পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, দোহারে ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি
jugantor
পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, দোহারে ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি

  যুগান্তর রিপোর্ট, নবাবগঞ্জ  

১৭ জুলাই ২০২০, ২৩:২৩:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার দোহারে পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে মাহমুদপুর, বিলাসপুর, নারিশা, নয়াবাড়িসহ নবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এ সব এলাকার ৫ হাজারের অধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনটঘাট এলাকাটি পদ্মার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এই পর্যটন এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক সপ্তাহ ধরে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দোহার উপজেলার ধোয়াইর বাজারসহ পূর্ব ও পশ্চিম ধোয়াইর গ্রামের বেশির ভাগ এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। নারিশা ইউনিয়নের মেঘুলা বাজার, বিলাসপুরের মধুরচর, রানীপুর, কৃষ্ণদেবপুর, রাধানগর, মাহমুদপুরের নারায়ণপুর, হরিচণ্ডি ও মুকসুদপুরের পদ্মা তীরবর্তী অঞ্চলের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এতে করে ৫ হাজারের অধিক পরিবারের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। এ সব অঞ্চলের মানুষ ঈদ উদযাপনের বদলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কখন তাদের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যায় এ নিয়ে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিন দোহারের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, মাহমুদপুরের হরিচণ্ডি গ্রামের প্রায় হাজারখানেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। পানিতে কারো ঘরের অর্ধেকটা ডুবে গেছে। কারো বাড়ির উঠানে পানি ঢুকে থৈ থৈ করছে। কোথাও নড়াচড়ার সুযোগ পর্যন্ত নেই। বিলাসপুরের মধুরচর, রানীপুর, কৃষ্ণদেবপুর, কুসুমহাটি ইউনিয়নের চর কুশাই, চরকুসুমহাটি গ্রামেরও বিরাট অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে।

পদ্মার পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়া এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যাদের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে তারা রাতে ঘুমাতে পারছেন না। মনে আতঙ্ক, কখন যে বাড়িঘর ও পরিবার-পরিজনসহ পদ্মার পানিতে তলিয়ে যায়।

তারা জানান, কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসা করার কোনো উপায় নেই। চলাচলের কোনো বাহন পাওয়া যাবে না। তাছাড়া চলাচলের জন্য নৌকা নেই।

চলমান করোনাভাইরাস নামক মহামারীর কারণে অনেক আগে থেকেই এ সব গ্রামে পানিবন্দি হয়ে পড়া বেশির ভাগ মানুষেরই আয়-উপার্জনের ক্ষমতা বন্ধ হয়ে গেছে। কোনোমতে জীবন ধারণ করে বেঁচে আছেন তারা।

হরিচণ্ডি গ্রামের সাদিয়া আক্তার বলেন, আল্লাহ ছাড়া আমাদের দেখার কেউ নেই।

পদ্মার ভাঙন ও পানিতে ভাসমান অবস্থায় জীবন কাটছে বিলাসপুর, নয়াবাড়ি, নারিশা, মাহমুদপুরসহ নবাবগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কান্তারটেক, ঘোষাইল, রাজাপুর, কেদারপুর, রায়পুরের সাধারণ মানুষের। এ সব এলাকার বেশির ভাগ মানুষের বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম ফিরোজ মাহমুদ বলেন, দোহারে পানিবন্দি পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। দ্রুত তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানো হবে। জনসাধারণের পাশে থেকে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, দোহারে ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি

 যুগান্তর রিপোর্ট, নবাবগঞ্জ 
১৭ জুলাই ২০২০, ১১:২৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার দোহারে পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে মাহমুদপুর, বিলাসপুর, নারিশা, নয়াবাড়িসহ নবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এ সব এলাকার ৫ হাজারের অধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনটঘাট এলাকাটি পদ্মার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এই পর্যটন এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক সপ্তাহ ধরে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দোহার উপজেলার ধোয়াইর বাজারসহ পূর্ব ও পশ্চিম ধোয়াইর গ্রামের বেশির ভাগ এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। নারিশা ইউনিয়নের মেঘুলা বাজার, বিলাসপুরের মধুরচর, রানীপুর, কৃষ্ণদেবপুর, রাধানগর, মাহমুদপুরের নারায়ণপুর, হরিচণ্ডি ও মুকসুদপুরের পদ্মা তীরবর্তী অঞ্চলের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এতে করে ৫ হাজারের অধিক পরিবারের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। এ সব অঞ্চলের মানুষ ঈদ উদযাপনের বদলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কখন তাদের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যায় এ নিয়ে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিন দোহারের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, মাহমুদপুরের হরিচণ্ডি গ্রামের প্রায় হাজারখানেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। পানিতে কারো ঘরের অর্ধেকটা ডুবে গেছে। কারো বাড়ির উঠানে পানি ঢুকে থৈ থৈ করছে। কোথাও নড়াচড়ার সুযোগ পর্যন্ত নেই। বিলাসপুরের মধুরচর, রানীপুর, কৃষ্ণদেবপুর, কুসুমহাটি ইউনিয়নের চর কুশাই, চরকুসুমহাটি গ্রামেরও বিরাট অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে।
  
পদ্মার পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়া এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যাদের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে তারা রাতে ঘুমাতে পারছেন না। মনে আতঙ্ক, কখন যে বাড়িঘর ও পরিবার-পরিজনসহ পদ্মার পানিতে তলিয়ে যায়।

তারা জানান, কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসা করার কোনো উপায় নেই। চলাচলের কোনো বাহন পাওয়া যাবে না। তাছাড়া চলাচলের জন্য নৌকা নেই।

চলমান করোনাভাইরাস নামক মহামারীর কারণে অনেক আগে থেকেই এ সব গ্রামে পানিবন্দি হয়ে পড়া বেশির ভাগ মানুষেরই আয়-উপার্জনের ক্ষমতা বন্ধ হয়ে গেছে। কোনোমতে জীবন ধারণ করে বেঁচে আছেন তারা।

হরিচণ্ডি গ্রামের সাদিয়া আক্তার বলেন, আল্লাহ ছাড়া আমাদের দেখার কেউ নেই।

পদ্মার ভাঙন ও পানিতে ভাসমান অবস্থায় জীবন কাটছে বিলাসপুর, নয়াবাড়ি, নারিশা, মাহমুদপুরসহ নবাবগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কান্তারটেক, ঘোষাইল, রাজাপুর, কেদারপুর, রায়পুরের সাধারণ মানুষের। এ সব এলাকার বেশির ভাগ মানুষের বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে।  

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম ফিরোজ মাহমুদ বলেন, দোহারে পানিবন্দি পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। দ্রুত তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানো হবে। জনসাধারণের পাশে থেকে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন