মাগুরায় ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর পরিবারকে জরিমানা-সমাজচ্যুৎ
jugantor
মাগুরায় ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর পরিবারকে জরিমানা-সমাজচ্যুৎ

  মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি   

২১ জুলাই ২০২০, ২০:৫৯:৫৯  |  অনলাইন সংস্করণ

মাগুরার মহম্মদপুরে ধর্ষণের ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা এক ছাত্রীর পরিবারকে গ্রাম্য সালিশে জরিমানা ও সমাজচ্যুৎ করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। সালিশের এই সিদ্ধান্ত না মানায় ওই পরিবারের মালামাল লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে সালিশকারীদের বিরুদ্ধে। 

এ ঘটনায় ওই পরিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও নহাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল সিদ্দিকী লিটনকে প্রধান আসামি করে সোমবার রাতে মামলা করেছে মহম্মদপুর থানায়।  

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার নহাটা ইউনিয়নে ধর্ষণের ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রী। বিচারের আশায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল সিদ্দিকী লিটনের কাছে যায় ভুক্তভোগী পরিবার। তার কাছে বিষয়টি নিয়ে সুরাহা না হলে মামলার প্রস্তুতি নেন। 

বিষয়টি জানতে পেরে ওই নেতা মারধর করে গ্রাম্য সালিশের কথা বলে। পরে সে সহ তার সহযোগীরা ১০ জুলাই সালিশে ভুক্তভোগী পরিবারকেই উল্টো দোষী সাব্যস্ত করে। তারা ওই পরিবারকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৬ মাসের জন্য সমাজচ্যুৎ করার সিদ্ধান্ত দেয়। তাছাড়া পরিবারটিকে পুলিশের কাছে না যাওয়ার হুমকি দেয়। 

পুলিশ ও ভুক্তভুগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উল্টো সিদ্ধান্ত দেয়ায় ভুক্তভোগী ওই পরিবার মাগুরা সদর থানার ভাংগুরা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শাহাবুল ইসলাম (১৯)-এর বিরুদ্ধে ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলা করে। পরে পুলিশ শাহাবুল ইসলামকে গ্রেফতার করলে সালিশকারীরা ওই পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সোমবার সকালে নহাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ওবায়দুর রহমানে নেতৃত্বে কয়েকজন ভুক্তভোগীর বাড়িতে যায়। 

তারা বাড়ি থেকে একটি গরু, চারটি ছাগল, একটি ভ্যান, শ্যালো মেশিনসহ বেশকিছু জিনস ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ছিনিয়ে নেয়া অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করে। 

এ ঘটনায় একটি চাঁদাবাজি মামলা করা হয়েছে জানিয়ে মহম্মদপুর থানার ওসি তারক বিশ্বাস বলেন, ওই মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা কামাল সিদ্দিকী লিটন, ওবায়দুর রহমানসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। ধর্ষণ মামলায় ১ জন এবং চাঁদাবাজি মামলায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। 

মোস্তফা কামাল সিদ্দিকী লিটন এবং তার সহযোগী ওবায়দুর রহমান তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ধরনের কোনো সালিশে আমি উপস্থিত ছিলাম না। আর চাঁদা দাবির প্রশ্নই ওঠে না। আমি উল্টো তাদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। 

 

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর পরিবারকে জরিমানা-সমাজচ্যুৎ

 মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি  
২১ জুলাই ২০২০, ০৮:৫৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মাগুরার মহম্মদপুরে ধর্ষণের ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা এক ছাত্রীর পরিবারকে গ্রাম্য সালিশে জরিমানা ও সমাজচ্যুৎ করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। সালিশের এই সিদ্ধান্ত না মানায় ওই পরিবারের মালামাল লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে সালিশকারীদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ওই পরিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও নহাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল সিদ্দিকী লিটনকে প্রধান আসামি করে সোমবার রাতে মামলা করেছে মহম্মদপুর থানায়।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার নহাটা ইউনিয়নে ধর্ষণের ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রী। বিচারের আশায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল সিদ্দিকী লিটনের কাছে যায় ভুক্তভোগী পরিবার। তার কাছে বিষয়টি নিয়ে সুরাহা না হলে মামলার প্রস্তুতি নেন।

বিষয়টি জানতে পেরে ওই নেতা মারধর করে গ্রাম্য সালিশের কথা বলে। পরে সে সহ তার সহযোগীরা ১০ জুলাই সালিশে ভুক্তভোগী পরিবারকেই উল্টো দোষী সাব্যস্ত করে। তারা ওই পরিবারকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৬ মাসের জন্য সমাজচ্যুৎ করার সিদ্ধান্ত দেয়। তাছাড়া পরিবারটিকে পুলিশের কাছে না যাওয়ার হুমকি দেয়।

পুলিশ ও ভুক্তভুগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উল্টো সিদ্ধান্ত দেয়ায় ভুক্তভোগী ওই পরিবার মাগুরা সদর থানার ভাংগুরা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শাহাবুল ইসলাম (১৯)-এর বিরুদ্ধে ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলা করে। পরে পুলিশ শাহাবুল ইসলামকে গ্রেফতার করলে সালিশকারীরা ওই পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সোমবার সকালে নহাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ওবায়দুর রহমানে নেতৃত্বে কয়েকজন ভুক্তভোগীর বাড়িতে যায়।

তারা বাড়ি থেকে একটি গরু, চারটি ছাগল, একটি ভ্যান, শ্যালো মেশিনসহ বেশকিছু জিনস ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ছিনিয়ে নেয়া অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় একটি চাঁদাবাজি মামলা করা হয়েছে জানিয়ে মহম্মদপুর থানার ওসি তারক বিশ্বাস বলেন, ওই মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা কামাল সিদ্দিকী লিটন, ওবায়দুর রহমানসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। ধর্ষণ মামলায় ১ জন এবং চাঁদাবাজি মামলায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

মোস্তফা কামাল সিদ্দিকী লিটন এবং তার সহযোগী ওবায়দুর রহমান তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ধরনের কোনো সালিশে আমি উপস্থিত ছিলাম না। আর চাঁদা দাবির প্রশ্নই ওঠে না। আমি উল্টো তাদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।