সোনারগাঁওয়ে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা
jugantor
সোনারগাঁওয়ে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা

  যুগান্তর রিপোর্ট, সোনারগাঁও  

১২ জুলাই ২০২০, ১৬:১০:৫৬  |  অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচন কেন্দ্রীক বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বারদীর শান্তির বাজার এলাকায় ডাকাত সর্দার হাবিবুর রহমান হাবু ও তার ছেলে আশিকের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী বারদী ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি ও ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা চালিয়েছে। 


রোববার দুপুরে শান্তির বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে পুরো শান্তিরবাজার ও এর আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আহত যুবলীগ নেতাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। 


পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শান্তিরবাজার এলাকায় একটি জমি নিয়ে ডাকাত সর্দার হাবিবুর রহমান হাবু, ফারুক মেম্বার, সানু মেম্বার, আমজাদ হোসেন ও সানাউল্লাহে সিন্ডিকেট এবং আব্দুল মতিনের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। 


এ নিয়ে শনিবার সকালে সোনারগাঁও থানায় একটি বিচার শালিস বসে। শালিসে সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনসহ ওই এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 


শালিসী বৈঠকে আব্দুল মতিনের পক্ষে সব কাগজপত্র সঠিক পায় সালিশকারীরা। পরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সরেজমিনে তদন্ত করে বিচারের রায় দেবেন বলে বৈঠকে জানানো হয়। 


রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সরেজমিনে ওই জমি পরিদর্শনে যান। ওই জমির মালিক আব্দুল মতিনের পক্ষে যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম কথা বলার কারণে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন চলে আসার পর  যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলামকে একা পেয়ে ডাকাত সর্দার হাবু ও তার ছেলে আশিক, সহযোগী শাহজালাল ও ডালিমসহ  ১০-১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র রামদা, ছোরা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও লোহার রড  দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। 


ঘটনাস্থল থেকে এলাকাবাসী মারাত্মক আহত অবস্থায় আমিনুলকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।


এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডাকাত সর্দার হাবু ওই এলাকার ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষের জমি দখল থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল হকের প্রভাবে তিনি ওই এলাকায় অপকর্ম করে বেড়ান। 


ডাকাত সর্দার হাবুর বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, চুরি, মাদক ও অস্ত্রসহ ১৯টি মামলা রয়েছে। বারদী এলাকার একাধিক সূত্র জানায়, যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম গত ইউপি নির্বাচনে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল হকের কাছে নির্বাচন করে পরাজিত হন। 


ডাকাত সর্দার হাবু বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল হকের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে এলাকায় পরিচিত। নির্বাচন কেন্দ্রীক বিরোধীতার কারণে যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলামের ওপর হামলার পরিকল্পনা আগে থেকেই নিয়েছিল ডাকাত সর্দার হাবু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী।


সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ডাকাত সর্দার হাবুকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। 

সোনারগাঁওয়ে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা

 যুগান্তর রিপোর্ট, সোনারগাঁও 
১২ জুলাই ২০২০, ০৪:১০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচন কেন্দ্রীক বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বারদীর শান্তির বাজার এলাকায় ডাকাত সর্দার হাবিবুর রহমান হাবু ও তার ছেলে আশিকের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী বারদী ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি ও ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা চালিয়েছে।


রোববার দুপুরে শান্তির বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে পুরো শান্তিরবাজার ও এর আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আহত যুবলীগ নেতাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শান্তিরবাজার এলাকায় একটি জমি নিয়ে ডাকাত সর্দার হাবিবুর রহমান হাবু, ফারুক মেম্বার, সানু মেম্বার, আমজাদ হোসেন ও সানাউল্লাহে সিন্ডিকেট এবং আব্দুল মতিনের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।


এ নিয়ে শনিবার সকালে সোনারগাঁও থানায় একটি বিচার শালিস বসে। শালিসে সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনসহ ওই এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


শালিসী বৈঠকে আব্দুল মতিনের পক্ষে সব কাগজপত্র সঠিক পায় সালিশকারীরা। পরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সরেজমিনে তদন্ত করে বিচারের রায় দেবেন বলে বৈঠকে জানানো হয়।


রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সরেজমিনে ওই জমি পরিদর্শনে যান। ওই জমির মালিক আব্দুল মতিনের পক্ষে যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম কথা বলার কারণে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন চলে আসার পর যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলামকে একা পেয়ে ডাকাত সর্দার হাবু ও তার ছেলে আশিক, সহযোগী শাহজালাল ও ডালিমসহ ১০-১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র রামদা, ছোরা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও লোহার রড দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়।


ঘটনাস্থল থেকে এলাকাবাসী মারাত্মক আহত অবস্থায় আমিনুলকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।


এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডাকাত সর্দার হাবু ওই এলাকার ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষের জমি দখল থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল হকের প্রভাবে তিনি ওই এলাকায় অপকর্ম করে বেড়ান।


ডাকাত সর্দার হাবুর বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, চুরি, মাদক ও অস্ত্রসহ ১৯টি মামলা রয়েছে। বারদী এলাকার একাধিক সূত্র জানায়, যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম গত ইউপি নির্বাচনে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল হকের কাছে নির্বাচন করে পরাজিত হন।


ডাকাত সর্দার হাবু বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল হকের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে এলাকায় পরিচিত। নির্বাচন কেন্দ্রীক বিরোধীতার কারণে যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলামের ওপর হামলার পরিকল্পনা আগে থেকেই নিয়েছিল ডাকাত সর্দার হাবু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী।


সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ডাকাত সর্দার হাবুকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে।