কক্সবাজারে দেশের সর্ববৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্বোধন বৃহস্পতিবার
jugantor
কক্সবাজারে দেশের সর্ববৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্বোধন বৃহস্পতিবার

  কক্সবাজার প্রতিনিধি  

২২ জুলাই ২০২০, ২০:৩৩:১৪  |  অনলাইন সংস্করণ

আশ্রয়ণ প্রকল্প
পর্যটন শহর কক্সবাজারে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য দেশের সর্ব বৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে

পর্যটন শহর কক্সবাজারে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য দেশের সর্ব বৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল প্লাটফরমের মাধ্যমে গণভবন থেকে এই অন্যতম বৃহৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকূল ইউনিয়নে অত্যাধুনিকভাবে নির্মিত ২০টি বহুতল ভবন উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণের কাজ শুরু হবে।

এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে এরই মধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনুষ্ঠানস্থলে সাজসজ্জাসহ নানা প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি নির্মিত ২০টি ভবনেই পানি ও বিদ্যুতের লাইন সংযোগসহ প্রস্তুত করা হয়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও। 

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলার খুরুশকূল ইউনিয়নের বাঁকখালী নদী ঘেঁষে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভবনগুলোর বসতঘর উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণের জন্য শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভার্চুয়াল প্লাটফর্মের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে সরাসরি অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন। এতে গণভবন ও খুরুশকূলের প্রান্ত থেকে নির্ধারিত অতিথিরাও অংশগ্রহণ করবেন।

অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী নির্মিত ২০টি ভবনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন এবং ১৯ জন উপকারভোগীর মাঝে বসতঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন। এ সময় খুরুশকূল প্রান্তে তিনজন উপকারভোগী কর্তৃক আশ্রয়ণ প্রকল্পস্থলে রোপণ করা হবে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা। 

এদিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এর মধ্যে সংলগ্ন ৬৮২ একর খাসজমি বিমানবন্দরের জন্য বরাদ্দসহকারে খতিয়ান চূড়ান্ত করা হয়েছে। চিহ্নিত এ পরিমাণ জমিতে বর্তমানে অবৈধভাবে বসবাসরত ৪৪০৯ পরিবারের লোকজনকে পুনর্বাসন করার জন্য বাঁকখালী নদী তীরের খুরুশকূলের ২৫৩ দশমিক ৩৫ একর জমিতে তৈরি করা হচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্প। এর মধ্যে প্রথম ধাপে শেষ হয়েছে ২০টি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজসহ সার্বিক সুযোগ-সুবিধা।

সূত্রমতে, ২০১৫ সালে শুরু হয় প্রকল্পের ভরাটের কাজ। প্রকল্পে চারতলাবিশিষ্ট ২৪৫টি ভবন নির্মাণ করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ২০টি ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করেছে। প্রতিটি ভবনে রয়েছে ৩২টি করে ইউনিট। নির্মিত এসব ভবনে আশ্রয় পাবে ৬৪০টি পরিবার। এই বৃহৎ আশ্রয় প্রকল্পে রয়েছে স্কুল, মসজিদ-মাদরাসাসহ সার্বিক সুযোগ সুবিধা। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে কলেজসহ আরো প্রয়োজনীয় নানা প্রতিষ্ঠান।

কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আবছার যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় এই প্রকল্পে নির্মিত ২০টি অত্যাধুনিক ভবনের নামকরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। কক্সবাজারের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দুর্বলতা অন্য রকম। এটিও এর একটি প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রী নিজে ভবনের নামগুলো রেখেছেন। ভবনের নামগুলো হচ্ছে- ১) সাম্পান, ২) কোরাল, ৩) রজনীগন্ধা, ৪) গন্ধরাজ, ৫) হাসনাহেনা, ৬) কামিনী, ৭) গুলমোহর, ৮) গোলাপ, ৯) সোনালী, ১০) নীলাম্বরী, ১১) ঝিনুক, ১২) কেওড়া, ১৩) মুক্তা, ১৪) প্রবাল, ১৫) সোপান, ১৬) মনখালী, ১৭) শনখালী, ১৮) দোলনচাঁপা , ১৯) ইনানী ও ২০) বাঁকখালী।

এদিকে সরেজমিন দেখা যায়, এই আধুনিক আশ্রয়ণ প্রকল্প একদিকে যেমন অসহায় মানুষের বাসস্থানের জায়গা পূরণ করছে, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহি বাঁকখালী নদীর মোহনায় অপরূপ স্থানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ায় স্থানীয় এবং পর্যটকদের জন্য দর্শনীয় স্থান হিসেবে সবার নজর কাটছে। সাগরের কূল ঘেঁষে গড়ে ওঠা আশ্রয়ণ প্রকল্পের রাস্তা, কালভার্ট, পুকুর, বাগান নিয়ে প্রকল্প এলাকার পরিবেশকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, দেখলেই যে কারও মনে আনন্দ জোগাবে। 
 

কক্সবাজারে দেশের সর্ববৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্বোধন বৃহস্পতিবার

 কক্সবাজার প্রতিনিধি 
২২ জুলাই ২০২০, ০৮:৩৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আশ্রয়ণ প্রকল্প
পর্যটন শহর কক্সবাজারে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য দেশের সর্ব বৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে

পর্যটন শহর কক্সবাজারে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য দেশের সর্ব বৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল প্লাটফরমের মাধ্যমে গণভবন থেকে এই অন্যতম বৃহৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকূল ইউনিয়নে অত্যাধুনিকভাবে নির্মিত ২০টি বহুতল ভবন উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণের কাজ শুরু হবে।

এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে এরই মধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনুষ্ঠানস্থলে সাজসজ্জাসহ নানা প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি নির্মিত ২০টি ভবনেই পানি ও বিদ্যুতের লাইন সংযোগসহ প্রস্তুত করা হয়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলার খুরুশকূল ইউনিয়নের বাঁকখালী নদী ঘেঁষে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভবনগুলোর বসতঘর উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণের জন্য শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভার্চুয়াল প্লাটফর্মের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে সরাসরি অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন। এতে গণভবন ও খুরুশকূলের প্রান্ত থেকে নির্ধারিত অতিথিরাও অংশগ্রহণ করবেন।

অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী নির্মিত ২০টি ভবনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন এবং ১৯ জন উপকারভোগীর মাঝে বসতঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন। এ সময় খুরুশকূল প্রান্তে তিনজন উপকারভোগী কর্তৃক আশ্রয়ণ প্রকল্পস্থলে রোপণ করা হবে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা।

এদিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এর মধ্যে সংলগ্ন ৬৮২ একর খাসজমি বিমানবন্দরের জন্য বরাদ্দসহকারে খতিয়ান চূড়ান্ত করা হয়েছে। চিহ্নিত এ পরিমাণ জমিতে বর্তমানে অবৈধভাবে বসবাসরত ৪৪০৯ পরিবারের লোকজনকে পুনর্বাসন করার জন্য বাঁকখালী নদী তীরের খুরুশকূলের ২৫৩ দশমিক ৩৫ একর জমিতে তৈরি করা হচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্প। এর মধ্যে প্রথম ধাপে শেষ হয়েছে ২০টি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজসহ সার্বিক সুযোগ-সুবিধা।

সূত্রমতে, ২০১৫ সালে শুরু হয় প্রকল্পের ভরাটের কাজ। প্রকল্পে চারতলাবিশিষ্ট ২৪৫টি ভবন নির্মাণ করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ২০টি ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করেছে। প্রতিটি ভবনে রয়েছে ৩২টি করে ইউনিট। নির্মিত এসব ভবনে আশ্রয় পাবে ৬৪০টি পরিবার। এই বৃহৎ আশ্রয় প্রকল্পে রয়েছে স্কুল, মসজিদ-মাদরাসাসহ সার্বিক সুযোগ সুবিধা। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে কলেজসহ আরো প্রয়োজনীয় নানা প্রতিষ্ঠান।

কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আবছার যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় এই প্রকল্পে নির্মিত ২০টি অত্যাধুনিক ভবনের নামকরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। কক্সবাজারের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দুর্বলতা অন্য রকম। এটিও এর একটি প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রী নিজে ভবনের নামগুলো রেখেছেন। ভবনের নামগুলো হচ্ছে- ১) সাম্পান, ২) কোরাল, ৩) রজনীগন্ধা, ৪) গন্ধরাজ, ৫) হাসনাহেনা, ৬) কামিনী, ৭) গুলমোহর, ৮) গোলাপ, ৯) সোনালী, ১০) নীলাম্বরী, ১১) ঝিনুক, ১২) কেওড়া, ১৩) মুক্তা, ১৪) প্রবাল, ১৫) সোপান, ১৬) মনখালী, ১৭) শনখালী, ১৮) দোলনচাঁপা , ১৯) ইনানী ও ২০) বাঁকখালী।

এদিকে সরেজমিন দেখা যায়, এই আধুনিক আশ্রয়ণ প্রকল্প একদিকে যেমন অসহায় মানুষের বাসস্থানের জায়গা পূরণ করছে, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহি বাঁকখালী নদীর মোহনায় অপরূপ স্থানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ায় স্থানীয় এবং পর্যটকদের জন্য দর্শনীয় স্থান হিসেবে সবার নজর কাটছে। সাগরের কূল ঘেঁষে গড়ে ওঠা আশ্রয়ণ প্রকল্পের রাস্তা, কালভার্ট, পুকুর, বাগান নিয়ে প্রকল্প এলাকার পরিবেশকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, দেখলেই যে কারও মনে আনন্দ জোগাবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন