ইলিশ শিকারে গভীর সমুদ্রে জেলেদের যাত্রা 
jugantor
ইলিশ শিকারে গভীর সমুদ্রে জেলেদের যাত্রা 

  পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২৩ জুলাই ২০২০, ১৭:৪০:৪১  |  অনলাইন সংস্করণ

সাগরে সব ধরনের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৎস্য শিকারের উপর টানা নির্ধারিত ৬৫ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ থেকে সাগরে যাচ্ছে উপকূলীয় এলাকা পাথরঘাটার জেলেরা। 

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকেই ফিশিং বোট নিয়ে সাগরের দিকে ছুটছেন জেলেরা। ইলিশের মৌসুমে নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশের দেখা না পেলেও গভীর সাগরে ইলিশ পাওয়ার আশায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে দল বেঁধে বেরিয়ে পড়ছে জেলেরা। তাদের প্রত্যাশা নিষেধাজ্ঞার ফলে আগের চেয়ে ইলিশ বেশি ধরা পড়বে সাগরে।

এখন সাগরের বুকজুড়ে থাকবে শুধু জেলে আর ট্রলার। আবারও সরগরম হয়ে উঠবে জেলে পল্লী। দূর-দুরান্ত থেকে ক্রেতারা আসবে তাজা ইলিশ কিনতে। আবারও ইলিশ ক্রেতাদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠবে দেশের বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বরগুনার পাথরঘাটা। 

মৎস্য অবতরণ এলাকার ঘাটগুলো আবার সরব হয়ে উঠেছে। যেখানে নিষেধাজ্ঞার সময় শূন্যতা বিরাজ করছিল সেখানে এখন আবার প্রাণ সঞ্চার ফিরে এসেছে। তবে এই উৎসবের মধ্যে রয়েছে করোনা আতঙ্ক।  

মৎস্য বিভাগ বলছে, নিষেধাজ্ঞায় সাগর ও তার মোহনায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা ছিল। এ সময় জেলেরাও মাছ ধরা থেকে বিরত ছিল। কয়েকদিন অপেক্ষা করলেই মিলবে কাঙ্খিত রুপালি ইলিশ। ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতিপূরণ হিসেবে জেলেদের ৮৬ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। এর মধ্য প্রথম ধাপে ৫৬ কেজি করে দেয়া হয়েছে।  দ্বিতীয় ধাপে ৩০ কেজি করে পাবে।

৬৫ দিন পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতে কষ্ট হলেও আবারও নিজ পেশায় ফিরতে পেরে খুশি জেলেরা। এ দিকে আড়ৎদাররাও তাদের আড়ৎ নতুন করে সাজিয়ে নিচ্ছেন। নতুন করে আবার ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন ইলিশ বিক্রির জন্য। 

পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা এলাকার জেলে জাকির মাঝি,মোস্তফা মাঝি ও নুরুল ইসলাম মাঝি জানান, দুই মাস মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার পর বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকে সাগরে মাছ শিকারে যাচ্ছেন তারা। ইলিশ মাছ ধরা একমাত্র পেশা হওয়ায় এতদিন অলস সময় পার করতে হয়েছে তাদের। 

বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় ধার-দেনা করে সংসার চালিয়েছেন তারা। এখন সমুদ্রে ইলিশ ধরা পড়লে সামনের দিনগুলো ধার-দেনা পরিশোধ করতে পারবে বলে আশা তাদের। আশা করছেন প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে।

পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্তু কুমার অপু জানান, সাগরে মাছসহ মূল্যবান প্রাণীজ সম্পদের ভাণ্ডার সুরক্ষায় চলতি বছরের ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। আজ থেকে ইলিশসহ অন্যান্য সব ধরনের মাছ শিকারে আর কোনো বাধা নেই। 

জেলেদের নিরাপত্তার জন্য ফ্লাই জ্যাকেট ও বয়া নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের বিশেষ ভিজিএফের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাথরঘাটায় নিবন্ধিত ১১ হাজার ৪৩৮ জেলে এ সহায়তা পেয়েছে।
 

ইলিশ শিকারে গভীর সমুদ্রে জেলেদের যাত্রা 

 পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি  
২৩ জুলাই ২০২০, ০৫:৪০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সাগরে সব ধরনের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৎস্য শিকারের উপর টানা নির্ধারিত ৬৫ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ থেকে সাগরে যাচ্ছে উপকূলীয় এলাকা পাথরঘাটার জেলেরা।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকেই ফিশিং বোট নিয়ে সাগরের দিকে ছুটছেন জেলেরা। ইলিশের মৌসুমে নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশের দেখা না পেলেও গভীর সাগরে ইলিশ পাওয়ার আশায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে দল বেঁধে বেরিয়ে পড়ছে জেলেরা। তাদের প্রত্যাশা নিষেধাজ্ঞার ফলে আগের চেয়ে ইলিশ বেশি ধরা পড়বে সাগরে।

এখন সাগরের বুকজুড়ে থাকবে শুধু জেলে আর ট্রলার। আবারও সরগরম হয়ে উঠবে জেলে পল্লী। দূর-দুরান্ত থেকে ক্রেতারা আসবে তাজা ইলিশ কিনতে। আবারও ইলিশ ক্রেতাদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠবে দেশের বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বরগুনার পাথরঘাটা।

মৎস্য অবতরণ এলাকার ঘাটগুলো আবার সরব হয়ে উঠেছে। যেখানে নিষেধাজ্ঞার সময় শূন্যতা বিরাজ করছিল সেখানে এখন আবার প্রাণ সঞ্চার ফিরে এসেছে। তবে এই উৎসবের মধ্যে রয়েছে করোনা আতঙ্ক।

মৎস্য বিভাগ বলছে, নিষেধাজ্ঞায় সাগর ও তার মোহনায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা ছিল। এ সময় জেলেরাও মাছ ধরা থেকে বিরত ছিল। কয়েকদিন অপেক্ষা করলেই মিলবে কাঙ্খিত রুপালি ইলিশ। ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতিপূরণ হিসেবে জেলেদের ৮৬ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। এর মধ্য প্রথম ধাপে ৫৬ কেজি করে দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ৩০ কেজি করে পাবে।

৬৫ দিন পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতে কষ্ট হলেও আবারও নিজ পেশায় ফিরতে পেরে খুশি জেলেরা। এ দিকে আড়ৎদাররাও তাদের আড়ৎ নতুন করে সাজিয়ে নিচ্ছেন। নতুন করে আবার ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন ইলিশ বিক্রির জন্য।

পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা এলাকার জেলে জাকির মাঝি,মোস্তফা মাঝি ও নুরুল ইসলাম মাঝি জানান, দুই মাস মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার পর বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকে সাগরে মাছ শিকারে যাচ্ছেন তারা। ইলিশ মাছ ধরা একমাত্র পেশা হওয়ায় এতদিন অলস সময় পার করতে হয়েছে তাদের।

বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় ধার-দেনা করে সংসার চালিয়েছেন তারা। এখন সমুদ্রে ইলিশ ধরা পড়লে সামনের দিনগুলো ধার-দেনা পরিশোধ করতে পারবে বলে আশা তাদের। আশা করছেন প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে।

পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্তু কুমার অপু জানান, সাগরে মাছসহ মূল্যবান প্রাণীজ সম্পদের ভাণ্ডার সুরক্ষায় চলতি বছরের ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। আজ থেকে ইলিশসহ অন্যান্য সব ধরনের মাছ শিকারে আর কোনো বাধা নেই।

জেলেদের নিরাপত্তার জন্য ফ্লাই জ্যাকেট ও বয়া নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের বিশেষ ভিজিএফের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাথরঘাটায় নিবন্ধিত ১১ হাজার ৪৩৮ জেলে এ সহায়তা পেয়েছে।

 
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন