আমতলীর বাজারে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পিরানহা
jugantor
আমতলীর বাজারে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পিরানহা

  আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি  

১৩ জুলাই ২০২০, ২২:২১:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

আমতলীর বাজারে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ বিষাক্ত পিরানহা মাছ। এ মাছ বিক্রি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ নেই। দ্রুত এ মাছ বিক্রি বন্ধের দাবী জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে পিরানহা মাছ চাষ, আহরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপনন নিষিদ্ধ করে সরকার। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ময়মনসিংহ, যশোর ও কিশোরগঞ্জের অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীরা পিরানহা মাছ চাষ করছে এবং দক্ষিণাঞ্চলে রফতানি করছে।

আর দক্ষিণাঞ্চলের পাইকারী মৎস্য ব্যবসায়ীরা অল্পমূল্যে এ মাছ ক্রয় করে গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে সামুদ্রিক রূপচাঁদা বলে বিক্রি করছে। গ্রামের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ না বুঝে এ মাছ ক্রয় করছে। তাদের ধারণা এ মাছ বিষাক্ত হলেও রান্না করলে ওই বিষ আগুনের তাপে নষ্ট হয়ে যায়।

সোমবার আমতলী উপজেলার চুনাখালী, গাজীপুর, গুলিশাখালী, কলাগাছিয়া ও তালুকদার বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছের স্টল ও সড়কের পাশে বিষাক্ত পিরানহা মাছ বিক্রি চলছে, ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি।

তালুকদার বাজরের ক্রেতা মাসুম বলেন, রূপচাঁদা মাছ বলে বিক্রেতা জাকির আমার কাছে এ মাছ বিক্রি করেছে। আমিও তার কথায় বিশ্বাস করে কিনে এনেছি।

কুকুয়া ইউনিয়নের আনসার বাহিনীর কমান্ডার বাবলু বলেন, মানুষ না বুঝে নিষিদ্ধ রাক্ষসী পিরানহা মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ মাছ বিক্রি বন্ধের দাবী জানাই।

মাছ বিক্রেতা জাকির হোসেন পিরানহা মাছকে সামদ্রিক রূপচাঁদা বলে বিক্রির কথা স্বীকার করে বলেন, আড়ৎ মালিকরা প্রশাসনের সামনে আমাদের কাছে বিক্রির জন্য দিচ্ছে, তাই আমরাও গ্রামে বিক্রি করছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, উপজেলা মৎস্য অফিসের লোকজনকে ম্যানেজ করেই পিরানহা মাছ রূপচাঁদা হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। তারা আরও বলেন, উপজেলা মৎস্য অফিস তো এ মাছ বিক্রি নিষিদ্ধ তা আমাদের কখনো বলেনি।

আমতলী মৎস্য আড়ৎ মালিক বারেক প্যাদা বলেন, প্রশাসনের নজর ফাঁকি দিয়ে আমতলীসহ দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন আড়তে টনে টনে পিরানহা মাছ বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এই মাছ বিক্রি নিষিদ্ধ হওয়ায় আমার আড়তে সংরক্ষণ করি না।

আমতলী থানার ওসি শাহ আলম হাওলাদার বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ পরিবহন ও বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বলেন, পিরানহা মাছ চাষ, আহরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপনন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ মাছ কেউ চাষ ও বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, পিরানহা মাছ ক্রয়-বিক্রয় বন্ধে বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

আমতলীর বাজারে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পিরানহা

 আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি 
১৩ জুলাই ২০২০, ১০:২১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আমতলীর বাজারে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ বিষাক্ত পিরানহা মাছ। এ মাছ বিক্রি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ নেই। দ্রুত এ মাছ বিক্রি বন্ধের দাবী জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে পিরানহা মাছ চাষ, আহরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপনন নিষিদ্ধ করে সরকার। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ময়মনসিংহ, যশোর ও কিশোরগঞ্জের অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীরা পিরানহা মাছ চাষ করছে এবং দক্ষিণাঞ্চলে রফতানি করছে।

আর দক্ষিণাঞ্চলের পাইকারী মৎস্য ব্যবসায়ীরা অল্পমূল্যে এ মাছ ক্রয় করে গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে সামুদ্রিক রূপচাঁদা বলে বিক্রি করছে। গ্রামের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ না বুঝে এ মাছ ক্রয় করছে। তাদের ধারণা এ মাছ বিষাক্ত হলেও রান্না করলে ওই বিষ আগুনের তাপে নষ্ট হয়ে যায়।

সোমবার আমতলী উপজেলার চুনাখালী, গাজীপুর, গুলিশাখালী, কলাগাছিয়া ও তালুকদার বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছের স্টল ও সড়কের পাশে বিষাক্ত পিরানহা মাছ বিক্রি চলছে, ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি।

তালুকদার বাজরের ক্রেতা মাসুম বলেন, রূপচাঁদা মাছ বলে বিক্রেতা জাকির আমার কাছে এ মাছ বিক্রি করেছে। আমিও তার কথায় বিশ্বাস করে কিনে এনেছি।

কুকুয়া ইউনিয়নের আনসার বাহিনীর কমান্ডার বাবলু বলেন, মানুষ না বুঝে নিষিদ্ধ রাক্ষসী পিরানহা মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ মাছ বিক্রি বন্ধের দাবী জানাই।

মাছ বিক্রেতা জাকির হোসেন পিরানহা মাছকে সামদ্রিক রূপচাঁদা বলে বিক্রির কথা স্বীকার করে বলেন, আড়ৎ মালিকরা প্রশাসনের সামনে আমাদের কাছে বিক্রির জন্য দিচ্ছে, তাই আমরাও গ্রামে বিক্রি করছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, উপজেলা মৎস্য অফিসের লোকজনকে ম্যানেজ করেই পিরানহা মাছ রূপচাঁদা হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। তারা আরও বলেন, উপজেলা মৎস্য অফিস তো এ মাছ বিক্রি নিষিদ্ধ তা আমাদের কখনো বলেনি।

আমতলী মৎস্য আড়ৎ মালিক বারেক প্যাদা বলেন, প্রশাসনের নজর ফাঁকি দিয়ে আমতলীসহ দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন আড়তে টনে টনে পিরানহা মাছ বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এই মাছ বিক্রি নিষিদ্ধ হওয়ায় আমার আড়তে সংরক্ষণ করি না।

আমতলী থানার ওসি শাহ আলম হাওলাদার বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ পরিবহন ও বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বলেন, পিরানহা মাছ চাষ, আহরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপনন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ মাছ কেউ চাষ ও বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, পিরানহা মাছ ক্রয়-বিক্রয় বন্ধে বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।