নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে এ কেমন নির্যাতন!

  বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি ০৯ জুলাই ২০২০, ২২:৪১:০২ | অনলাইন সংস্করণ

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় নেশার টাকা না পেয়ে শারীরিক নির্যাতন করে স্ত্রীর চুল কেটে দিয়েছে পাষণ্ড স্বামী। বুধবার উপজেলার দয়ারামপুর এলাকার শেখপাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী নির্যাতিত নারীর নাম সাবিনা বেগম। তিনি ওই গ্রামের হায়দার আলীর স্ত্রী এবং সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নাগর সৈয়দপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেন ঝিনুর মেয়ে। সাবিনা বেগম হায়দার আলীর তৃতীয় স্ত্রী বলে জানা গেছে।

নির্যাতনের শিকার সাবিনা বেগম জানান, পাঁচ বছর পূর্বে তিনি ঢাকায় গার্মেন্টসকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং হায়দার আলী একই এলাকায় রিকশা চালাতেন। সে সময় দু'জনের মধ্যে পরিচয় হয়। এরপর তারা দু'জনে বিয়ে করেন।

বিয়ের পর তারা দু'জনে ঢাকা থেকে স্বামীর বাড়ি বাগাতিপাড়ার শেখপাড়ায় আসেন। এরপর থেকেই স্বামী হায়দার আলী কাজ-কর্ম তেমন একটা করেন না। সারা দিন নেশা করে ঘুরে বেড়ান। বিয়ের পর থেকেই নেশার টাকা না পেলে স্বামী হায়দার আলী সাবিনার ওপর নির্যাতন করতেন। নির্যাতন সইতে না পেরে মাঝে মধ্যেই বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে স্বামীর হাতে তুলে দিতেন।

বুধবার সকালে আবারও বাবার বাড়ি থেকে নেশার করার জন্য ৬ হাজার টাকা এনে দিতে বলেন। কিন্তু সাবিনা বেগম তাতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সাবিনাকে তার স্বামী বেধড়ক পেটায় এবং স্ত্রীর চুল কেটে দেয়। সে সময় প্রাণরক্ষায় তিনি ছুটে গিয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে পালিয়ে থাকেন। পরে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

বৃহস্পতিবার মা সুফিয়া বেগম বাগাতিপাড়ায় এসে মেয়েকে উদ্ধার করে নাটোরের লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনের সহায়তায় তাদের বাড়ি তাড়াশে নিয়ে যান।

ইউপি সদস্য আনোয়ারের স্ত্রী জানান, সাবিনা বেগমকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়েছে। মাথার চুল কেটে দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে কালশিরা, জখম হয়েছে। তিনি সাবিনাকে তার বাড়িতে গোসল করানোর সময় সাবিনার শরীরের বিভিন্ন স্থান দেখেছেন।

খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত হায়দার আলী বলেন, নিজের স্ত্রীকে তিনি মেরেছেন। এতে কারই কি বলার আছে। তবে বাপের বাড়ি চলে যেতে না পারে সেই জন্য তিনি তার স্ত্রীর চুল কেটে দিয়েছেন। কথাগুলো বলার পরপরই তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, এ সংক্রান্ত তিনি কোনো অভিযোগ পাননি। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি খোঁজ-খবর নিবেন। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত