টাঙ্গাইলের তিন নদীর পানি বেড়ে সোয়া লাখ মানুষ বন্দি
jugantor
টাঙ্গাইলের তিন নদীর পানি বেড়ে সোয়া লাখ মানুষ বন্দি

  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি  

১৪ জুলাই ২০২০, ২৩:০৬:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

টাঙ্গাইলে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে যমুনা, ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদীর পানি দ্বিতীয় দফায় বাড়ছে। ফলে জেলার ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল সদর, দেলদুয়ার, গোপালপুর, কালিহাতী ও নাগরপুর উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নের ১৩৭টি গ্রামের প্রায় সোয়া লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।

টাঙ্গাইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, মঙ্গলবার টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি জোকারচর পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং ধলেশ্বরী নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে ঝিনাই নদীর পানি ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সূত্র মতে, মানুষ প্রথম দফায় বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই গত রোববার বিকাল থেকে দ্বিতীয় দফায় নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে। প্রথম দফা বন্যার পর পানি কমতে থাকায় চরাঞ্চলের যে সব মানুষ বাড়িতে ফিরছিলেন তারা আবার নিরাপদ আশ্রয়ে খুঁজছেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্র জানায়, জেলায় এ পর্যন্ত টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর, দেলদুয়ার, ভূঞাপুর, কালিহাতী এবং গোপালপুর- এ ছয়টি উপজেলার ১৬২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় পানি ঢুকে ২৪টি ইউনিয়নের ন্যূনতম ১৩৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে জেলার উপ-শহর খ্যাত এলেঙ্গা পৌরসভার আংশিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে ২১ হাজার ১৭৮টি পরিবারের প্রায় সোয়া লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

অন্যদিকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৯ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানি বাড়ার সঙ্গে ভাঙনের শিকার হয়ে ৫৮৬টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও ১ হাজার ৭৫টি ঘরবাড়ি আংশিক নদীতে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া নাগরপুরে একটি স্কুল ভবন সম্পূর্ণ নদীতে ধসে পড়েছে এবং দুইটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসলী জমি নিমজ্জিত হওয়ার পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫ হাজার ৯২৮ হেক্টর ফসলী জমি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে বোনা আমন ২৩ হেক্টর, রোপা আমন (বীজতলা) ৩ হেক্টর, পাট ৭৬৫ হেক্টর, আউশ ৮৯৬ হেক্টর, সবজি ২৮৫ হেক্টর, তিল ১ হাজার ৬৫২ হেক্টর পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার জানান, ফসলী জমিগুলোতে পানি স্থিতিশীল থাকায় ৫০ ভাগ ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাকি ৫০ ভাগ ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না। জেলা কৃষি বিভাগ বন্যার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থেকে সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ফের জেলার নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় নদীতে পানি বাড়ায় বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

তিনি আরও জানান, যে সব নদীর তীর ভাঙনের শিকার হচ্ছে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইলের তিন নদীর পানি বেড়ে সোয়া লাখ মানুষ বন্দি

 টাঙ্গাইল প্রতিনিধি 
১৪ জুলাই ২০২০, ১১:০৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

টাঙ্গাইলে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে যমুনা, ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদীর পানি দ্বিতীয় দফায় বাড়ছে। ফলে জেলার ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল সদর, দেলদুয়ার, গোপালপুর, কালিহাতী ও নাগরপুর উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নের ১৩৭টি গ্রামের প্রায় সোয়া লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।

টাঙ্গাইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, মঙ্গলবার টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি জোকারচর পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং ধলেশ্বরী নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে ঝিনাই নদীর পানি ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সূত্র মতে, মানুষ প্রথম দফায় বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই গত রোববার বিকাল থেকে দ্বিতীয় দফায় নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে। প্রথম দফা বন্যার পর পানি কমতে থাকায় চরাঞ্চলের যে সব মানুষ বাড়িতে ফিরছিলেন তারা আবার নিরাপদ আশ্রয়ে খুঁজছেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্র জানায়, জেলায় এ পর্যন্ত টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর, দেলদুয়ার, ভূঞাপুর, কালিহাতী এবং গোপালপুর- এ ছয়টি উপজেলার ১৬২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় পানি ঢুকে ২৪টি ইউনিয়নের ন্যূনতম ১৩৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে জেলার উপ-শহর খ্যাত এলেঙ্গা পৌরসভার আংশিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে ২১ হাজার ১৭৮টি পরিবারের প্রায় সোয়া লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

অন্যদিকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৯ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানি বাড়ার সঙ্গে ভাঙনের শিকার হয়ে ৫৮৬টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও ১ হাজার ৭৫টি ঘরবাড়ি আংশিক নদীতে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া নাগরপুরে একটি স্কুল ভবন সম্পূর্ণ নদীতে ধসে পড়েছে এবং দুইটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসলী জমি নিমজ্জিত হওয়ার পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫ হাজার ৯২৮ হেক্টর ফসলী জমি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে বোনা আমন ২৩ হেক্টর, রোপা আমন (বীজতলা) ৩ হেক্টর, পাট ৭৬৫ হেক্টর, আউশ  ৮৯৬ হেক্টর, সবজি ২৮৫ হেক্টর, তিল ১ হাজার ৬৫২ হেক্টর পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার জানান, ফসলী জমিগুলোতে পানি স্থিতিশীল থাকায় ৫০ ভাগ ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাকি ৫০ ভাগ ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না। জেলা কৃষি বিভাগ বন্যার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থেকে সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ফের জেলার নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় নদীতে পানি বাড়ায় বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

তিনি আরও জানান, যে সব নদীর তীর ভাঙনের শিকার হচ্ছে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন