‘শারীরিক শক্তি হারাচ্ছি, জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠছে’

  মো. জোবদুল হক, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি ০৮ জুলাই ২০২০, ১১:২৫:২১ | অনলাইন সংস্করণ

মোশারফ হোসেন কালু। ছবি: যুগান্তর

‘দীর্ঘ ২২ বছর ধরে অজ্ঞাত রোগে ভুগছি। চিকিৎসক বলেছেন, এ রোগটির নাম নিউরো ফাইব্রো মেটাসিস। টাকার অভাবে ভালো চিকিৎসা করাতে পারছি না। দিন দিন অসুখটি বৃদ্ধি পেয়ে জটের মতো নিচে ঝুলতে থাকে। ভীষণ কষ্ট হয়। শারীরিক শক্তি হারাচ্ছি। জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।’

বুধবার কথাগুলো বললেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের পারচৌকা রাঘববাটি গ্রামের মহসিনের ছেলে মোশারফ হোসেন কালু।

তিনি আরও বলেন, আমার শুধু বসতভিটার মাত্র ৯ কাঠা জমি আছে, যা আমার মা অতিকষ্টে কিনেছিলেন। আমার সংসার চলে অতিকষ্টে। চার মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছি। তারা গার্মেন্টে চাকরি করে। ছেলেটি দিনমজুর। তাদের সহযোগিতায় কোনো রকমে বেঁচে আছি।

তিনি জানান, দীর্ঘ ২২ বছর আগে প্রথমে শরীরের ডান হাতের কনুইয়ে দানা আকারে ফোসকা উঠেছিল। আস্তে আস্তে বড় হয়ে ওঠে। অভাবের তাড়নায় ভালো চিকিৎসা করাতে পারিনি। গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করিয়েছি। কোনো ফল হয়নি। কয়েক বছর আগে চিকিৎসক আনোয়ারুল ইসলামের কাছে চিকিৎসা করিয়েছিলাম।

তিনি অপারেশনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ হতো। তাও আবার স্থায়ী নয় বলে তিনি জানিয়েছিলেন। বর্তমানে অবস্থা খুবই খারাপ। হাতের মাংসগুলো নিচে ঝুলে গেছে। পোশাক পরতে পারি না। আলাদা করে পোশাক করতে হয়। বাইরে যেতে পারি না। বাড়িতে অসহায় জীবনযাপন করছি। এ পর্যন্ত কারও কোনো সহযোগিতা পাইনি।

এমনকি প্রতিবন্ধী কার্ডও হয়নি। আগে শরীরে কিছু স্থানে অসুখটি দেখা দিয়েছিল। বর্তমানে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে।

নিজের চিকিৎসার জন্য সরকার ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছি।

মোশারফ হোসেনের বোন নাজিরা জানান, ছোট থেকে আমার ভাইকে এ অসুখে ভুগতে দেখে আসছি। তিনি খুব কষ্টে আছেন।

বিধবা বোন সোনা বেগম বলেন, ভাইয়ের মতো আমিও এ রোগে আক্রান্ত হয়েছি। আমার শরীরের মাংসপিণ্ড দিন দিন বটগাছের জড়ের মতো নিচের দিকে ঝুলে থাকে। তবে চিকিৎসা হলে সুস্থ হব বলে বিশ্বাস করি। তবে অভাবের তাড়নায় চিকিৎসাই করাতে পারি না।

এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস বলেন, ঘটনাটি আমাদের জানা ছিল না। জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করে তাকে চিকিৎসা কল্যাণ ফাইন্ডেশন থেকে সাহায্য করার ব্যবস্থা করব। তার জন্য প্রতিবন্ধী কার্ড ও ভাতার ব্যবস্থা করব।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, এ রোগটির নাম হলো নিউরো ফাইব্রো মেটাসিস। এটি একটি অজ্ঞাত রোগ বলা যায়। এটির কোনো চিকিৎসা নেই। তবে নতুন অবস্থায় হলে কিছুটা চিকিৎসা করা যেত। অর্থাৎ তখন অপারেশন করা যেত।

বর্তমানে অপারেশন করলে রোগী মারা যেতে পারে। তাই এখন আর ওই পথে না যাওয়াই ভালো।

তিনি আরও জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এটিই প্রথম নিউরো ফাইব্রো মেটাসিস রোগী।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত