হত্যা ঠেকাতে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল সীমান্তে সক্রিয় বিজিবি
jugantor
হত্যা ঠেকাতে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল সীমান্তে সক্রিয় বিজিবি

  আনু মোস্তফা, রাজশাহী ব্যুরো  

০৯ জুলাই ২০২০, ১৫:০৮:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

হত্যা ঠেকাতে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল সীমান্তে সক্রিয় বিজিবি

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বৈরী ভূমিকার কারণে সীমান্ত এলাকায় চলাচলে বাংলাদেশের নাগরিকদের আরও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সীমান্ত অতিক্রম করে গরু বা গবাদিপশু আনতে ভারতীয় সীমানায় না যাওয়া এবং অন্য যে কোনো কারণে সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যেতে ও চলাচল না করতে সীমান্তে বসবাসকারী মানুষকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বিজিবির পক্ষ থেকে।

বিশেষ করে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্তের বিজিবির ব্যাটালিয়ানকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, দেশের অন্য যেসব সীমান্তে বিএসএফের গুলি ও হামলায় বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে; সেসব সীমান্তেও বিজিবি ভারতীয় নাগরিকদের অনুপ্রবেশ ঠেকানো ও বাংলাদেশি নাগরিকদের সীমান্ত অতিক্রমে কঠোরতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে সাত বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল সীমান্তের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও ও নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

এদিকে গত ২ জুলাই রাজশাহীর ইউসুফপুর সীমান্তে দুই ভারতীয় নাগরিক নয়ন শেখ ও সহিদুল শেখ মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে পড়লে বিজিবি তাদের আটক করেন।

পরে বিএসএফ সীমান্তের জিরো লাইনের কাছাকাছি জমিতে কৃষিকাজ করার সময় তিন বাংলাদেশি নাগরিককে ধরে নিয়ে যায়। পরের দিন পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পরস্পরের নাগরিকদের ফেরত দেয় বিএসএফ-বিজিবি।

অন্যদিকে এ ঘটনার পর থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন সীমান্তে বসবাসকারী নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে বিজিবি।

গত ৬ জুলাই রাজশাহীর ইউসুফপুর, খরচাকা ও সাহেবনগরসহ ৬টি সীমান্ত এলাকার জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্কুলশিক্ষকসহ সাধারণ মানুষকে নিয়ে সচেতনতামূলক একাধিক সভা করেছেন বিজিবির কোম্পানি ও ফাঁড়ি কমান্ডাররা। গরু ব্যবসায়ী, রাখাল ও মাদক ব্যবসায়ীরা যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে সে ব্যাপারে স্থানীয়দের সহযোগিতা করতেও বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

এদিকে বিএসএফের গুলি ও হামলায় প্রাণহানিতে শীর্ষে থাকা সর্ব পশ্চিমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্তে মঙ্গলবার একাধিক সভা করেছে বিজিবি। একই ধরণের সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন সীমান্তেও।

স্থানীয় বিজিবি সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়, সীমান্তে অনুপ্রবেশের ফলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হচ্ছে না। ফলে স্থানীয় লোকজনকে এ ব্যাপারে সতর্ক ও পরামর্শ দিয়ে তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকার এ বছর দেশের কোথাও গবাদিপশুর খাটাল অনুমোদন করেনি। এর কিছুটা সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর উত্তর পশ্চিম সীমান্তে হত্যাকাণ্ডও কম হচ্ছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহীস্থ-১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বিজিবি সবসময় সীমান্তে বসবাসকারী মানুষকে চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন ও কোনো কারণেই সীমান্ত অতিক্রম না করার জন্য নির্দেশ ও পরামর্শ দিয়ে আসছে।

তবে ঈদ উপলক্ষে অতিমুনাফার আশায় যাতে কেউ গরু আনতে সীমান্ত অতিক্রম না করেন, অথবা করতে না পারেন, বিজিবি কঠোরভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করছেন। পাশাপাশি সীমান্তের লোকজনকে বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন করছেন। আর এসব সভা করে স্থানীয়দের কাছ থেকে সহযোগিতা চেয়েছে বিজিবি।

হত্যা ঠেকাতে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল সীমান্তে সক্রিয় বিজিবি

 আনু মোস্তফা, রাজশাহী ব্যুরো 
০৯ জুলাই ২০২০, ০৩:০৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
হত্যা ঠেকাতে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল সীমান্তে সক্রিয় বিজিবি
ছবি: যুগান্তর

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বৈরী ভূমিকার কারণে সীমান্ত এলাকায় চলাচলে বাংলাদেশের নাগরিকদের আরও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সীমান্ত অতিক্রম করে গরু বা গবাদিপশু আনতে ভারতীয় সীমানায়  না যাওয়া এবং অন্য যে কোনো কারণে সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যেতে ও চলাচল না করতে সীমান্তে বসবাসকারী মানুষকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বিজিবির পক্ষ থেকে।

বিশেষ করে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্তের বিজিবির ব্যাটালিয়ানকে  এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, দেশের অন্য যেসব সীমান্তে বিএসএফের গুলি ও হামলায় বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে; সেসব সীমান্তেও বিজিবি ভারতীয় নাগরিকদের অনুপ্রবেশ ঠেকানো ও বাংলাদেশি নাগরিকদের সীমান্ত অতিক্রমে কঠোরতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে সাত বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল সীমান্তের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও ও নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

এদিকে গত ২ জুলাই রাজশাহীর ইউসুফপুর সীমান্তে দুই ভারতীয় নাগরিক নয়ন শেখ ও সহিদুল শেখ মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে পড়লে বিজিবি তাদের আটক করেন।

পরে বিএসএফ সীমান্তের জিরো লাইনের কাছাকাছি জমিতে কৃষিকাজ করার সময় তিন বাংলাদেশি নাগরিককে ধরে নিয়ে যায়। পরের দিন পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পরস্পরের নাগরিকদের ফেরত দেয় বিএসএফ-বিজিবি।

অন্যদিকে এ ঘটনার পর থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন সীমান্তে বসবাসকারী নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে বিজিবি।

গত ৬ জুলাই রাজশাহীর ইউসুফপুর, খরচাকা ও সাহেবনগরসহ ৬টি সীমান্ত এলাকার জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্কুলশিক্ষকসহ সাধারণ মানুষকে নিয়ে সচেতনতামূলক একাধিক সভা করেছেন বিজিবির কোম্পানি ও ফাঁড়ি কমান্ডাররা। গরু ব্যবসায়ী, রাখাল ও মাদক ব্যবসায়ীরা যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে সে ব্যাপারে স্থানীয়দের সহযোগিতা করতেও বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

এদিকে বিএসএফের গুলি ও হামলায় প্রাণহানিতে শীর্ষে থাকা সর্ব পশ্চিমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্তে মঙ্গলবার একাধিক সভা করেছে বিজিবি। একই ধরণের সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন সীমান্তেও।

স্থানীয় বিজিবি সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়, সীমান্তে অনুপ্রবেশের ফলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হচ্ছে না। ফলে স্থানীয় লোকজনকে এ ব্যাপারে সতর্ক ও পরামর্শ দিয়ে তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকার এ বছর দেশের কোথাও গবাদিপশুর খাটাল অনুমোদন করেনি। এর কিছুটা সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর উত্তর পশ্চিম সীমান্তে হত্যাকাণ্ডও কম হচ্ছে।
 
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহীস্থ-১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বিজিবি সবসময় সীমান্তে বসবাসকারী মানুষকে চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন ও কোনো কারণেই সীমান্ত অতিক্রম না করার জন্য নির্দেশ ও পরামর্শ দিয়ে আসছে।

তবে ঈদ উপলক্ষে অতিমুনাফার আশায় যাতে কেউ গরু আনতে সীমান্ত অতিক্রম না করেন, অথবা করতে না পারেন, বিজিবি কঠোরভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করছেন। পাশাপাশি সীমান্তের লোকজনকে বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন করছেন। আর এসব সভা করে স্থানীয়দের কাছ থেকে সহযোগিতা চেয়েছে বিজিবি।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন