মা বকা দেয়ায় আয়শাকে হত্যা করে ছাব্বির
jugantor
মা বকা দেয়ায় আয়শাকে হত্যা করে ছাব্বির

  বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি  

০৯ জুলাই ২০২০, ২০:১৩:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

নিহত আয়শার (ইনসেটে) মা ও স্বজনদের আহাজারি

বরিশালের বানারীপাড়ায় মা হনুফা বেগমের বকুনি খেয়ে আক্রোশবসত মাদ্রাসাছাত্রী আয়শাকে পানিতে চুবিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘাতক ছাব্বির হোসেন মীর। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।

বুধবার রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বানারীপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত)জাফর আহম্মেদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ছাব্বির হোসেন মীর তার প্রতিবেশী আউয়ার দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী আয়শাকে হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ সময় ছাব্বিরের পিতা ছিদ্দিকুর রহমান মীরও জবানবন্দি দেন।

বৃহস্পতিবার সকালে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কোর্ট হাজতে পাঠানোর পাশাপাশি আয়শা হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ছাব্বির হোসেন জানায়, সে প্রায়ই তাদের ঘরে বসে মাদ্রাসাছাত্রী আয়শাকে নিয়ে টিভি দেখা ও তার সঙ্গে কথাবার্তা বলে আসছিল। কিন্তু বিষয়টি তার মা হনুফা বেগম পছন্দ করতেন না। সে আয়শার সঙ্গে কথা বলতে ও পাশাপাশি বসে টিভি দেখতে দেখলেই বকাঝকা করতেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তার (ছাব্বিরের) মা হনুফা বেগম তাকে ঘরের মধ্যে আয়শার সঙ্গে একান্তে কথা বলতে দেখে বকাঝকা করে উঠানে ধান শুকাতে চলে যান।

এ সময় ছাব্বির ক্ষিপ্ত হয়ে আয়শাকে মুখ চেপে ধরে ঘরের পিছনের খালে নিয়ে চুবিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ ঘটনা টের পেয়ে যান ছাব্বিরের পিতা ছিদ্দিকুর রহমান মীর। তিনি ছেলেকে বাঁচাতে এবং পুরো ঘটনা ধামাচাপা দিতে রশি দিয়ে আয়শার কোমরে ইট ও কাঁদা মাটি ভরা বালতি বেঁধে লাশ আউয়ার খালে ডুবিয়ে দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত)জাফর আহম্মেদ যুগান্তরকে জানান, পিতা-পুত্রের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদালতে রেকর্ড করা হয়। এ ছাড়া প্রয়োজনে তাদের কাছ থেকে আরও তথ্য জানার জন্য পরবর্তীকালে আদালতে তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হবে।

এ দিকে নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় পুলিশ উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের আউয়ার বাজার সংলগ্ন বড় খাল থেকে আয়শা খানমের কোমরে ও পায়ে ইট এবং বালতি বাঁধা লাশ বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দিয়ে উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে উক্ত মাদ্রাসাছাত্রীর পিতা দুলাল লাহেরী বাদী হয়ে ছাব্বির হোসেন মীর ও পিতা কুটিয়াল ব্যবসায়ী ছিদ্দিকুর রহমান (৪৫) ও ছোট ভাই ফাহাদ মীরের (১৫) নাম উল্লেখ ও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মা বকা দেয়ায় আয়শাকে হত্যা করে ছাব্বির

 বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি 
০৯ জুলাই ২০২০, ০৮:১৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
নিহত আয়শার (ইনসেটে) মা ও স্বজনদের আহাজারি
নিহত আয়শার (ইনসেটে) ম ও স্বজনদের আহাজারি

বরিশালের বানারীপাড়ায় মা হনুফা বেগমের বকুনি খেয়ে আক্রোশবসত মাদ্রাসাছাত্রী আয়শাকে পানিতে চুবিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘাতক ছাব্বির হোসেন মীর। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।

বুধবার রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বানারীপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত)জাফর আহম্মেদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ছাব্বির হোসেন মীর তার প্রতিবেশী আউয়ার দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী আয়শাকে হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ সময় ছাব্বিরের পিতা ছিদ্দিকুর রহমান মীরও জবানবন্দি দেন।

বৃহস্পতিবার সকালে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কোর্ট হাজতে পাঠানোর পাশাপাশি আয়শা হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ছাব্বির হোসেন জানায়, সে প্রায়ই তাদের ঘরে বসে মাদ্রাসাছাত্রী আয়শাকে নিয়ে টিভি দেখা ও তার সঙ্গে কথাবার্তা বলে আসছিল। কিন্তু বিষয়টি তার মা হনুফা বেগম পছন্দ করতেন না। সে আয়শার সঙ্গে কথা বলতে ও পাশাপাশি বসে টিভি দেখতে দেখলেই বকাঝকা করতেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তার (ছাব্বিরের) মা হনুফা বেগম তাকে ঘরের মধ্যে আয়শার সঙ্গে একান্তে কথা বলতে দেখে বকাঝকা করে উঠানে ধান শুকাতে চলে যান।

এ সময় ছাব্বির ক্ষিপ্ত হয়ে আয়শাকে মুখ চেপে ধরে ঘরের পিছনের খালে নিয়ে চুবিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ ঘটনা টের পেয়ে যান ছাব্বিরের পিতা ছিদ্দিকুর রহমান মীর। তিনি ছেলেকে বাঁচাতে এবং পুরো ঘটনা ধামাচাপা দিতে রশি দিয়ে আয়শার কোমরে ইট ও কাঁদা মাটি ভরা বালতি বেঁধে লাশ আউয়ার খালে ডুবিয়ে দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত)জাফর আহম্মেদ যুগান্তরকে জানান, পিতা-পুত্রের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদালতে রেকর্ড করা হয়। এ ছাড়া প্রয়োজনে তাদের কাছ থেকে আরও তথ্য জানার জন্য পরবর্তীকালে আদালতে তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হবে।

এ দিকে নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় পুলিশ উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের আউয়ার বাজার সংলগ্ন বড় খাল থেকে আয়শা খানমের কোমরে ও পায়ে ইট এবং বালতি বাঁধা লাশ বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দিয়ে উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে উক্ত মাদ্রাসাছাত্রীর পিতা দুলাল লাহেরী বাদী হয়ে ছাব্বির হোসেন মীর ও পিতা কুটিয়াল ব্যবসায়ী ছিদ্দিকুর রহমান (৪৫) ও ছোট ভাই ফাহাদ মীরের (১৫) নাম উল্লেখ ও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন