কোরবানির গরু ‘যেন গলার কাঁটা’
jugantor
কোরবানির গরু ‘যেন গলার কাঁটা’

  সাজাহান সরকার, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি  

২৫ জুলাই ২০২০, ১৭:৫২:১২  |  অনলাইন সংস্করণ

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নে প্রায় ২০ হাজার গবাদিপশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করে পালিত হয়েছে। এতে ক্রেতাদের কোরবানির চাহিদা পূরণ হয়েও অনেক পশুই উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে মহামারী করোনাভাইরাস ও মারাত্মক বন্যার প্রভাবে গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে একদিকে লোকসানের মুখে খামারীরা, অপরদিকে গরুর ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন উপজেলার খামারীরা।

ধার-দেনায় বড় করা গরুগুলোকে বিক্রির চেষ্টা করছেন তারা। তবে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সেটা কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারীরা।

গোপালপুর গ্রামের খামারী আপলে মাহমুদ চৌধুরী ও মো. আল আমিন বলেন, ২৫টি ষাঁড় গরু নিয়ে বিপাকে আছি। গরুগুলো ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারলে হাফ ছেড়ে বাঁচি। বন্যা আর করোনাভাইরাসের প্রভাবে বাজার মন্দা যাচ্ছে। আর তাই গরুগুলো এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গরু ব্যবসায়ী আনছের আলী বলেন, প্রতিবছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গবাদিপশু কিনে সরাসরি কোরবানির হাটে বিক্রি করি। কিন্তু করোনার কারণে গরুর হাটও কেমন হবে, বাজার কেমন হবে, ক্রেতা সমাগম হবে কিনা, তা বুঝে উঠতে পারছি না।  

খামারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খামার থেকে গরু হাটে আনা অনেক কষ্টকর। গরুগুলো খামারে গরমের সময় ফ্যানের নিচে থাকে। তাই গরুগুলো হাটে আনার পর ভ্যাপসা গরমে অস্থির হয়ে পড়ার দুশচিন্তায় ভুগছেন বিক্রেতারা। হাটে তুলনামূলক বেপারীদের আনাগোনা খুবই কম ও হাঁক-ডাক নেই বললেই চলে। কোরবানির গরুর ন্যায্য দাম অনুযায়ী ক্রেতা না থাকায় তেমন বিক্রি হচ্ছে না। ফলে লোকসানের ঝুঁকিতেই রয়েছেন বলে জানালেন বেশিরভাগ খামারী।

সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ১ হাজার ৯০৮ জন গবাদিপশুর খামারী রয়েছেন। এ সব খামারে মোট গবাদিপশু আছে ১৯ হাজার ৮৩৭টি। এর মধ্যে ৯ হাজার ৪৯৭টি গরু ও ১০ হাজার ৩৪০টি ছাগল ও ভেড়া। এতে কোরবানির চাহিদা পূরণ হয়েও উদ্বৃত্ত থাকবে।

উপজেলার দেলুয়া গ্রামের খামারী ‘ভাগ্যরাজ’ খ্যাত বিরাটকায় গরুর মালিক ইতি আক্তার বলেন, খামারটিতে বিভিন্ন জাতের ১০টি গরু রয়েছে। এ সব গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঁচা ঘাস, খড়, খৈল, ভুট্টা ভাঙা, গমের ভূসি ও ধানের কুড়াসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক খাবার। তবে গত বছর আমার খামারের গরুর বেশ চাহিদাও ছিল। কিন্তু একদিকে করোনা মহামারী অন্যদিকে বন্যা হওয়ায় দু’চোখে অন্ধকার দেখছি।

উপজেলার হরগজ হাটের ইজারাদার ও হরগজ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন খান জ্যোতি জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটে সীমিত সংখ্যক খামারী ও ব্যাপারীসহ সাধারণ ক্রয়-বিক্রয়ে মানুষ আসছে। কিন্তু বিক্রির সংখ্যা কম হওয়াতে খামারী ও বিক্রেতারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

পাতিলাপাড়া গ্রামের খামারী আবদুস ছাত্তার ও খামারী রমজান আলী বলেন, এলাকা থেকে কোরবানির গরু কিনে হাটে বিক্রি করি। বাজার না বুঝে কিনতে সাহস পাচ্ছি না। নিজের বাডির আটটি গরু বিক্রি নিয়ে চরম অনিশ্চতায় আছি। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে এগুলো লালন-পালন করেছি। এগুলো বিক্রি করে ঠিকমতো ঋণ পরিশোধ করতে পারব কিনা তার জন্য দুশ্চিন্তায় আছি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনির হোসেন দৈনিক যুগান্তরকে বলেন, গরু মোটাতাজাকরণে প্রতিবছরই আমরা খামারীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেই, এবারও কোরবানির আগে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রায় বিশ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। করোনা আর বন্যার কারণে উপযুক্ত ক্রেতা না পেলে খামারীরা হতাশায় পড়বেন। অনলাইনে গবাদিপশুর বিক্রির বিষয়ে সবাইকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। 
 

কোরবানির গরু ‘যেন গলার কাঁটা’

 সাজাহান সরকার, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি 
২৫ জুলাই ২০২০, ০৫:৫২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নে প্রায় ২০ হাজার গবাদিপশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করে পালিত হয়েছে। এতে ক্রেতাদের কোরবানির চাহিদা পূরণ হয়েও অনেক পশুই উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে মহামারী করোনাভাইরাস ও মারাত্মক বন্যার প্রভাবে গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে একদিকে লোকসানের মুখে খামারীরা, অপরদিকে গরুর ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন উপজেলার খামারীরা।

ধার-দেনায় বড় করা গরুগুলোকে বিক্রির চেষ্টা করছেন তারা। তবে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সেটা কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারীরা।

গোপালপুর গ্রামের খামারী আপলে মাহমুদ চৌধুরী ও মো. আল আমিন বলেন, ২৫টি ষাঁড় গরু নিয়ে বিপাকে আছি। গরুগুলো ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারলে হাফ ছেড়ে বাঁচি। বন্যা আর করোনাভাইরাসের প্রভাবে বাজার মন্দা যাচ্ছে। আর তাই গরুগুলো এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গরু ব্যবসায়ী আনছের আলী বলেন, প্রতিবছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গবাদিপশু কিনে সরাসরি কোরবানির হাটে বিক্রি করি। কিন্তু করোনার কারণে গরুর হাটও কেমন হবে, বাজার কেমন হবে, ক্রেতা সমাগম হবে কিনা, তা বুঝে উঠতে পারছি না।

খামারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খামার থেকে গরু হাটে আনা অনেক কষ্টকর। গরুগুলো খামারে গরমের সময় ফ্যানের নিচে থাকে। তাই গরুগুলো হাটে আনার পর ভ্যাপসা গরমে অস্থির হয়ে পড়ার দুশচিন্তায় ভুগছেন বিক্রেতারা। হাটে তুলনামূলক বেপারীদের আনাগোনা খুবই কম ও হাঁক-ডাক নেই বললেই চলে। কোরবানির গরুর ন্যায্য দাম অনুযায়ী ক্রেতা না থাকায় তেমন বিক্রি হচ্ছে না। ফলে লোকসানের ঝুঁকিতেই রয়েছেন বলে জানালেন বেশিরভাগ খামারী।

সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ১ হাজার ৯০৮ জন গবাদিপশুর খামারী রয়েছেন। এ সব খামারে মোট গবাদিপশু আছে ১৯ হাজার ৮৩৭টি। এর মধ্যে ৯ হাজার ৪৯৭টি গরু ও ১০ হাজার ৩৪০টি ছাগল ও ভেড়া। এতে কোরবানির চাহিদা পূরণ হয়েও উদ্বৃত্ত থাকবে।

উপজেলার দেলুয়া গ্রামের খামারী ‘ভাগ্যরাজ’ খ্যাত বিরাটকায় গরুর মালিক ইতি আক্তার বলেন, খামারটিতে বিভিন্ন জাতের ১০টি গরু রয়েছে। এ সব গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঁচা ঘাস, খড়, খৈল, ভুট্টা ভাঙা, গমের ভূসি ও ধানের কুড়াসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক খাবার। তবে গত বছর আমার খামারের গরুর বেশ চাহিদাও ছিল। কিন্তু একদিকে করোনা মহামারী অন্যদিকে বন্যা হওয়ায় দু’চোখে অন্ধকার দেখছি।

উপজেলার হরগজ হাটের ইজারাদার ও হরগজ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন খান জ্যোতি জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটে সীমিত সংখ্যক খামারী ও ব্যাপারীসহ সাধারণ ক্রয়-বিক্রয়ে মানুষ আসছে। কিন্তু বিক্রির সংখ্যা কম হওয়াতে খামারী ও বিক্রেতারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

পাতিলাপাড়া গ্রামের খামারী আবদুস ছাত্তার ও খামারী রমজান আলী বলেন, এলাকা থেকে কোরবানির গরু কিনে হাটে বিক্রি করি। বাজার না বুঝে কিনতে সাহস পাচ্ছি না। নিজের বাডির আটটি গরু বিক্রি নিয়ে চরম অনিশ্চতায় আছি। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে এগুলো লালন-পালন করেছি। এগুলো বিক্রি করে ঠিকমতো ঋণ পরিশোধ করতে পারব কিনা তার জন্য দুশ্চিন্তায় আছি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনির হোসেন দৈনিক যুগান্তরকে বলেন, গরু মোটাতাজাকরণে প্রতিবছরই আমরা খামারীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেই, এবারও কোরবানির আগে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রায় বিশ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। করোনা আর বন্যার কারণে উপযুক্ত ক্রেতা না পেলে খামারীরা হতাশায় পড়বেন। অনলাইনে গবাদিপশুর বিক্রির বিষয়ে সবাইকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।