নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সন্দ্বীপ চ্যানেলে অবাধে মাছ শিকার
jugantor
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সন্দ্বীপ চ্যানেলে অবাধে মাছ শিকার

  সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি  

১৯ জুলাই ২০২০, ১৪:২০:৪১  |  অনলাইন সংস্করণ

৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সন্দ্বীপ চ্যানেলে অবাধে মাছ ধরছে জেলেরা।


উপজেলা মৎস্য বিভাগের উদাসীনতায় বেপোরোয়া হয়ে উঠেছেন জেলেরা।


উপজেলার সৈয়দপুর, মুরাদপুর, কুমিরা, পাক্কা মসজিদ এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক নৌকা সাগর থেকে মাছ ধরে উপকূলে ভিড়ছে।


সাগরের দিকে তাকালে উপকূলের কাছাকাছি অনেক মাছ ধরার নৌকা খালি চোখে দেখা যায়। এসময় কথা হয় কয়েকজন জেলের সঙ্গে। তাদের একজন বলেন, সাগরে কোন ধরনের অভিযান হয় না। একজন দুইজন করে এখন সবাই যাচ্ছে। তার ১১টি জাল সাগরে বসানো রয়েছে।


জোড়াআমতল জেলে সম্প্রদায়ের নেতা স্বপন জলদাস বলেন, সরকারি বরাদ্দের চাল কেউ পেয়েছেন কেউ পাইনি।তাই জেলেরা মাছ ধরতে সন্দ্বীপ চ্যানেলে যাচ্ছে।


বাজারের ইজারাদারসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাগরে অভিযান না চালিয়ে বাজারে লোক দেখানো অভিযান চালাচ্ছেন। ভ্রাম্যমান আদালত ছাড়াই বাজার থেকে সাগরের মাছ আত্মসাৎ করার অভিযোগ করেছেন ইজারাদারেরা।


তবে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দাবি, তারা সাগরেও অভিযান চালাচ্ছেন। কিন্তু তাদের যানবাহন স্বল্পতার কারণে সব সময় অভিযান চালাতে পারছেন না। যখন অভিযান চালান, তখন সাগরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে জেলেরা পালিয়ে যায়।


উপজেলা মৎস কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, উপকূলীয় এলাকায় মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০ মে থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। এজন্য সীতাকুণ্ডে কার্ডধারী চার হাজার ৮০৫ জেলে পরিবারকে মোট ৮৬ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে।


বাড়বকুন্ড ইউপি সদস্য মো: জহির বলেন, সাদেক নামে এক লোক মৎস্য কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে জেলেদের থেকে ধমক দিয়ে মাছ নিয়ে যায়। তিনি ধমকের সুরে বলে, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরতে হলে আমাকে এবং মৎস কর্মকর্তাকে মাছ দিতে হবে।মাছ না দিলে তোমাদেরকে ধরে চালান করা হবে।


সূত্র জানায়, বর্ষার এ সময় উপকূলে সব ধরনের মাছ ও চিংড়ি জাতীয় জলজপ্রাণি ডিম ছাড়ে।সেজন্য সাগরে যেকোন ধরনের জাল বা সরঞ্জাম দিয়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ।

এ নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।

শুকলালহাট বাজারের ইজারাদার মো. শাহজাহান বলেন, মৎস্য কর্মকর্তা ভ্রাম্যমান আদালত ছাড়া বাজারে গিয়ে জেলেদেরকে নানাভাবে হয়রানি করছে। সাগরে মাছ ধরা বন্ধ না করে বাজার থেকে মাছ নিয়ে যাচ্ছেন তিনি।অনেক জেলের হিমাগারের মাছ বিক্রিতেও ঝামেলা করছেন।


উপজেলা মৎস কর্মকর্তা শামীম আহমেদ বলেন, উপজেলার সোনাইছড়ি, ভাটিয়ারী ও সলিমপুর এ তিনটি ইউনিয়নের জেলেরা সিন্ডিকেট করে অভিযানে সহযোগিতা করে না। তাই অন্য এলাকা থেকে নৌকায় ভাড়া করে অভিযান চালাতে গেলে তারা খবর পেয়ে যায়।

মাছ নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মাছ নেয়ার প্রশ্নই আসে না।সাদেক নামে কাউকে আমি চিনিনা। ভ্রাম্যমান আদালতের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা কাউকে অযথা হয়রানি করি না।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সন্দ্বীপ চ্যানেলে অবাধে মাছ শিকার

 সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 
১৯ জুলাই ২০২০, ০২:২০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সন্দ্বীপ চ্যানেলে অবাধে মাছ ধরছে জেলেরা।


উপজেলা মৎস্য বিভাগের উদাসীনতায় বেপোরোয়া হয়ে উঠেছেন জেলেরা। 

 
উপজেলার সৈয়দপুর, মুরাদপুর, কুমিরা, পাক্কা মসজিদ এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক নৌকা সাগর থেকে মাছ ধরে উপকূলে ভিড়ছে। 


সাগরের দিকে তাকালে উপকূলের কাছাকাছি অনেক মাছ ধরার নৌকা খালি চোখে দেখা যায়। এসময় কথা হয় কয়েকজন জেলের সঙ্গে। তাদের একজন বলেন, সাগরে কোন ধরনের অভিযান হয় না। একজন দুইজন করে এখন সবাই যাচ্ছে। তার ১১টি জাল সাগরে বসানো রয়েছে।


জোড়াআমতল জেলে সম্প্রদায়ের নেতা স্বপন জলদাস বলেন, সরকারি বরাদ্দের চাল কেউ পেয়েছেন কেউ পাইনি।তাই জেলেরা মাছ ধরতে সন্দ্বীপ চ্যানেলে যাচ্ছে।   


বাজারের ইজারাদারসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাগরে অভিযান না চালিয়ে বাজারে লোক দেখানো অভিযান চালাচ্ছেন। ভ্রাম্যমান আদালত ছাড়াই বাজার থেকে সাগরের মাছ আত্মসাৎ করার অভিযোগ করেছেন ইজারাদারেরা। 


তবে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দাবি, তারা সাগরেও অভিযান চালাচ্ছেন। কিন্তু তাদের যানবাহন স্বল্পতার কারণে সব সময় অভিযান চালাতে পারছেন না। যখন অভিযান চালান, তখন সাগরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে জেলেরা পালিয়ে যায়।


উপজেলা মৎস কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, উপকূলীয় এলাকায় মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০ মে থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। এজন্য সীতাকুণ্ডে কার্ডধারী চার হাজার ৮০৫ জেলে পরিবারকে মোট ৮৬ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে।


বাড়বকুন্ড ইউপি সদস্য মো: জহির বলেন, সাদেক নামে এক লোক মৎস্য কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে জেলেদের থেকে ধমক দিয়ে মাছ নিয়ে যায়। তিনি ধমকের সুরে বলে, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরতে হলে আমাকে এবং মৎস কর্মকর্তাকে মাছ দিতে হবে।মাছ না দিলে তোমাদেরকে ধরে চালান করা হবে। 

 
সূত্র জানায়, বর্ষার এ সময় উপকূলে সব ধরনের মাছ ও চিংড়ি জাতীয় জলজপ্রাণি ডিম ছাড়ে।সেজন্য সাগরে যেকোন ধরনের জাল বা সরঞ্জাম দিয়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ।

এ নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।

শুকলালহাট বাজারের ইজারাদার মো. শাহজাহান বলেন, মৎস্য কর্মকর্তা ভ্রাম্যমান আদালত ছাড়া বাজারে গিয়ে জেলেদেরকে নানাভাবে হয়রানি করছে। সাগরে মাছ ধরা বন্ধ না করে বাজার থেকে মাছ নিয়ে যাচ্ছেন তিনি।অনেক জেলের হিমাগারের মাছ বিক্রিতেও ঝামেলা করছেন। 


উপজেলা মৎস কর্মকর্তা শামীম আহমেদ বলেন, উপজেলার সোনাইছড়ি, ভাটিয়ারী ও সলিমপুর এ তিনটি ইউনিয়নের জেলেরা সিন্ডিকেট করে অভিযানে সহযোগিতা করে না। তাই অন্য এলাকা থেকে নৌকায় ভাড়া করে অভিযান চালাতে গেলে তারা খবর পেয়ে যায়।

মাছ নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মাছ নেয়ার প্রশ্নই আসে না।সাদেক নামে কাউকে আমি চিনিনা। ভ্রাম্যমান আদালতের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা কাউকে অযথা হয়রানি করি না। 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন