সুনামগঞ্জের হাওরে বাড়ছে পানি

  সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ২৯ জুন ২০২০, ২২:০৬:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

সুনামগঞ্জে টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি সুরমা নদীতে কমতে শুরু করলেও পানির চাপ বাড়ছে জেলার হাওর জনপদে। পাহাড়ি ঢল উজান থেকে ভাটির দিকে নেমে প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ১১ মিলিমিটার। এ সময়ে সুরমা নদীর পানি কমে সোমবার দুপুরে শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বৃষ্টিপাত কম হলে সুরমা নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

তবে সুরমা নদীতে পানি কমলেও এ পানি এখন হাওরের দিকে নামতে শুরু করেছে। ফলে হাওর তীরবর্তী ও এর আশপাশ এলাকায় পানির চাপ বাড়ছে। ফলে জেলা শহরের একপাশের বাসাবাড়ি থেকে পানি নামতে শুরু করলেও আরেকদিকে কালিপুর, মুহাম্মদপুর, হাজীপাড়া, নতুন পাড়া, পশ্চিম হাজিপাড়া, শান্তিবাগ এলাকা নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। বাড়িঘর,রাস্তাঘাট ডুবে জনদুর্ভোগ বাড়ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান জানান, রোববার সকালে সুরমার পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি কমতে শুরু করে যা সোমবার ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত কমে গেলে পাহাড়ি ঢলও কমে যাবে। এতে দ্রুত পানি নামতে শুরু করবে।

তিনি আরও বলেন, সুরমার পানি কমছে। তবে এই পানি নিম্নাঞ্চলে চাপ তৈরি করায় সেখানে পানি বাড়ছে।

এদিকে জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ পর্যন্ত মোট ১২৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১১৯৪টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদরে ৫৯টি পরিবার, বিশ্বম্ভরপুরে ১০০টি, তাহিরপুরে ৬২৭টি, ছাতকে ৫০টি, দোয়ারাবাজারে ৯টি, ধর্মপাশায় ১৩টি, সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ২০০টি, ছাতক পৌরসভায় ৫৬টি এবং জগন্নাথপুর পৌরসভায় ৭০টি পরবিার আশ্রয় নিয়েছে।

কন্ট্রোল রুম আরও জানায়, চলমান বন্যায় জেলায় এ পর্যন্ত ৬১টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে ৬৬ হাজার ৮৬৯টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে নগদ ১০ লাখ টাকা এবং ১০ মেট্রিক টন চাল নতুন করে বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, ত্রাণ ছাড়াও দুর্গত মানুষকে সহায়তার জন্য ৪১০ মেট্রিক টন চাল, ২৯ লাখ ৭০ হাজার নগদ টাকা ও ৫ হাজার পরিবারের জন্য শিশুখাদ্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে ৫৫৫ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত