লঞ্চডুবির সময় শিশুসন্তানকে আঁচলে বাঁধলেন মা!
jugantor
লঞ্চডুবির সময় শিশুসন্তানকে আঁচলে বাঁধলেন মা!

  আরিফ উল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ  

৩০ জুন ২০২০, ২২:৫৮:৩৮  |  অনলাইন সংস্করণ

বুড়িগঙ্গার তীরে মানুষের অপেক্ষা

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবিতে মুন্সীগঞ্জজুড়ে চলছে শোকের মাতম। শোকে বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। কেউ হারিয়েছেন বাবা, কেউ মা, কেউ ভাই-বোন, কেউ হারিয়েছেন স্বামী, কেউ স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে।

নিজের মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে শিশুকে বাঁচাতে আঁচলে বেঁধে রাখেন এক মা।

৮ বছরের শিশু সিফাত আশ্রয় নিলেন মায়ের আঁচলে, মা-ও কাছে টেনে নিলেন।

এ এক অন্যরকম ভালোবাসা। মমতাময়ী মা ও সন্তানের ভালোবাসার মধ্য দিয়ে দু'জনেরই মৃত্যু ঘটবে হয়ত জানত না তারা। সন্তান হয়ত মনে করেছিল মায়ের আঁচলে গিয়ে শেষ আদরটুকু পাবে, আর মা হয়ত মনে করেছিলেন এ আঁচল দিয়েই রক্ষা করবে সন্তানকে। তাই পরম মমতায় সন্তানকে আগলে রাখেন মা।

আদরের সন্তানকে আঁচলে পেঁচিয়ে বুড়িগঙ্গায় ডুবে যান মা। কিন্তু না একসঙ্গে মা-সন্তান নদীতে ডুবে মারা গেলেন।

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামের আইনজীবী আবদুর রহমানের (৪৮) স্ত্রী হাসিনা বেগম (৩৫)। তাদের ৮ বছরের সন্তান সিফাত। লঞ্চডুবির ঘটনায় একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। হাসিনা বেগম ও ছেলে সিফাতের লাশ উদ্ধার করা হয় সোমবার। মঙ্গলবার মিলল আবদুর রহমানের লাশ।

আবদুর রহমান ঢাকার জজ কোর্টে কর্মরত ছিলেন। ঢাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করলেও করোনায় লকডাউনের কারণে কোর্টের কাজ-কর্ম বন্ধ থাকায় কয়েক মাস ধরে গ্রামের বাড়ি টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামে ছিলেন।

মীরকাদিম থেকে মর্নিং বার্ড লঞ্চযোগে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন আব্দুর রহমান। রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি ডুবে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যখন হাসিনা বেগমের লাশ নদী থেকে উঠানো হয় তখন শাড়ির আঁচলে পেঁচানো ছিল শিশুপুত্র সিফাতের লাশ। বিষয়টি দেখে বিস্মিত হন সবাই।

হাসিনা বেগমের ভাই রবিন বলেন, আপার শাড়ির আঁচলে পেটের সঙ্গে বাঁধা ছিল ভাগনে সিফাত। হয়ত আপা বিপৎ বুঝে ভাগনেকে আঁচলে বেঁধেছেন আগেই। কিন্তু মা-ছেলে কেউ বাঁচল না। দু'জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

লঞ্চডুবির সময় শিশুসন্তানকে আঁচলে বাঁধলেন মা!

 আরিফ উল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ 
৩০ জুন ২০২০, ১০:৫৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বুড়িগঙ্গার তীরে মানুষের অপেক্ষা
বুড়িগঙ্গার তীরে মানুষের অপেক্ষা। ফাইল ছবি

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবিতে মুন্সীগঞ্জজুড়ে চলছে শোকের মাতম। শোকে বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। কেউ হারিয়েছেন বাবা, কেউ মা, কেউ ভাই-বোন, কেউ হারিয়েছেন স্বামী, কেউ স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে।

নিজের মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে শিশুকে বাঁচাতে আঁচলে বেঁধে রাখেন এক মা।

৮ বছরের শিশু সিফাত আশ্রয় নিলেন মায়ের আঁচলে, মা-ও কাছে টেনে নিলেন।

এ এক অন্যরকম ভালোবাসা। মমতাময়ী মা ও সন্তানের ভালোবাসার মধ্য দিয়ে দু'জনেরই মৃত্যু ঘটবে হয়ত জানত না তারা। সন্তান হয়ত মনে করেছিল মায়ের আঁচলে গিয়ে শেষ আদরটুকু পাবে, আর মা হয়ত মনে করেছিলেন এ আঁচল দিয়েই রক্ষা করবে সন্তানকে। তাই পরম মমতায় সন্তানকে আগলে রাখেন মা।

আদরের সন্তানকে আঁচলে পেঁচিয়ে বুড়িগঙ্গায় ডুবে যান মা। কিন্তু না একসঙ্গে মা-সন্তান নদীতে ডুবে মারা গেলেন।

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামের আইনজীবী আবদুর রহমানের (৪৮) স্ত্রী হাসিনা বেগম (৩৫)। তাদের ৮ বছরের সন্তান সিফাত। লঞ্চডুবির ঘটনায় একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। হাসিনা বেগম ও ছেলে সিফাতের লাশ উদ্ধার করা হয় সোমবার। মঙ্গলবার মিলল আবদুর রহমানের লাশ।

আবদুর রহমান ঢাকার জজ কোর্টে কর্মরত ছিলেন। ঢাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করলেও করোনায় লকডাউনের কারণে কোর্টের কাজ-কর্ম বন্ধ থাকায় কয়েক মাস ধরে গ্রামের বাড়ি টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামে ছিলেন।

মীরকাদিম থেকে মর্নিং বার্ড লঞ্চযোগে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন আব্দুর রহমান। রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি ডুবে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যখন হাসিনা বেগমের লাশ নদী থেকে উঠানো হয় তখন শাড়ির আঁচলে পেঁচানো ছিল শিশুপুত্র সিফাতের লাশ। বিষয়টি দেখে বিস্মিত হন সবাই।

হাসিনা বেগমের ভাই রবিন বলেন, আপার শাড়ির আঁচলে পেটের সঙ্গে বাঁধা ছিল ভাগনে সিফাত। হয়ত আপা বিপৎ বুঝে ভাগনেকে আঁচলে বেঁধেছেন আগেই। কিন্তু মা-ছেলে কেউ বাঁচল না। দু'জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি ২০২০

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন