অচল সড়ক সচল করলেন কৃষিবিদ লিটন
jugantor
অচল সড়ক সচল করলেন কৃষিবিদ লিটন

  গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি  

২৭ জুলাই ২০২০, ২২:১৯:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

গৌরিপুর
এলাকাবাসীকে মুক্তি দিতে চলছে ইটের সলিং কার্যক্রম। যুগান্তর

অচল সড়ককে এবার ব্যক্তিগত উদ্যোগে সচল করে দিচ্ছেন কৃষিবিদ ডক্টর সামীউল আলম লিটন। প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের জন্য ১৫ হাজার মানুষ দুর্ভোগের শিকার হন। এ থেকে এবার এলাকাবাসীকে মুক্তি দিতে চলছে ইটের সলিং কার্যক্রম।

বারুয়ামারী গ্রামের সামছ উদ্দিন মিয়ার পুত্র লাল মিয়া জানান, কর্দমাক্ত রাস্তার ভাঙনে খান্দা-খন্দকে সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী। রাতে মানুষ মারা গেলেও কেউ বাইরে যেতে পারেন না।

কৃষক আবুল হাসিম বলেন, ধান-চাল নিয়ে বাজারে যাওয়া যাচ্ছে না। চরাঞ্চলের মানুষের প্রধান পেশা হল সবজি চাষ। আগে সকালে ভ্যান এসে সবজি নিয়ে যেত, রাস্তা খারাপের জন্য ভ্যান আসে না। আমরাও নিয়ে যেতে পারছি না।
দুর্ভোগে থাকা এসব মানুষকে মুক্তি দেয়ার জন্য এগিয়ে এসেছেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ ডক্টর সামীউল আলম লিটন। তিনি জানান, রাস্তাটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। এলাকাবাসী চরম কষ্টে আছেন। তাদের এ কষ্ট দূরীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছি। রাস্তা মেরামতে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। তিনি আরও জানান, সামনে ঈদুল আজহা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকীর নানা কর্মসূচি আছে। এ কাজটিও মুজিবভক্তদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে, অন্যদের মাঝেও অনুপ্রেরাণা জোগাবে।
বারুয়ামারী গ্রামের আব্দুল জব্বার জানান, নির্মাণ কাজ শেষ হলে স্বস্তি ফিরে পাবেন সাত গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এ ইউনিয়নের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত হয় ভাংনামারী ঈদগাহে। সেখানে বারুয়ামারী, খানপাড়া, দুর্বারচর, লক্ষীপুর, ভাংনামারী, সুতিয়ারপাড় ও চরঘোড়ামারার লোকজন আসেন। এখানে আসার একমাত্র সড়ক এটি। জেলা বা উপজেলা সদরে যাওয়ার বিকল্প কোনো সড়ক নেই। সড়কটি মেরামত হলে এলাকাবাসীর কাছে ঈদের উপহার হবে এটি, যোগ হবে নুতন আনন্দ।

এ মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন খানপাড়ার আবুল হাসিম (৬৫)। তিনি জানান, বর্ষাকালে এ রাস্তার কারণে জুতা পরতে পারি নাই- এবার জুতা পা দিয়ে ঘরে যাব।

বারুয়ামারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসী জানায়, কতজনের বই-খাতা যে গর্তে পড়েছে তার হিসাব নেই। 

রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানায় বারুয়ামারী গ্রামের কলেজপড়ুয়া নুরুল ইসলাম। তার কথায়- লিটন ভাই মহৎ কাজ করেছেন আমাদের জন্য। তবে রাস্তাটি পাকাকরণ প্রয়োজন। এ গ্রামের বাসিন্দা ছাত্রনেতা জিয়ারুল ইসলাম ছোটন জানান, চরাঞ্চলের মানুষের এ দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানও প্রয়োজন। এ মুহূর্তে মেরামত না হলে এবারের ঈদে আত্মীয়স্বজন বাড়িতে আসার উপায় ছিল না।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সালেহ মোহাম্মদ ওয়াহেদুল হক জানান, এ সড়কটি নতুন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া গেলে এক বছরের মধ্যে রাস্তাটি পাকাকরণ করা হবে।
 

অচল সড়ক সচল করলেন কৃষিবিদ লিটন

 গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
২৭ জুলাই ২০২০, ১০:১৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
গৌরিপুর
এলাকাবাসীকে মুক্তি দিতে চলছে ইটের সলিং কার্যক্রম। যুগান্তর

অচল সড়ককে এবার ব্যক্তিগত উদ্যোগে সচল করে দিচ্ছেন কৃষিবিদ ডক্টর সামীউল আলম লিটন। প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের জন্য ১৫ হাজার মানুষ দুর্ভোগের শিকার হন। এ থেকে এবার এলাকাবাসীকে মুক্তি দিতে চলছে ইটের সলিং কার্যক্রম।

বারুয়ামারী গ্রামের সামছ উদ্দিন মিয়ার পুত্র লাল মিয়া জানান, কর্দমাক্ত রাস্তার ভাঙনে খান্দা-খন্দকে সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী। রাতে মানুষ মারা গেলেও কেউ বাইরে যেতে পারেন না।

কৃষক আবুল হাসিম বলেন, ধান-চাল নিয়ে বাজারে যাওয়া যাচ্ছে না। চরাঞ্চলের মানুষের প্রধান পেশা হল সবজি চাষ। আগে সকালে ভ্যান এসে সবজি নিয়ে যেত, রাস্তা খারাপের জন্য ভ্যান আসে না। আমরাও নিয়ে যেতে পারছি না।
দুর্ভোগে থাকা এসব মানুষকে মুক্তি দেয়ার জন্য এগিয়ে এসেছেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ ডক্টর সামীউল আলম লিটন। তিনি জানান, রাস্তাটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। এলাকাবাসী চরম কষ্টে আছেন। তাদের এ কষ্ট দূরীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছি। রাস্তা মেরামতে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। তিনি আরও জানান, সামনে ঈদুল আজহা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকীর নানা কর্মসূচি আছে। এ কাজটিও মুজিবভক্তদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে, অন্যদের মাঝেও অনুপ্রেরাণা জোগাবে।
বারুয়ামারী গ্রামের আব্দুল জব্বার জানান, নির্মাণ কাজ শেষ হলে স্বস্তি ফিরে পাবেন সাত গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এ ইউনিয়নের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত হয় ভাংনামারী ঈদগাহে। সেখানে বারুয়ামারী, খানপাড়া, দুর্বারচর, লক্ষীপুর, ভাংনামারী, সুতিয়ারপাড় ও চরঘোড়ামারার লোকজন আসেন। এখানে আসার একমাত্র সড়ক এটি। জেলা বা উপজেলা সদরে যাওয়ার বিকল্প কোনো সড়ক নেই। সড়কটি মেরামত হলে এলাকাবাসীর কাছে ঈদের উপহার হবে এটি, যোগ হবে নুতন আনন্দ।

এ মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন খানপাড়ার আবুল হাসিম (৬৫)। তিনি জানান, বর্ষাকালে এ রাস্তার কারণে জুতা পরতে পারি নাই- এবার জুতা পা দিয়ে ঘরে যাব।

বারুয়ামারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসী জানায়, কতজনের বই-খাতা যে গর্তে পড়েছে তার হিসাব নেই।

রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানায় বারুয়ামারী গ্রামের কলেজপড়ুয়া নুরুল ইসলাম। তার কথায়- লিটন ভাই মহৎ কাজ করেছেন আমাদের জন্য। তবে রাস্তাটি পাকাকরণ প্রয়োজন। এ গ্রামের বাসিন্দা ছাত্রনেতা জিয়ারুল ইসলাম ছোটন জানান, চরাঞ্চলের মানুষের এ দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানও প্রয়োজন। এ মুহূর্তে মেরামত না হলে এবারের ঈদে আত্মীয়স্বজন বাড়িতে আসার উপায় ছিল না।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সালেহ মোহাম্মদ ওয়াহেদুল হক জানান, এ সড়কটি নতুন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া গেলে এক বছরের মধ্যে রাস্তাটি পাকাকরণ করা হবে।