করোনার ভুয়া টেস্ট: ঈশ্বরদীতে ক্লিনিক সিলগালা
jugantor
করোনার ভুয়া টেস্ট: ঈশ্বরদীতে ক্লিনিক সিলগালা

  ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি  

১৬ জুলাই ২০২০, ২২:০৩:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনার ভুয়া রিপোর্ট প্রদানের দায়ে পাবনা ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পাবনা সিভিল সার্জন অফিসের নির্দেশে অনুমোদনহীন এই ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়া হয়।

গত ৮ জুলাই সরকারি অনুমোদন ব্যতিরেকে ৫-৬ হাজার করে টাকা নিয়ে ভুয়া নেগেটিভ রিপোর্ট দিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করার দায়ে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আব্দুল ওহাবকে প্রধান আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছিল। মামলা নং-১৩, তারিখ ৮/৭/২০। গ্রেফতারকৃত রানা পাবনা জেলহাজতে রয়েছে। মামলার অপর দুই আসামি হল ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাক্তার আবু সাইদ ও নাটোর জেলার বড়াইগ্রামের নাটাবাড়িয়া গ্রামের মৃত আরশেদ আলী সরকারের ছেলে সুজন আহমেদ।

পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প (আরএনপিপি) সংলগ্ন রূপপুর মেডিকেয়ার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক আব্দুল ওহাব রানা (৪০) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা স্বাস্থ্য অধিদফতর বা পাবনা সিভিল সার্জনের অনুমতি না নিয়ে অবৈধভাবে আরএনপিপিতে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী ও নতুন চাকরি প্রত্যাশীদের করোনা-১৯ নমুনা সংগ্রহ করে।

পরে সেগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে টেস্ট করিয়ে নেগেটিভ রিপোর্ট প্রদান করে আসছিল। প্রতি টেস্টের জন্য ওহাব রানা ৫-৬ হাজার করে টাকা নিতেন।

সুত্রগুলো আরও জানায়, চলতি মাসের গত ৪ জুলাই থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত মেডিকেয়ার মালিক রানা প্রকল্পের দক্ষিণপাশে তাবু টাঙিয়ে প্রকল্পে কর্মরত ও নতুন চাকরি প্রত্যাশিত কয়েক হাজার শ্রমিকের নমুনা সংগ্রহ করেন। বিষয়গুলো থানা পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তার নজরে আসলে সিভিল সার্জনের নির্দেশে রানাকে গত ৭ জুলাই আটক করা হয়। পরে তার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ১৪০টি নতুন নমুনা, বেশ কিছু টেস্টের অনলাইনে পাওয়া নেগেটিভ রিপোর্ট ও তার ল্যাপটপটি জব্দ করা হয়।

রূপপুর প্রকল্পে চাকুরি প্রার্থীদের বাধ্যতামূলক করোন টেস্টের নিয়ম থাকায় এবং সরকারীভাবে করোনা টেস্টের জটিলতা ও সময়ের দীর্ঘসুত্রিতার সুযোগটি গ্রহণ করে রূপপুর মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক। তাই কোনরূপ নিয়ম কিংবা অনুমতির তোয়াক্কা না করে গোপনে নমুনা সংগ্রহ ও কয়েকশত জাল নেগেটিভ রিপোর্ট শ্রমিক কর্মচারীদের প্রদান করে।

এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম শামিম জানান, রূপপুর মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার জন্য পাবনা সিভিল সার্জন অফিস থেকে নির্দেশনা এসেছে। নির্দেশনাটি মেডিকেয়ার কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ওসি শেখ মো. নাসীর উদ্দীন জানান, রূপপুর মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আব্দুল ওহাব রানাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অপর আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

করোনার ভুয়া টেস্ট: ঈশ্বরদীতে ক্লিনিক সিলগালা

 ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি 
১৬ জুলাই ২০২০, ১০:০৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনার ভুয়া রিপোর্ট প্রদানের দায়ে পাবনা ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পাবনা সিভিল সার্জন অফিসের নির্দেশে অনুমোদনহীন এই ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়া হয়। 

গত ৮ জুলাই সরকারি অনুমোদন ব্যতিরেকে ৫-৬ হাজার করে টাকা নিয়ে ভুয়া নেগেটিভ রিপোর্ট দিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করার দায়ে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আব্দুল ওহাবকে প্রধান আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছিল। মামলা নং-১৩, তারিখ ৮/৭/২০। গ্রেফতারকৃত রানা পাবনা জেলহাজতে রয়েছে। মামলার অপর দুই আসামি হল ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাক্তার আবু সাইদ ও নাটোর জেলার বড়াইগ্রামের নাটাবাড়িয়া গ্রামের মৃত আরশেদ আলী সরকারের ছেলে সুজন আহমেদ।

পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প (আরএনপিপি) সংলগ্ন রূপপুর মেডিকেয়ার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক আব্দুল ওহাব রানা (৪০) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা স্বাস্থ্য অধিদফতর বা পাবনা সিভিল সার্জনের অনুমতি না নিয়ে অবৈধভাবে আরএনপিপিতে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী ও নতুন চাকরি প্রত্যাশীদের করোনা-১৯ নমুনা সংগ্রহ করে। 

পরে সেগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে টেস্ট করিয়ে নেগেটিভ রিপোর্ট প্রদান করে আসছিল। প্রতি টেস্টের জন্য ওহাব রানা ৫-৬ হাজার করে টাকা নিতেন।

সুত্রগুলো আরও জানায়, চলতি মাসের গত ৪ জুলাই থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত মেডিকেয়ার মালিক রানা প্রকল্পের দক্ষিণপাশে তাবু টাঙিয়ে প্রকল্পে কর্মরত ও নতুন চাকরি প্রত্যাশিত কয়েক হাজার শ্রমিকের নমুনা সংগ্রহ করেন। বিষয়গুলো থানা পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তার নজরে আসলে সিভিল সার্জনের নির্দেশে রানাকে গত ৭ জুলাই আটক করা হয়। পরে তার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ১৪০টি নতুন নমুনা, বেশ কিছু টেস্টের অনলাইনে পাওয়া নেগেটিভ রিপোর্ট ও তার ল্যাপটপটি জব্দ করা হয়।

রূপপুর প্রকল্পে চাকুরি প্রার্থীদের বাধ্যতামূলক করোন টেস্টের নিয়ম থাকায় এবং সরকারীভাবে করোনা টেস্টের জটিলতা ও সময়ের দীর্ঘসুত্রিতার সুযোগটি গ্রহণ করে রূপপুর মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক। তাই কোনরূপ নিয়ম কিংবা অনুমতির তোয়াক্কা না করে গোপনে নমুনা সংগ্রহ ও কয়েকশত জাল নেগেটিভ রিপোর্ট শ্রমিক কর্মচারীদের প্রদান করে।

এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম শামিম জানান, রূপপুর মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার জন্য পাবনা সিভিল সার্জন অফিস থেকে নির্দেশনা এসেছে। নির্দেশনাটি মেডিকেয়ার কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার  ওসি শেখ মো. নাসীর উদ্দীন  জানান, রূপপুর মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আব্দুল ওহাব রানাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অপর আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন