বাঘায় স্কুল ভবন উন্মুক্ত টেন্ডারে বিক্রি

  বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি ৩০ জুন ২০২০, ২২:৩১:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার মধ্যে চরকালিদাসখালী সরকারি প্রাইমারি স্কুল ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য উন্মুক্তভাবে অবশেষে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয়বার সরকারি মূল্য বেশি হওয়ায় কেউ সাড়া দেয়নি।

তবে তৃতীয়বার সরকারি মূল্য কম করে দেয়ায় মঙ্গলবার উন্মক্তভাবে ঠিকাদাররা টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে স্কুলটি ক্রয় করেন।

জানা যায়, বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের পদ্মার মধ্যে চরকালিদাসখালী প্রাইমারি স্কুলটি ১৯৮৩ সালে স্থাপিত হয়। প্রায় ২৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৯৯৮ সালে প্রথমে একতলা এবং ২০১১ সালে দোতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। পদ্মা নদী ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে স্কুলের ভবন থেকে ৩০ মিটার দূরে অবস্থান করছে।

এটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী, শিক্ষা কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে স্কুলটি স্থানান্তরের নির্দেশ দেন এবং ভবনের উন্মুক্ত টেন্ডারের আহ্বান করা হয়।

প্রথমবার ১৫ জুন এবং দ্বিতীয়বার ১৯ জন স্কুল ভবনের সরকারি ৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করে উন্মুক্ত টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্তু সরকারি মূল্য বেশি হওয়ায় কোনো ঠিকাদার এই উন্মুক্ত টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেননি। পরে তৃতীয়বার ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করে উন্মুক্ত টেন্ডার আহ্বান করায় ভবন বিক্রি হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রতন কুমার ফৌজদার বলেন, আমরা সরেজমিন গিয়ে নতুন মূল্য দেখে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু সেখানে স্কুলের ভবনের বিষয়ে কেউ ডাক দেননি। ফলে তৃতীয়বার সরকারি মূল্য কম করে পুনরায় তারিখ নির্ধারণ করে টেন্ডারের আহ্বান করে সেটি বিক্রয় হয়েছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকার কারণে এমন অবস্থা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকলে আরও বেশি দামে ভবন বিক্রি হতো।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবিএম সানোয়ার হোসেন বলেন, স্কুলটি টেন্ডারে বিক্রি করা হয়েছে। এটি না হলে ভবন চকরাজাপুর হাইস্কুলের মতো পদ্মাগর্ভে চলে যেত।

চরকালিদাসখালী সরকারি প্রাইমারি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সেলিনা পারভীন বলেন, এই স্কুলে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ২০৯ জন। পদ্মা নদী ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে স্কুলের ভবনের নিকট চলে এসেছে। বিষয়টি প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে অবহিত করার পর স্কুলটি স্থানান্তরের জন্য কালিদাসখালী মৌজার মধ্যে দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আজিজুল আযম বলেন, স্কুলের ৭ কক্ষ বিশিষ্ট ভবন পদ্মার ভাঙন থেকে ৩০ মিটার দূরে অবস্থান করছে। ভবনটি স্থানান্তর করায় সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, নদীভাঙ্গন ও বন্যার পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রথমবার ও দ্বিতীয়বার কেউ এগিয়ে আসেননি। তৃতীয়বার টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত