কিশোরগঞ্জের জঙ্গলে পড়ে থাকা রক্তাক্ত নারী ঈশ্বরগঞ্জের ফরিদা

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ০২ জুলাই ২০২০, ২৩:১৫:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জের জঙ্গলে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার সেই নারীর পরিচয় মিলেছে। তিনি পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়নের বোয়ালাপাড়া গ্রামের লিটন মিয়ার স্ত্রী ফরিদা খাতুন।

তার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছেলে এবং উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

সোমবার সকালে তিনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন এবং মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জের জঙ্গল থেকে গলাকাটা অবস্থায় জীবিত উদ্ধারের পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর অজ্ঞাত পরিচয়ের নারী হিসেবে মাওলানা আযহার আলী আনোয়ার শাহ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক দলের মাধ্যমে তাকে কিশোরগঞ্জের পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশের বিভিন্ন থানায় পাঠানো বার্তা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিসহ পোস্টের সূত্র ধরে স্বামী লিটন মিয়া খোঁজ নিলে পুলিশ ও পিবিআই ৩০ জুন তাকে কিশোরগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে। সেখানে নিহত ওই নারী তার স্ত্রী ফরিদা খাতুন বলে তিনি শনাক্ত করেন। বুধবার রাতে তিনি বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার একটি রক্তমাখা ছুরির সূত্র ধরে এবং তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার করে ঘাতকদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ছায়া তদন্তে নেমেছে পিবিআই।

তাদের ধারণা পাশবিক নির্যাতন শেষে অপকর্ম আড়াল করতে দুর্বৃত্তরা তাকে এমন নৃশংসভাবে হত্যার পথ বেছে নিয়েছে। আর এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য ঢাকায় সিআইডিতে আলামত (ব্যবহৃত কাপড়-চোপড়) পাঠিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান জানান, মঙ্গলবার ৩০ জুন সকালে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের লক্ষ্মীগঞ্জ গ্রামের একটি বাঁশঝাড় থেকে ওই নারীকে গলাকাটা অবস্থায় জীবিত বাঁচার আকুতি জানাতে দেখে লোকজন পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এনে ভর্তি করে। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।

যুগান্তরের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি জানান, এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার বিকালে ফরিদা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার এইচএসসি পড়ুয়া মেয়ে মারুফা আক্তার ইভা এবং দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে মো. আকাইব বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়ে মূর্ছা যাচ্ছিল।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, খুব শিগগিরই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত