করোনা সংকট: ঢাবি শিক্ষার্থী এখন সবজি চাষী
jugantor
করোনা সংকট: ঢাবি শিক্ষার্থী এখন সবজি চাষী

  শেরপুর প্রতিনিধি   

০৪ জুলাই ২০২০, ১৮:৩২:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী মো. রাসেল মিয়া। দেশের করোনা সংকটময় সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পর তার গ্রামের বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় ঘেঁষা শমেশ্চুরা আসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়িয়ে কোনোরকমে পড়াশোনার খরচ জোগানোর পাশাপাশি গ্রামের বাড়িতে তার বেকার বাবা-মা ও ভাই-বোনসহ ৫ সদস্যের পরিবারকে সামন্য কিছু সহযোগিতা করে আসছিলেন রাসেল। কিন্তু করোনা সংকট ও লকডাউনে পড়ে জীবিকার তাগিদে পিঠ যখন একেবারে দেয়ালে ঠেকে যায় তখন ঠিক করলেন কিছু একটা করার।

নিজেদের কোনো জমি নেই। থাকেন সরকারি খাস জমিতে। তাই পাহাড়ের পতিত খাস জমিতে নিজেই কোদাল হাতে জমি তৈরি করে শুরু করেন সবজি চাষ।

সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি চলে তার জমি প্রস্তুতকরণের কাজ। দিনকে দিন চলতে থাকে তার নিরলস পরিশ্রম। রোপণ করেন বরবটি, করলা, কাকরোল, কুমড়া আর ঝিঙার বীজ। বর্তমানে তার সবজি বাগান থেকে বরবটি, কাকরোল ও করলা বিক্রি শুরু করেছেন। কুমড়া ও জিঙ্গা ফলবে কয়েকদিনের মধ্যেই।

প্রতিদিনি রাসেল ভোরবেলা এসে তার বাগানের পরিচর্যার পাশাপাশি পরিপক্ব সবজি তুলে পার্শ্ববর্তী হলদিগ্রাম চৌরাস্তা পাইকারী বাজারে বিক্রি করে থাকেন। ইতিমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার টাকার সবজি বিক্রি হয়েছে। আশা করছেন বাগান থেকে আরও প্রায় ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করতে পারবেন। এ বাগান করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৭ হাজার টাকা।

রাসেল মিয়া বলেন, সবজি বিক্রি করে আপাতত কোনোরকমে চলার ব্যবস্থা হলেও ভবিষ্যতে একটি ঠিকানার খুবই প্রয়োজন। পাহাড়ে রয়েছে অনেক পতিত ও অনাবাদি খাস জমি। স্থানীয় প্রশাসন যদি এ সব জমি থেকে এক টুকরো জমি বন্দোবস্ত করে আমার পরিবারের জন্য সামান্য একটু মাথা গোঁজার ঠাই করে দিত তবে আমাদের কষ্ট অনেকটা কমে আসত।

করোনা সংকট: ঢাবি শিক্ষার্থী এখন সবজি চাষী

 শেরপুর প্রতিনিধি  
০৪ জুলাই ২০২০, ০৬:৩২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী মো. রাসেল মিয়া। দেশের করোনা সংকটময় সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পর তার গ্রামের বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় ঘেঁষা শমেশ্চুরা আসেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়িয়ে কোনোরকমে পড়াশোনার খরচ জোগানোর পাশাপাশি গ্রামের বাড়িতে তার বেকার বাবা-মা ও ভাই-বোনসহ ৫ সদস্যের পরিবারকে সামন্য কিছু সহযোগিতা করে আসছিলেন রাসেল। কিন্তু করোনা সংকট ও লকডাউনে পড়ে জীবিকার তাগিদে পিঠ যখন একেবারে দেয়ালে ঠেকে যায় তখন ঠিক করলেন কিছু একটা করার। 

নিজেদের কোনো জমি নেই। থাকেন সরকারি খাস জমিতে। তাই পাহাড়ের পতিত খাস জমিতে নিজেই কোদাল হাতে জমি তৈরি করে শুরু করেন সবজি চাষ।

সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি চলে তার জমি প্রস্তুতকরণের কাজ। দিনকে দিন চলতে থাকে তার নিরলস পরিশ্রম। রোপণ করেন বরবটি, করলা, কাকরোল, কুমড়া আর ঝিঙার বীজ। বর্তমানে তার সবজি বাগান থেকে বরবটি, কাকরোল ও করলা বিক্রি শুরু করেছেন। কুমড়া ও জিঙ্গা ফলবে কয়েকদিনের মধ্যেই। 

প্রতিদিনি রাসেল ভোরবেলা এসে তার বাগানের পরিচর্যার পাশাপাশি পরিপক্ব সবজি তুলে পার্শ্ববর্তী হলদিগ্রাম চৌরাস্তা পাইকারী বাজারে বিক্রি করে থাকেন। ইতিমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার টাকার সবজি বিক্রি হয়েছে। আশা করছেন বাগান থেকে আরও প্রায় ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করতে পারবেন। এ বাগান করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৭ হাজার টাকা। 

রাসেল মিয়া বলেন, সবজি বিক্রি করে আপাতত কোনোরকমে চলার ব্যবস্থা হলেও ভবিষ্যতে একটি ঠিকানার খুবই প্রয়োজন। পাহাড়ে রয়েছে অনেক পতিত ও অনাবাদি খাস জমি। স্থানীয় প্রশাসন যদি এ সব জমি থেকে এক টুকরো জমি বন্দোবস্ত করে আমার পরিবারের জন্য সামান্য একটু মাথা গোঁজার ঠাই করে দিত তবে আমাদের কষ্ট অনেকটা কমে আসত। 
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন