গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, নদী ভাঙন বৃদ্ধি
jugantor
গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, নদী ভাঙন বৃদ্ধি

  গাইবান্ধা প্রতিনিধি  

২৯ জুন ২০২০, ২০:৩২:৫০  |  অনলাইন সংস্করণ

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, সোমবার বেলা ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৮০ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ঘাঘট নদীর পানি নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৪ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

২৪ ঘণ্টায় করতোয়া নদীর পানি ৪৫ সেমি বৃদ্ধি পেলেও এ নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। এতে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়ছে হাজার হাজার মানুষ। এছাড়া পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদী ভাঙনও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভাঙন কবলিত ও পানিবন্দি লোকজন তাদের বাড়িঘর ছেড়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গরু-ছাগল নিয়ে নৌকা দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। করতোয়ার পানি বৃদ্ধির ফলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে ওই ইউনিয়নের ধনদিয়া গ্রামে ব্যাপক নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। গত দুইদিনে ওই গ্রামে ১৫টি পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে গৃহহারা হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

পানি বৃদ্ধির ফলে ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। চরম হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, জিগাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এরেন্ডাবাড়ী পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, দুই জামে মসজিদ, জিগাবাড়ী বাজার নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা, জিগাবাড়ী ঈদগা মাঠ, একটি বিএস কোয়াটার, ৩টি মোবাইল টাওয়ার ও এরেন্ডাবাড়ী বাজার।

নদী ভাঙন এলাকা থেকে মাত্র কয়েক গজ দুরেই এসব প্রতিষ্ঠান অবস্থান করছে। তাছাড়া জিগাবাড়ী বাজারে অবস্থিত ২৫০টি দোকানের ব্যবসায়ীরা চরম উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছেন। ইতিমধ্যে বাজার এলাকার জামে মসজিদটি নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। পশ্চিম জিগাবাড়ী এলাকার ৪২টি পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে ভিটেমাটি হারিয়েছে।

এদিকে গাইবান্ধা শহর সংলগ্ন খোলাহাটী ইউনিয়নে ঘাঘট নদীর অব্যাহত ভাঙনে শহর রক্ষা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পশ্চিম কোমরনই এলাকায় প্রায় ১ হাজার মিটার বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। ওই ধসে পড়া অংশে বালির বস্তা দিয়ে প্রতিরক্ষামূলক কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তবে বাঁধ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলায় মোট ১৮টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে সুন্দরগঞ্জে ৪, ফুলছড়িতে ৬, সাঘাটায় ৫ ও সদর উপজেলায় ৩টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত।

গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, নদী ভাঙন বৃদ্ধি

 গাইবান্ধা প্রতিনিধি 
২৯ জুন ২০২০, ০৮:৩২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, সোমবার বেলা ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৮০ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ঘাঘট নদীর পানি নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৪ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

২৪ ঘণ্টায় করতোয়া নদীর পানি ৪৫ সেমি বৃদ্ধি পেলেও এ নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। এতে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়ছে হাজার হাজার মানুষ। এছাড়া পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদী ভাঙনও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভাঙন কবলিত ও পানিবন্দি লোকজন তাদের বাড়িঘর ছেড়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গরু-ছাগল নিয়ে নৌকা দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। করতোয়ার পানি বৃদ্ধির ফলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে ওই ইউনিয়নের ধনদিয়া গ্রামে ব্যাপক নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। গত দুইদিনে ওই গ্রামে ১৫টি পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে গৃহহারা হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

পানি বৃদ্ধির ফলে ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। চরম হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, জিগাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এরেন্ডাবাড়ী পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, দুই জামে মসজিদ, জিগাবাড়ী বাজার নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা, জিগাবাড়ী ঈদগা মাঠ, একটি বিএস কোয়াটার, ৩টি মোবাইল টাওয়ার ও এরেন্ডাবাড়ী বাজার।

নদী ভাঙন এলাকা থেকে মাত্র কয়েক গজ দুরেই এসব প্রতিষ্ঠান অবস্থান করছে। তাছাড়া জিগাবাড়ী বাজারে অবস্থিত ২৫০টি দোকানের ব্যবসায়ীরা চরম উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছেন। ইতিমধ্যে বাজার এলাকার জামে মসজিদটি নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। পশ্চিম জিগাবাড়ী এলাকার ৪২টি পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে ভিটেমাটি হারিয়েছে।

এদিকে গাইবান্ধা শহর সংলগ্ন খোলাহাটী ইউনিয়নে ঘাঘট নদীর অব্যাহত ভাঙনে শহর রক্ষা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পশ্চিম কোমরনই এলাকায় প্রায় ১ হাজার মিটার বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। ওই ধসে পড়া অংশে বালির বস্তা দিয়ে প্রতিরক্ষামূলক কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তবে বাঁধ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলায় মোট ১৮টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে সুন্দরগঞ্জে ৪, ফুলছড়িতে ৬, সাঘাটায় ৫ ও সদর উপজেলায় ৩টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন