চালকের সততায় নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল ফেরত পেল যাত্রী
jugantor
চালকের সততায় নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল ফেরত পেল যাত্রী

  বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি  

১৯ জুলাই ২০২০, ২২:২৭:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

গাড়িতে ফেলে যাওয়া নগদ ৫৬ হাজার টাকা, প্রায় ৩৫ হাজার টাকার সরকারি স্ট্যাম্প ও মোবাইল ফোন যাত্রীকে ফিরিয়ে দিয়ে সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের মাইক্রোবাস চালক এমরান। এ ঘটনায় রীতিমতো অবাক যাত্রী আজিজুল ইসলাম খুশি হয়ে এমরানকে দুই হাজার টাকা বকশিশ দিয়েছেন। এ ঘটনা এখন বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগরের আলোচিত বিষয়।

নবীনগরের জিনদপুর ইউনিয়নের পাক বাংগরা বাজারের ফরিদ মিয়ার ছেলে এমরান হোসেন। ১০ বছর ধরে এমরান মাইক্রো বাস চালাচ্ছেন। বাঙ্গরা থেকে বাঞ্ছারামপুর হয়ে কড়িকান্দি-বিশনন্দী ফেরিঘাট দিয়ে ঢাকার খিলক্ষেতে যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করতেন তিনি।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভেলানগরের আজিজুল ইসলাম ঢাকার একটি বায়িং হাউসে কমার্শিয়াল অফিসার পদে চাকরি করেন। তিনি ঢাকা যাওয়ার জন্য এমরানের গাড়িতে উঠেন ফেরিঘাট থেকে। সঙ্গে ছিল একটি কাঁধ ব্যাগ। ব্যাগে ছিল ৫৬ হাজার টাকা, কোম্পানির কাজে ব্যবহারের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার টাকার সরকারি স্ট্যাম্প ও একটি মোবাইল ফোন।

খিলক্ষেত পৌঁছে ভুল করে ব্যাগটি না নিয়েই গাড়ি থেকে নেমে যান আজিজুল। এমরানও যাত্রী নামিয়ে পুনরায় বাড়ির পথে রওয়ানা করেন। রাজধানীর মিরপুরে যাওয়ার পর ব্যাগের কথা মনে পড়ে আজিজুলের। অনেক খোঁজাখুঁজির পর কোথায়ও ব্যাগটি না পেয়ে আবার ছুটে যান কড়িকান্দি ফেরিঘাটে।

এ দিকে কড়িকান্দি ফেরিঘাটে গাড়ি নিয়ে পৌঁছায় চালক এমরানও দেখতে পান গাড়ির ভেতর একটি ব্যাগ। তাই সেখানেই তিনি অপেক্ষা করছিলেন ব্যাগের মালিকের জন্য। আজিজুল ফেরিঘাটে পৌঁছার পর চালক এমরান তাকে পেয়ে ব্যাগ বুঝিয়ে দেন।

আজিজুল বলেন, মানুষের মাঝ থেকে এখনও সততা হারিয়ে যায়নি, যার একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত এমরান হোসেন। সমাজে এখনও মহানুভব মানুষ আছেন, হয়তো তাদের দেখা মেলে না। তাদেরই একজনের সন্ধান পাওয়া গেল।

তিনি বলেন, হারিয়ে ফেলা জিনিস ফিরে পেয়ে তিনি অনেক খুশি। টাকার চেয়ে তার কাছে মহামূল্যবান ছিল অফিসিয়াল কাগজপত্রগুলো। টাকাসহ এগুলো পেয়ে আনন্দিত আজিজুল। করোনার এত সংকটেও যে দেশে ভালো মানুষ আছে তারই উদাহরণ চালক এমরান।

এ বিষয়ে চালক এমরান হোসেন বলেন, ব্যাগটি নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় ছিলেন কিভাবে প্রকৃত মালিককে এটি পৌঁছে দেবেন। ফেরিঘাট থেকে যেহেতু যাত্রীটি উঠেছিল তাই ঘাটে নেমে তাকে খুঁজতে থাকেন। টাকা ও মালামাল মালিককে বুঝিয়ে দিতে পেরে এমরান অনেক খুশি।

পরে ফেরিঘাটের বাঞ্ছারামপুর অংশে এসে চালক এমরানকে বিদায় জানান আজিজুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুরের পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাহ আলম বাবু, পাহাড়িয়াকান্দির যুবলীগ নেতা মীর মনির, ভেলানগর ছাত্রলীগ নেতা মো. রাসেল, পাহাড়িয়াকান্দির মীর উজ্জ্বল মিয়া।

চালকের সততায় নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল ফেরত পেল যাত্রী

 বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি 
১৯ জুলাই ২০২০, ১০:২৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গাড়িতে ফেলে যাওয়া নগদ ৫৬ হাজার টাকা, প্রায় ৩৫ হাজার টাকার সরকারি স্ট্যাম্প ও মোবাইল ফোন যাত্রীকে ফিরিয়ে দিয়ে সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের মাইক্রোবাস চালক এমরান। এ ঘটনায় রীতিমতো অবাক যাত্রী আজিজুল ইসলাম খুশি হয়ে এমরানকে দুই হাজার টাকা বকশিশ দিয়েছেন। এ ঘটনা এখন বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগরের আলোচিত বিষয়।

নবীনগরের জিনদপুর ইউনিয়নের পাক বাংগরা বাজারের ফরিদ মিয়ার ছেলে এমরান হোসেন। ১০ বছর ধরে এমরান মাইক্রো বাস চালাচ্ছেন। বাঙ্গরা থেকে বাঞ্ছারামপুর হয়ে কড়িকান্দি-বিশনন্দী ফেরিঘাট দিয়ে ঢাকার খিলক্ষেতে যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করতেন তিনি।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভেলানগরের আজিজুল ইসলাম ঢাকার একটি বায়িং হাউসে কমার্শিয়াল অফিসার পদে চাকরি করেন। তিনি ঢাকা যাওয়ার জন্য এমরানের গাড়িতে উঠেন ফেরিঘাট থেকে। সঙ্গে ছিল একটি কাঁধ ব্যাগ। ব্যাগে ছিল ৫৬ হাজার টাকা, কোম্পানির কাজে ব্যবহারের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার টাকার সরকারি স্ট্যাম্প ও একটি মোবাইল ফোন।

খিলক্ষেত পৌঁছে ভুল করে ব্যাগটি না নিয়েই গাড়ি থেকে নেমে যান আজিজুল। এমরানও যাত্রী নামিয়ে পুনরায় বাড়ির পথে রওয়ানা করেন। রাজধানীর মিরপুরে যাওয়ার পর ব্যাগের কথা মনে পড়ে আজিজুলের। অনেক খোঁজাখুঁজির পর কোথায়ও ব্যাগটি না পেয়ে আবার ছুটে যান কড়িকান্দি ফেরিঘাটে।

এ দিকে কড়িকান্দি ফেরিঘাটে গাড়ি নিয়ে পৌঁছায় চালক এমরানও দেখতে পান গাড়ির ভেতর একটি ব্যাগ। তাই সেখানেই তিনি অপেক্ষা করছিলেন ব্যাগের মালিকের জন্য। আজিজুল ফেরিঘাটে পৌঁছার পর চালক এমরান তাকে পেয়ে ব্যাগ বুঝিয়ে দেন।

আজিজুল বলেন, মানুষের মাঝ থেকে এখনও সততা হারিয়ে যায়নি, যার একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত এমরান হোসেন। সমাজে এখনও মহানুভব মানুষ আছেন, হয়তো তাদের দেখা মেলে না। তাদেরই একজনের সন্ধান পাওয়া গেল।

তিনি বলেন, হারিয়ে ফেলা জিনিস ফিরে পেয়ে তিনি অনেক খুশি। টাকার চেয়ে তার কাছে মহামূল্যবান ছিল অফিসিয়াল কাগজপত্রগুলো। টাকাসহ এগুলো পেয়ে আনন্দিত আজিজুল। করোনার এত সংকটেও যে দেশে ভালো মানুষ আছে তারই উদাহরণ চালক এমরান।

এ বিষয়ে চালক এমরান হোসেন বলেন, ব্যাগটি নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় ছিলেন কিভাবে প্রকৃত মালিককে এটি পৌঁছে দেবেন। ফেরিঘাট থেকে যেহেতু যাত্রীটি উঠেছিল তাই ঘাটে নেমে তাকে খুঁজতে থাকেন। টাকা ও মালামাল মালিককে বুঝিয়ে দিতে পেরে এমরান অনেক খুশি।

পরে ফেরিঘাটের বাঞ্ছারামপুর অংশে এসে চালক এমরানকে বিদায় জানান আজিজুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুরের পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাহ আলম বাবু, পাহাড়িয়াকান্দির যুবলীগ নেতা মীর মনির, ভেলানগর ছাত্রলীগ নেতা মো. রাসেল, পাহাড়িয়াকান্দির মীর উজ্জ্বল মিয়া।