প্রাণভিক্ষা চেয়েও শেষ রক্ষা হয়নি ওয়ারিছ আলীর

  বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি ০১ জুলাই ২০২০, ২২:৫৫:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

সিলেটের বিশ্বনাথে হামলার সময় তরুণী মেয়ের সামনে প্রাণভিক্ষা চেয়েও প্রতিপক্ষের কাছ থেকে শেষ রক্ষা পাননি এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি ওয়ারিছ আলী (৬০)।

তিনি উপজেলার অলংকারি ইউনিয়নের মনুকুপা গ্রামের বাসিন্দা। নিজের চোখের সামনে পিতাকে পিটিয়ে হত্যার এক হৃদয়বিদারক ঘটনার বর্ণনা দেন তার মেয়ে সীমা বেগম (২০)।

তিনি পিতা হত্যা মামলার সাক্ষীও বলে জানান। কিন্তু এই মামলার সাক্ষী হওয়ার অপরাধে আসামি পক্ষ থেকে প্রাণনাশ আর ইজ্জত লুটের হুমকিতে বাড়ি ছাড়া রয়েছেন।

বুধবার বিকালে তার বাড়িতে গেলে সীমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, গত ২৩ জুন ঘটনার দিন বড় বোন মমতা বেগম (৩০)-এর স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য তিনি নিজ বাড়ি থেকে বের হন। তখন তাদের সঙ্গে ছিলেন চাচাতো ভাই রাসেল মিয়া (১৮)। হঠাৎ করে তারা রাস্তায় দেখতে পান তার পিতা ওয়ারিছ আলীকে লোহার রড আর পাইপ দিয়ে পেটাচ্ছে প্রতিপক্ষ সামছু মিয়া, স্থানীয় মেম্বার ফজলু মিয়াসহ ৭-৮ জন লোক।

এ সময় তারা পিতাকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে যান। অনেক ধরাধরি করেও প্রতিপক্ষকে আটকাতে পারেননি। অবশেষে প্রতিপক্ষের মার খেয়ে মেয়েদের সামনে প্রাণভিক্ষা চান ওয়ারিছ আলী। কিন্তু খুনিরা তার কথা না মেনেই মারপিট করতে থাকে। পরে তাকে আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু বলে ঘোষণা দেন।

পরদিন স্বামী হত্যায় বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন ওয়ারিছ আলীর স্ত্রী নুরুন নেছা (৫০)। আর ওই মামলায় গ্রামের লোকজন ছাড়াও সাক্ষী হন মেয়ে সীমা বেগম ও ভাতিজা রাসেল মিয়া। পিতা হত্যা মামলার সাক্ষী হওয়ায় আসামি পক্ষের লোক সাদ মিয়া, সমছু মিয়া, ফারুক মিয়া ও লয়লুছ মিয়াসহ কয়েকজন তাদের ঘরে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ প্রাণনাশ ও মেয়ের ইজ্জত লুটের হুমকি দিয়ে আসছে।

ফলে মেয়ে সীমা বেগম প্রাণের ভয়ে অন্যত্র গিয়ে রাত যাপন করেন। ওই মেয়ে পিতা হত্যার বিচার ও প্রশাসনের কাছে পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন। নিহত ওয়ারিছ আলী একই গ্রামের নুরুল ইসলাম (৪৫) পক্ষের লোক। দীর্ঘদিন ধরে নুরুল ইসলাম আর সমছু মিয়ার মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে ওয়ারিছ আলীর ওপর ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

এ হামলার পর উভয় পক্ষ বড় ধরনের সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এতে প্রতিপক্ষ সমছু মিয়া পক্ষের মখলিছুর রহমান (৬৫) নামের আরেকজন নিহত হন। এ ঘটনায়ও মখলিছ মিয়ার পুত্র আকরাম হোসেন (২৮) বাদী হয়ে সামছু মিয়ার পক্ষের লোকজনকে আসামি করে থানায় অপর আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন।

তাই গ্রামের অধিকাংশ পুরুষই রয়েছেন পলাতক। কিন্তু মাঝে মধ্যে সমছু মিয়ার পক্ষের লোকজন বাড়িতে গিয়ে ওয়ারিছ আলীর মেয়েসহ পরিবারের লোকজনকে হুমকি দিয়ে চলে যান বলে এ অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি তদন্ত রমা প্রসাদ চক্রবর্তী বলেন, এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত