কাশিমপুরে ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

  আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি ২৮ জুলাই ২০২০, ১৩:১৬:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি: যুগান্তর

সাভারের আশুলিয়ার সীমানাঘেঁষা চক্রবর্তী এলাকার অধিকাংশ বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। এসব এলাকার মানুষ অধিকাংশই পোশাক শ্রমিক।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, চক্রবর্তী এলাকার অনেক ঘরবাড়িতে কোমর সমান পানি উঠেছে। হাজার হাজার শ্রমিক নিজ বাসা ছেড়ে স্থানীয় আলী হোসেন দেওয়ানের একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে পানিবন্দি বেক্সিমকো গ্রুপের চাকরিজীবী মিলন হোসেন বলেন, প্রায় সপ্তাহব্যাপী তারা পানিবন্দি। তার ভাড়াকৃত কক্ষের মধ্যে কোমর সমান পানি। এতদিন চৌকির নিচে বাঁশ দিয়ে ভেলায় চড়ে বসবাস করছেন তারা। বর্তমানে সেখানে আর থাকার মতো পরিবেশন নেই।

তাদের সেই কলোনিতে প্রায় ৬০টির অধিক পরিবার চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।

হকার আনোয়ার বলেন, তারা চক্রবর্তী এলাকার হাজী আলী হোসেন দেওয়ানের ভাড়াকৃত কলোনিতে বসবাস করতেন। বৃষ্টির পানি ও পোশাক কারখানাগুলোর ডাইংয়ের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এলাকা তলিয়ে গেছে। দুর্গন্ধময় পানিতে এলাকার ১০ হাজারেরও বেশি লোকা চরম দুর্ভোগ ও অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছেন।

এসব পানিবন্দি মানুষ বর্তমানে হাজী আলী হোসেনের নির্মাণাধীন একটি ভবনে রাতযাপন করছেন। তারা নিজস্ব তত্ত্বাবধানে রান্না করা খাবার খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সেখানে প্রায় দুই শতাধিক লোকের খাবারের প্রতিদিন ব্যবস্থা হয়।

একে করোনাকাল তার ওপর জলাবদ্ধতা; এ অবস্থায় তারা এলাকার অন্য কোথাও ভাড়া নিতে পারছেন না। এ অবস্থায় কষ্ট করে হলেও তাদের করোনাকালে এ মহামারীতে সামাজিক দূরত্ব না মেনেই তাদের থাকতে হচ্ছে।

একই অবস্থা সম্পর্কে ওই কলোনির পারভিন, শেফালী ও মুক্তসহ অনেকেই জানালেন তাদের এ কষ্টের কথা।

এ জন্য সরকারের কাছে এসব ভুক্তভোগীর জন্য ত্রাণ সাহায্য দ্রুত দরকার বলেও তিনি জানান।

সেখানে জনপ্রতিনিধিরা কেউ এখন পর্যন্ত পরিদর্শনে আসেননি। অবিলম্বে বিত্তশালী ও সরকারকে পানিবন্দি মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ জানান হয়।

স্থানীয় হাজী আলী হোসেন দেওয়ান বলেন, প্রতি বছর তিনি দেড় থেকে দুই লাখ টাকা ব্যয়ে কোরবানির জন্য গরু ক্রয় করেন। এ বছর তিনি কোরবানি দেবেন না। সে টাকা এসব অসহায় পানিবন্দি লোকের জন্য খরচ করবেন।

প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে এসব পানিবন্দি লোকের থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা চালিয়ে আসছেন। আরও সপ্তাহখানেক তিনি এদের খাওয়াতে পারবেন।

প্রায় দুই শতাধিক লোকের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করলেও এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব অসহায় লোকের জন্য এলাকার বিত্তশালীরা সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে আসছেন, যা যথেষ্ট নয়। এই পানিবন্দি লোকদের জন্য সরকারি ত্রাণ বা সহযোগিতা দরকার বলে তিনি মনে করেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: jugantor.mail@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত