সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি কমলেও ভোগান্তিতে বন্যার্তরা
jugantor
সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি কমলেও ভোগান্তিতে বন্যার্তরা

  জেহাদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ  

২২ জুলাই ২০২০, ২১:৫১:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

বাড়িঘর ডুবে গেছে, তাই ভেলায় বসে রান্না করছেন এক গৃহবধূ
বাড়িঘর ডুবে গেছে, তাই ভেলায় বসে রান্না করছেন এক গৃহবধূ

সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুর পয়েন্টে যমুনার পানি কমতে শুরু করলেও জেলায় ৫১ হাজার পরিবারের প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এদের অনেকেই এখনও মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এবারের বন্যায় জেলা সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের প্রায় আড়াইশ' গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার থেকে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  এছাড়া কাজিপুর পয়েন্টে পানি ৭ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের ভাটপিয়ারী গ্রামের মনোরঞ্জন দাস বলেন, করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে কোনো কাম-কাজ নেই। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছি। এখন পর্যন্ত কেউ কোনো সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসেনি। ধার-দেনা করে আর কতদিন চলা যায়?

একই ইউনিয়নের পাঁচঠাকুরী যমুনা বাজারের ব্যবসায়ী মিলন শিকদার বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পূর্বপাড়ে বসবাসকারীদের কষ্টের সীমা নেই। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে অনেকের। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ না থাকায় নোংরা পানিই পান করছে তারা।

ছোনগাছা ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল আলম বলেন, চলতি বন্যায় এ ইউনিয়নের ২ হাজার ৭০০ পরিবারের ১৩ হাজার ৭০০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সিমলা স্পার ধসে যাওয়ায় আশপাশের ৬০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ও বন্যাকবলিত এলাকার প্রায় ৭০০ পরিবার বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার্তদের তালিকা তৈরি করে উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে ৯২০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য বন্যার্তদের মাঝেও ত্রাণ বিতরণ করা হবে।

এদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুর রহিম জানান, এবারের বন্যায় জেলার ৫১ হাজার পরিবারের প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে ১৪ হাজার ১৩ হেক্টর জমির ফসল। ইতিমধ্যে বন্যাকবলিতদের জন্য ২৬৭ টন চাল ও ৩ হাজার ৯৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে সাড়ে ৫৩ কিলোমিটার রাস্তা ও বাঁধ। এছাড়া ৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৪টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকও নিমজ্জিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি কমলেও ভোগান্তিতে বন্যার্তরা

 জেহাদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ 
২২ জুলাই ২০২০, ০৯:৫১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বাড়িঘর ডুবে গেছে, তাই ভেলায় বসে রান্না করছেন এক গৃহবধূ
বাড়িঘর ডুবে গেছে, তাই ভেলায় বসে রান্না করছেন এক গৃহবধূ

সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুর পয়েন্টে যমুনার পানি কমতে শুরু করলেও জেলায় ৫১ হাজার পরিবারের প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এদের অনেকেই এখনও মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এবারের বন্যায় জেলা সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের প্রায় আড়াইশ' গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার থেকে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কাজিপুর পয়েন্টে পানি ৭ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের ভাটপিয়ারী গ্রামের মনোরঞ্জন দাস বলেন, করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে কোনো কাম-কাজ নেই। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছি। এখন পর্যন্ত কেউ কোনো সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসেনি। ধার-দেনা করে আর কতদিন চলা যায়?

একই ইউনিয়নের পাঁচঠাকুরী যমুনা বাজারের ব্যবসায়ী মিলন শিকদার বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পূর্বপাড়ে বসবাসকারীদের কষ্টের সীমা নেই। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে অনেকের। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ না থাকায় নোংরা পানিই পান করছে তারা।

ছোনগাছা ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল আলম বলেন, চলতি বন্যায় এ ইউনিয়নের ২ হাজার ৭০০ পরিবারের ১৩ হাজার ৭০০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সিমলা স্পার ধসে যাওয়ায় আশপাশের ৬০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ও বন্যাকবলিত এলাকার প্রায় ৭০০ পরিবার বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার্তদের তালিকা তৈরি করে উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে ৯২০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য বন্যার্তদের মাঝেও ত্রাণ বিতরণ করা হবে।

এদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুর রহিম জানান, এবারের বন্যায় জেলার ৫১ হাজার পরিবারের প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে ১৪ হাজার ১৩ হেক্টর জমির ফসল। ইতিমধ্যে বন্যাকবলিতদের জন্য ২৬৭ টন চাল ও ৩ হাজার ৯৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে সাড়ে ৫৩ কিলোমিটার রাস্তা ও বাঁধ। এছাড়া ৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৪টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকও নিমজ্জিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।