড়ি, বাহাদুর টোকনা ও পলশিয়া গ্রামের ৪৫ পরিবারের বাড়িঘর যমুনায় বিলীন হয়েছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, যমুনার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় আপাতত জিওব্যাগ ফেলা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় জিওব্যাগ ফেলা হবে।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. নাসরিন পারভীন জানান, ভাঙনকবলিত পরিবারের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের জন্য এ পর্যন্ত কোনো ত্রাণ বরাদ্দ পাইনি। তবে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

যমুনার পানি বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপরে

 আসাদুল ইসলাম বাবুল, ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি 
২৯ জুন ২০২০, ০৩:২৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
যমুনার পানি বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপরে, পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ
ছবি: যুগান্তর

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। এতে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

যমুনার পানি বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অনেক স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। গৃহহারা হয়েছে শত শত পরিবার।

জানা যায়, গত কয়েক দিনে যমুনার পানি অতিমাত্রায় বৃদ্ধির কারণে যমুনা নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে গৃহহীন হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। তলিয়ে গেছে পাট, আউশ ধান, তিল, সবজি, বাদামসহ কয়েক হাজার একর জমির ফসল।

চরচন্দনী গ্রামের কৃষক রহিজ উদ্দিন জানান, এদিকে নদীর পানি বাড়ছে অন্যদিকে বাড়ি ভাঙছে, যা আবাদ করছিলাম সব বানে তলায়া গেছে। বাড়িঘর গরু-ছাগল লইয়া কনু যামু, কি করমু কিছুই দিসা পাইতাছি না।

গাবসারা ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির জানান, ইউনিয়নের প্রায় ১৫ গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ভূঁইয়াপাড়া, ফলদাপাড়া, রামপুর, খন্দকারপাড়া, চন্দনী, নিকলাপাড়া, মেঘারপটল গ্রামের প্রায় ৩১০ পরিবার দিশাহারা হয়ে পড়েছে।

ভাঙনকবলিত ছিন্নমূল পরিবারগুলো অতিকষ্টে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ২৫০ পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী মোল্লা।

এদিকে ভাঙন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ। গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ি ভালকুটিয়া ও কষ্টাপাড়া গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়ি যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে গোবিন্দাসী গরুর হাট, গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয়, ৩০০ বছরের পুরনো কষ্টাপাড়া কালীমন্দির, খানুরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

নিকরাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন সরকার জানান, কোনাবাড়ি, বাহাদুর টোকনা ও পলশিয়া গ্রামের ৪৫ পরিবারের বাড়িঘর যমুনায় বিলীন হয়েছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, যমুনার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় আপাতত জিওব্যাগ ফেলা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় জিওব্যাগ ফেলা হবে।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. নাসরিন পারভীন জানান, ভাঙনকবলিত পরিবারের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের জন্য এ পর্যন্ত কোনো ত্রাণ বরাদ্দ পাইনি। তবে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

 
জেলার খবর