বাঁচার আশা দেখছেন বড়লেখার প্রবাসী যুবক বদরুল
jugantor
বাঁচার আশা দেখছেন বড়লেখার প্রবাসী যুবক বদরুল
কিডনি প্রতিস্থাপনে ২৫ লাখ টাকা সংগ্রহ

  আব্দুর রব, বড়লেখা (মৌলভীবাজার)  

০১ জুলাই ২০২০, ১৬:১২:২৭  |  অনলাইন সংস্করণ

বড়লেখা উপজেলার প্রবাসীফেরত যুবক বদরুল ইসলাম (৩২)। দুটি কিডনি অকেজো হয়ে যাওয়ায় অর্থাভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে না পেরে তিনি মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন।


অবশেষে তার কিডনি প্রতিস্থাপনে গঠিত তহবিলে মাত্র ২ সপ্তাহে ২৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে শিক্ষা ও সেবা ফাউন্ডেশন কাঁঠালতলী।


এ তথ্য জানিয়েছেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রধান শিক্ষক সেলিম আহমদ। বদরুল বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।


মানুষের সহায়তায় তিনি বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন। আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই কিডনি প্রতিস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।


জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর (কাঁঠালতলী) ইউনিয়নের বাসিন্দা বদরুল ইসলাম কয়েক বছর ধরে দুবাই প্রবাসী।

ছয় মাস আগে হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে তিনি সেখানকার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান তার দুটি কিডনিই অকেজো।

এ অবস্থায় বদরুল দেশে ফিরে ডায়ালাইসিসসহ অন্য চিকিৎসা করতে থাকেন। একসময় চিকিৎসকরা জানান, দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন।


বদরুলের ছোটভাই ছয়ফুল ইসলাম নিজের একটি কিডনি বড়ভাই বদরুলকে দিতে প্রস্তুত হন।


কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপনে এককালীন ২৫ লাখ টাকা পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা কোনো অবস্থায় সম্ভব হচ্ছিল না।


তা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়েও বদরুলের পরিবারের বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়েছে, যা জমি বিক্রি করে জোগাড় করা হয়েছিল।


উপায়ন্তর না দেখে বদরুলের বড়ভাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলাদ হোসেন স্থানীয় শিক্ষা ও সেবা ফাউন্ডেশনের কাছে সাহায্যের আবেদন করেন।


শিক্ষা ও সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষেও এককালীন এত টাকা দেয়া বেশ কষ্টকর ছিল। তাই মিলাদ হোসেনের পরিবারের অনুমতি সাপেক্ষে ফাউন্ডেশনের পরিচালক কলাজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছয়ফুল হক সাহায্য চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন।


বিষয়টি স্থানীয় অনেক প্রবাসীর নজরে এলে তারাও প্রচারণায় যুক্ত হন। এর পর সবার পরামর্শে সাহায্যের আবেদন চেয়ে বদরুল ইসলামের বড়ভাই শিক্ষক মিলাদ হোসেনের একটি ভিডিওবার্তা পোস্ট করেন।


এর পর থেকেই দেশে-বিদেশে থাকা অনেকেই এগিয়ে আসেন। সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে প্রবাসীরা সাহায্য পাঠাতে থাকেন।


বদরুলের বড়ভাই শিক্ষক মিলাদ হোসেন জানান, সবার সহযোগিতা না পেলে আমার পরিবার এত টাকা সংকুলান করতে পারত না। সবার সহযোগিতায় আমার ভাই বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে। কিডনি প্রতিস্থাপনের পূর্বপ্রস্তুতি চলছে।

বাঁচার আশা দেখছেন বড়লেখার প্রবাসী যুবক বদরুল

কিডনি প্রতিস্থাপনে ২৫ লাখ টাকা সংগ্রহ
 আব্দুর রব, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) 
০১ জুলাই ২০২০, ০৪:১২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বড়লেখা উপজেলার প্রবাসীফেরত যুবক বদরুল ইসলাম (৩২)। দুটি কিডনি অকেজো হয়ে যাওয়ায় অর্থাভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে না পেরে তিনি মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন। 


অবশেষে তার কিডনি প্রতিস্থাপনে গঠিত তহবিলে মাত্র ২ সপ্তাহে ২৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে শিক্ষা ও সেবা ফাউন্ডেশন কাঁঠালতলী। 


এ তথ্য জানিয়েছেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রধান শিক্ষক সেলিম আহমদ। বদরুল বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 


মানুষের সহায়তায় তিনি বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন। আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই কিডনি প্রতিস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।


জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর (কাঁঠালতলী) ইউনিয়নের বাসিন্দা বদরুল ইসলাম কয়েক বছর ধরে দুবাই প্রবাসী। 

ছয় মাস আগে হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে তিনি সেখানকার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান তার দুটি কিডনিই অকেজো। 

এ অবস্থায় বদরুল দেশে ফিরে ডায়ালাইসিসসহ অন্য চিকিৎসা করতে থাকেন। একসময় চিকিৎসকরা জানান, দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। 


বদরুলের ছোটভাই ছয়ফুল ইসলাম নিজের একটি কিডনি বড়ভাই বদরুলকে দিতে প্রস্তুত হন। 


কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপনে এককালীন ২৫ লাখ টাকা পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা কোনো অবস্থায় সম্ভব হচ্ছিল না।


তা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়েও বদরুলের পরিবারের বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়েছে, যা জমি বিক্রি করে জোগাড় করা হয়েছিল। 


উপায়ন্তর না দেখে বদরুলের বড়ভাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলাদ হোসেন স্থানীয় শিক্ষা ও সেবা ফাউন্ডেশনের কাছে সাহায্যের আবেদন করেন। 


শিক্ষা ও সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষেও এককালীন এত টাকা দেয়া বেশ কষ্টকর ছিল। তাই মিলাদ হোসেনের পরিবারের অনুমতি সাপেক্ষে ফাউন্ডেশনের পরিচালক কলাজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছয়ফুল হক সাহায্য চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন। 


বিষয়টি স্থানীয় অনেক প্রবাসীর নজরে এলে তারাও প্রচারণায় যুক্ত হন। এর পর সবার পরামর্শে সাহায্যের আবেদন চেয়ে বদরুল ইসলামের বড়ভাই শিক্ষক মিলাদ হোসেনের একটি ভিডিওবার্তা পোস্ট করেন। 


এর পর থেকেই দেশে-বিদেশে থাকা অনেকেই এগিয়ে আসেন। সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে প্রবাসীরা সাহায্য পাঠাতে থাকেন। 


বদরুলের বড়ভাই শিক্ষক মিলাদ হোসেন জানান, সবার সহযোগিতা না পেলে আমার পরিবার এত টাকা সংকুলান করতে পারত না। সবার সহযোগিতায় আমার ভাই বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে। কিডনি প্রতিস্থাপনের পূর্বপ্রস্তুতি চলছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন