ভারতে পিটিয়ে হত্যা: ২ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তের পরও আসছে না লাশ
jugantor
ভারতে পিটিয়ে হত্যা: ২ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তের পরও আসছে না লাশ

  বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি  

২৭ জুলাই ২০২০, ১২:১১:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

পরিচয় শনাক্তের পরও ভারত থেকে আসছে না ২ বাংলাদেশির লাশ
ফাইল ছবি

ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত তিন বাংলাদেশি যুবকের মধ্যে দুজনের পরিচয় শনাক্তের সাত দিন পরও মরদেহ দেশে না আসায় স্বজনরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তরফ থেকে রোববার বিকাল পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) মরদেহের পরিচয় শনাক্তের তথ্য জানানো হয়নি। বাংলাদেশি বিভিন্ন মিডিয়ায় পরিচয় উদ্ধারের রেফারেন্স দিয়ে বিজিবিকে শেষমেষ চিঠি পাঠাবে বিএসএফ। সাড়া না পেলে বেওয়ারিশ হিসেবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করবে ভারত।

এদিকে ভারতে নিহত বড়লেখার অটোরিকশাচালক জুয়েল আহমদ ও নুনু মিয়ার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। এক সপ্তাহ আগে বিজিবি নিহতদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত মরদেহ ফিরিয়ে আনার তথ্য না পাওয়ায় দুই পরিবারে উদ্বেগ-আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা গেছে, ভারতের করিমগঞ্জ জেলার পাথারকান্দি ভুবরীঘাট চা বাগানে গত ১৮ জুলাই রাতে গরুচোর সন্দেহে বাগান শ্রমিকরা কয়েক ব্যক্তিকে আটক করে। গণপিটুনিতে এদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু ঘটে। বিএসএফ ও পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্তাব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তিন মৃতদেহের পকেটের নথিপত্র দেখে তারা বাংলাদেশি নাগরিক বলে নিশ্চিত হন।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করেন, মৃত ব্যক্তিরা মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জামকান্দি এলাকার বাসিন্দা। জুড়ী বিজিবি ও থানা পুলিশ জামকান্দি এলাকায় খোঁজ করেও বিএসএফের পাঠানো তথ্যমতে কাউকে পায়নি।

অবশেষে গত ২০ জুলাই বিকালে দুজনকে বড়লেখায় শনাক্ত করা হয়। এরা হলেন- বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে জুয়েল আহমদ (২৬) ও আকদ্দছ মিয়ার ছেলে নুনু মিয়া (৩২)। তারা সম্পর্কে চাচা ভাতিজা এবং পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক।
 
নিহত জুয়েল আহমদের ভাই রুবেল আহমদ ও সোহেল আহমদ সোমবার সকালে জানান, জুড়ী থানাপুলিশের দেয়া ছবি দেখে তারা জুয়েল ও নুনুকে চিনতে পারেন। মরদেহ আনার ব্যাপারে গত ২০ জুলাই বিজিবির লাঠিটিলা ক্যাম্পে গিয়ে তাদের এনআইডি কার্ড, ছবি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাগজপত্র জমা দেন।

সাত দিন অতিবাহিত হলেও বিজিবি তাদের কিছুই জানাচ্ছে না। তাদের ভাই ও চাচার মরদেহ দেশে ফেরা নিয়ে মারাত্মক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
 
গত ২৪ জুলাই ভারতের একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদসূত্রে জানা গেছে, সাত দিন আগে দুই বাংলাদেশির মরদেহের পরিচয় উদ্ধার হলেও বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী (বিজিবি) বাহিনীর পক্ষ থেকে বিএসএফকে পরিচয় পাওয়ার তথ্য দেয়া হয়নি।

গত ছয় দিনে চারবার দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই মরদেহের পরিচয় পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। বাংলাদেশি বিভিন্ন মিডিয়ায় মরদেহের পরিচয় উদ্ধারের রেফারেন্স দিয়ে বিজিবিকে শেষমেষ চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসএফ।

বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গাজী শহীদুল্লাহ জানান, পরিচয় শনাক্ত দুই বাংলাদেশির মরদেহের নাম-ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনেক আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে পাঠানো হয়েছে।

ভারতে পিটিয়ে হত্যা: ২ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তের পরও আসছে না লাশ

 বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 
২৭ জুলাই ২০২০, ১২:১১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পরিচয় শনাক্তের পরও ভারত থেকে আসছে না ২ বাংলাদেশির লাশ
ফাইল ছবি

ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত তিন বাংলাদেশি যুবকের মধ্যে দুজনের পরিচয় শনাক্তের সাত দিন পরও মরদেহ দেশে না আসায় স্বজনরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তরফ থেকে রোববার বিকাল পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) মরদেহের পরিচয় শনাক্তের তথ্য জানানো হয়নি। বাংলাদেশি বিভিন্ন মিডিয়ায় পরিচয় উদ্ধারের রেফারেন্স দিয়ে বিজিবিকে শেষমেষ চিঠি পাঠাবে বিএসএফ। সাড়া না পেলে বেওয়ারিশ হিসেবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করবে ভারত।

এদিকে ভারতে নিহত বড়লেখার অটোরিকশাচালক জুয়েল আহমদ ও নুনু মিয়ার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। এক সপ্তাহ আগে বিজিবি নিহতদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত মরদেহ ফিরিয়ে আনার তথ্য না পাওয়ায় দুই পরিবারে উদ্বেগ-আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা গেছে, ভারতের করিমগঞ্জ জেলার পাথারকান্দি ভুবরীঘাট চা বাগানে গত ১৮ জুলাই রাতে গরুচোর সন্দেহে বাগান শ্রমিকরা কয়েক ব্যক্তিকে আটক করে। গণপিটুনিতে এদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু ঘটে। বিএসএফ ও পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্তাব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তিন মৃতদেহের পকেটের নথিপত্র দেখে তারা বাংলাদেশি নাগরিক বলে নিশ্চিত হন।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করেন, মৃত ব্যক্তিরা মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জামকান্দি এলাকার বাসিন্দা। জুড়ী বিজিবি ও থানা পুলিশ জামকান্দি এলাকায় খোঁজ করেও বিএসএফের পাঠানো তথ্যমতে কাউকে পায়নি।

অবশেষে গত ২০ জুলাই বিকালে দুজনকে বড়লেখায় শনাক্ত করা হয়। এরা হলেন- বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে জুয়েল আহমদ (২৬) ও আকদ্দছ মিয়ার ছেলে নুনু মিয়া (৩২)। তারা সম্পর্কে চাচা ভাতিজা এবং পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক।

নিহত জুয়েল আহমদের ভাই রুবেল আহমদ ও সোহেল আহমদ সোমবার সকালে জানান, জুড়ী থানাপুলিশের দেয়া ছবি দেখে তারা জুয়েল ও নুনুকে চিনতে পারেন। মরদেহ আনার ব্যাপারে গত ২০ জুলাই বিজিবির লাঠিটিলা ক্যাম্পে গিয়ে তাদের এনআইডি কার্ড, ছবি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাগজপত্র জমা দেন।

সাত দিন অতিবাহিত হলেও বিজিবি তাদের কিছুই জানাচ্ছে না। তাদের ভাই ও চাচার মরদেহ দেশে ফেরা নিয়ে মারাত্মক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

গত ২৪ জুলাই ভারতের একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদসূত্রে জানা গেছে, সাত দিন আগে দুই বাংলাদেশির মরদেহের পরিচয় উদ্ধার হলেও বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী (বিজিবি) বাহিনীর পক্ষ থেকে বিএসএফকে পরিচয় পাওয়ার তথ্য দেয়া হয়নি।

গত ছয় দিনে চারবার দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই মরদেহের পরিচয় পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। বাংলাদেশি বিভিন্ন মিডিয়ায় মরদেহের পরিচয় উদ্ধারের রেফারেন্স দিয়ে বিজিবিকে শেষমেষ চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসএফ।

বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গাজী শহীদুল্লাহ জানান, পরিচয় শনাক্ত দুই বাংলাদেশির মরদেহের নাম-ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনেক আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে পাঠানো হয়েছে।

 
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন