করোনায় বিপর্যয়ের মুখে শ্রীমঙ্গলের পর্যটনশিল্প

  সৈয়দ সালাউদ্দিন, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ০৮ জুলাই ২০২০, ১১:২৫:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

করোনা পরিস্থিতির কারণে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা শ্রীমঙ্গল। দীর্ঘ প্রায় চার মাস থেকে বন্ধ রয়েছে উপজেলায় গড়ে ওঠা শতাধিক পর্যটন কেন্দ্র।


করোনার ভয়ে পর্যটক না আসায় পর্যটননির্ভর ক্ষুদ্র ও বৃহৎ ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে।


প্রতিদিন বড় অঙ্কের টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে রিসোর্ট ও হোটেল মালিকদের। এতে করে স্টাফদের বেতনসহ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছেন এখানকার ছোট-বড় হোটেল-মোটেলের মালিকরা।


আবার কবে চালু হবে ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে এসব পর্যটনকেন্দ্রে, কেউ নির্দিষ্ট করে তা বলতে পারছেন না এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রহর গুনছেন তারা।


দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলে পর্যটনকেন্দ্রগুলো পর্যটকশূন্য হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে।


উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, চা গবেষণা কেন্দ্র (বিটিআরআই), দৃষ্টিনন্দন চা বাগান, বাইক্কা বিল, বধ্যভূমি-৭১, নিলকণ্ঠ সাত রঙের চা কেবিন, মনিপুরিপাড়া, হিল ভিউ রেস্ট হাউস, এসকেডি আমার বাড়ি, বালশিরা রিসোর্ট, শান্তি বাড়ি, টি হ্যাভেন, নভেম ইকো রিসোর্ট, টি রিসোর্ট অ্যান্ড মিউজিয়াম, মহসিন প্লাজা, লেমন গার্ডেন, গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফসহ সব পর্যটন কেন্দ্রের একই চিত্র।


বছরের এই সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫-২০ হাজার দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটক বেড়াতে আসতেন এ জেলায়। আর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রতিদিন এ সময় কয়েক হাজার প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত থাকত।




কিন্তু এখন অলস সময় কাটাচ্ছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। চারদিকে পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছে। ফলে সরকারও কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।


অন্যদিকে পর্যটননির্ভর জীবিকা নির্বাহকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ শিল্পের ওপর গড়ে ওঠা রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ও নেমেছে ধস। ফলে পর্যটনসহ এসব খাতে জড়িত সবাই সরকারি প্রণোদনা, ব্যাংক ঋণের সুদ ও পল্লী বিদ্যুতের মিটারের ডিমান্ড চার্জ মওকুফের দাবি জানিয়েছেন।


পর্যটনশিল্পসংশিষ্ট শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ ট্যুর গাইড কমিউনিটির সাধারণ সম্পাদক তাপস দাস জানান, তাদের সংগঠনে ৩২ পর্যটকের গাইড হিসাবে কাজ করতেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে অসহায় অবস্থায় আছেন, কোনো পর্যটক না থাকায় এ ব্যবসায় একেবারে ধস নেমে গেছে।


এদিকে চারশতাধিক স্টাফ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পাঁচতারকা মানের হোটেল গ্রান্ড সুলতানের কর্মকর্তারা।




এ ব্যাপারে গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক আরমান খান জানান, তাদের রিসোর্ট প্রায় চার মাস থেকে বন্ধ রয়েছে। যে কারণে আগামী দিনগুলোতে তারা কিভাবে টিকে থাকবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন।


শ্রীমঙ্গল লেমন গার্ডেন রিসোর্ট অ্যান্ড স্পার চেয়ারম্যান সেলিম মিয়া জানান, করোনা পরিস্থিতিতে কর্মচারীরে বেতনসহ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পর্যটনশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে তিনি এ খাতের সবাইকে সরকারি প্রণোদনা প্রদান, ব্যাংক ঋণের সুদ ও পল্লী বিদ্যুতের মিটারের ডিমান্ড চার্জ মওকুফের দাবি জানান।


এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, গত ২৮ জুন পর্যটন কর্পোরেশন এবং বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিং হয়েছে।


এ ক্ষেত্রে শ্রীমঙ্গলের পর্যটনসংশিষ্টরা যাতে প্রণোদনা পান আমরা চেষ্টা করছি। প্রণোদনা প্রদানে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটনকেন্দ্রগুলো চালু করতে সরকারি নির্দেশনা আসবে বলে তিনি জানান।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত