মধুমতি নদীতে ভরা মৌসুমে মাছের আকাল
jugantor
মধুমতি নদীতে ভরা মৌসুমে মাছের আকাল

  মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি  

০৮ জুলাই ২০২০, ১১:০৪:১৮  |  অনলাইন সংস্করণ

মধুমতি নদীতে ভরা মৌসুমে মাছের আকাল
ছবি: যুগান্তর

ভরা মৌসুমে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মধুমতি নদীতে চলছে মাছের আকাল। নদী থেকে জাল ও নৌকা নিয়ে শূন্যহাতে ফিরতে হচ্ছে জেলেদের। কালেভদ্রে কিছু মাছ জালে আটকালেও দিনশেষে রোজগার পরিশ্রমের তুলনায় অনেক কম।

এদিকে ভরা মৌসুমেও মধুমতি নদীতে মিলছে না ইলিশ। ইলিশসহ নদীর অন্যসব মাছের আকালে কর্মহীন হয়ে পড়েছে উপজেলার পাঁচ শতাধিক জেলে। একদিকে করোনা, অন্যদিকে আয় না থাকায় প্রভাব পড়ছে পরিবারে।

কর্মহীন এসব জেলের অনেকে দিনমজুরের কাজ করলেও অধিকাংশ পরিবারের সংসার চলছে ঋণের টাকায়। আবার অনেক পরিবারের দিন চলছে অনেক কষ্টে।

উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় নিবন্ধিত এক হাজার ৫৮৩ জন জেলে রয়েছে। যার মধ্যে ৫০০ জেলে মধুমতি নদী থেকে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।

তা ছাড়া ৩১ মে জাটকা ইলিশ ধরা নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা শেষ হয়েছে। শুরু হয়েছে ইলিশ মাছ ধরার ভরা মৌসুম।

এ ভরা মৌসুমেও ইলিশ না পেয়ে জেলেদের চরম দুর্দিনে দিন কাটাতে হচ্ছে। সরকারিভাব কোনো সহায়তা না পাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে তাদের জীবন-জীবিকাও।

সরেজমিন দেখা যায়, জেলেদের কেউ কেউ দিনমজুরের কাজ করলেও বেশিরভাগ কর্মহীন হয়ে বাড়িতে অলস সময় কাটাচ্ছেন। নদীর ওপর নির্ভরশীল এসব পরিবার জাল ও নৌকা নিয়ে নদীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছুটে কিছু মাছ শিকার করলেও তা দিয়ে চাল কেনার মতো টাকা জুটছে না।

বাধ্য হয়ে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। মাছ না থাকায় নদী পাড়ে নৌকা ভিড়িয়ে অনেক জেলে জাল বুনে সময় পার করছেন।  

দেব্রত কুমার বিশ্বাস নামে এক জেলে বলেন, ৮-১০ জন মিলে নদীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলে যে মাছ পাই, তাতে সংসার চলে না। প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস হলো এ অবস্থা।

বিপ্লব কুমার মালে, জামাল শেখ নামে মধুমতি নদীর পাড়ের কয়েকজন জেলে বলেন, জালে মাছ ধরা পড়ে না, কিন্তু সংসার চালাতে হবে। আমাদের কোনো সঞ্চয় নেই।  

তাই এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছি। অনেকে পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিনমজুরের কাজ করছেন। কিন্তু পৈতৃক পেশা ছেড়ে অন্য পেশা ভালো লাগে না।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম আশিকুর রহমান বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের জেলেদের জন্য কিছুটা সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু আমাদের এখানে ইলিশের জোনের মধ্যে না পড়ায় তারা সরকারিভাবে কোনো সহায়তা পাচ্ছে না। এসব জেলে যদি মাছ চাষে আগ্রহী হয়, তবে তাদের সহযোগিতা করা হবে।

মধুমতি নদীতে ভরা মৌসুমে মাছের আকাল

 মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি 
০৮ জুলাই ২০২০, ১১:০৪ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মধুমতি নদীতে ভরা মৌসুমে মাছের আকাল
ছবি: যুগান্তর

ভরা মৌসুমে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মধুমতি নদীতে চলছে মাছের আকাল। নদী থেকে জাল ও নৌকা নিয়ে শূন্যহাতে ফিরতে হচ্ছে জেলেদের। কালেভদ্রে কিছু মাছ জালে আটকালেও দিনশেষে রোজগার পরিশ্রমের তুলনায় অনেক কম।

এদিকে ভরা মৌসুমেও মধুমতি নদীতে মিলছে না ইলিশ। ইলিশসহ নদীর অন্যসব মাছের আকালে কর্মহীন হয়ে পড়েছে উপজেলার পাঁচ শতাধিক জেলে। একদিকে করোনা, অন্যদিকে আয় না থাকায় প্রভাব পড়ছে পরিবারে।

কর্মহীন এসব জেলের অনেকে দিনমজুরের কাজ করলেও অধিকাংশ পরিবারের সংসার চলছে ঋণের টাকায়। আবার অনেক পরিবারের দিন চলছে অনেক কষ্টে।

উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় নিবন্ধিত এক হাজার ৫৮৩ জন জেলে রয়েছে। যার মধ্যে ৫০০ জেলে মধুমতি নদী থেকে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।

তা ছাড়া ৩১ মে জাটকা ইলিশ ধরা নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা শেষ হয়েছে। শুরু হয়েছে ইলিশ মাছ ধরার ভরা মৌসুম।

এ ভরা মৌসুমেও ইলিশ না পেয়ে জেলেদের চরম দুর্দিনে দিন কাটাতে হচ্ছে। সরকারিভাব কোনো সহায়তা না পাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে তাদের জীবন-জীবিকাও।

সরেজমিন দেখা যায়, জেলেদের কেউ কেউ দিনমজুরের কাজ করলেও বেশিরভাগ কর্মহীন হয়ে বাড়িতে অলস সময় কাটাচ্ছেন। নদীর ওপর নির্ভরশীল এসব পরিবার জাল ও নৌকা নিয়ে নদীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছুটে কিছু মাছ শিকার করলেও তা দিয়ে চাল কেনার মতো টাকা জুটছে না।

বাধ্য হয়ে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। মাছ না থাকায় নদী পাড়ে নৌকা ভিড়িয়ে অনেক জেলে জাল বুনে সময় পার করছেন।

দেব্রত কুমার বিশ্বাস নামে এক জেলে বলেন, ৮-১০ জন মিলে নদীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলে যে মাছ পাই, তাতে সংসার চলে না। প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস হলো এ অবস্থা।

বিপ্লব কুমার মালে, জামাল শেখ নামে মধুমতি নদীর পাড়ের কয়েকজন জেলে বলেন, জালে মাছ ধরা পড়ে না, কিন্তু সংসার চালাতে হবে। আমাদের কোনো সঞ্চয় নেই।

তাই এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছি। অনেকে পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিনমজুরের কাজ করছেন। কিন্তু পৈতৃক পেশা ছেড়ে অন্য পেশা ভালো লাগে না।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম আশিকুর রহমান বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের জেলেদের জন্য কিছুটা সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু আমাদের এখানে ইলিশের জোনের মধ্যে না পড়ায় তারা সরকারিভাবে কোনো সহায়তা পাচ্ছে না। এসব জেলে যদি মাছ চাষে আগ্রহী হয়, তবে তাদের সহযোগিতা করা হবে।