গণধোলাইয়ে নিহত ৩ বাংলাদেশির শেষকৃত্য হল ভারতে
jugantor
গণধোলাইয়ে নিহত ৩ বাংলাদেশির শেষকৃত্য হল ভারতে

  বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি  

২৮ জুলাই ২০২০, ২২:১২:৪১  |  অনলাইন সংস্করণ

ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে গণধোলাইয়ে নিহত ৩ বাংলাদেশি যুবকের লাশ উদ্ধারের ৮ দিনের মাথায় বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দাফন করেছে করিমগঞ্জ জেলা পুলিশ।

এ সময়ে বিএসএফ-বিজিবির মধ্যে ৪বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২ লাশের পরিচয় উদ্ধারের পরও বিজিবি লাশ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করায় সোমবার সন্ধ্যায় আসামের করিমগঞ্জ জেলা পুলিশ একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ৩ লাশের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

তবে ৫২ বিজিবি বলেছে, এ ব্যাপারে বিএসএফ তাদেরকে কিছুই জানায়নি।

২০ জুলাই রাতে দুইজনের পরিচয় শনাক্তের পর তাদের লাশ দেশে আনতে বিজিবির নিকট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয় নিহতদের স্বজনরা। কিন্তু ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে লাশ গ্রহণে বিজিবির অনীহা প্রকাশ, বিএসএফের নিকট পরিচয় পাওয়ার তথ্য গোপন ও বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দাফনের প্রাপ্ত খবরে ক্ষোভের আগুনে পুড়ছে নিহতদের পরিবার-পরিজনসহ গোটা এলাকাবাসী। তারা সরকারের প্রতি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানান।

জানা গেছে, ভারতের করিমগঞ্জের পাথারকান্দি ভুবরীঘাট চা বাগানে গত ১৮ জুলাই রাতে গরুচোর সন্দেহে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে ৩ বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু ঘটে। বিএসএফ ও পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিরা প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করেন মৃত ব্যক্তিরা বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার জামকান্দি এলাকার বাসিন্দা। জুড়ী বিজিবি ও থানা পুলিশ জামকান্দি এলাকায় খোঁজ করেও বিএসএফের পাঠানো তথ্যমতে কাউকে পায়নি।

অবশেষে ২০ জুলাই দুইজনকে বড়লেখায় শনাক্ত করা হয়। তারা হল উপজেলার তালিমপুর ইউপির কাঞ্চনপুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে জুয়েল আহমদ (২৬) ও আকদ্দছ মিয়ার ছেলে নুনু মিয়া (৩২)। তারা পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক। এরপরই নিহতদের স্বজনরা লাশ আনতে তৎপর হন।

ওই রাতেই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সত্যায়িত কাগজপত্র জমা দেন বিজিবির লাঠিটিলা ক্যাম্পে। এরপর থেকেই স্বজনরা লাশের অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকেন। ৮ দিনের মাথায় মঙ্গলবার জানতে পারেন বিজিবি লাশ গ্রহণে অস্বীকার করায় ভারত সরকার সোমবার সন্ধ্যায় বেওয়ারিশ হিসেবে ৩ লাশের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছে। এতে দুই লাশের পরিবার-পরিজনসহ এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

তালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ কান্তি দাস জানান, ২০ জুলাই তিনি ২ লাশের পরিচয় শনাক্তের বিষয় বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ককে জানান। লাশ আনার জন্য নিহতদের স্বজন সোহেল আহমদ ও রুবেল আহমদ বিজিবির লাঠিটিলা ক্যাম্পে এনআইডি কার্ড, ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে আসেন। তারা লাশ দেশে ফেরার প্রহর গুনছিলেন। এর মধ্যে বেওয়ারিশ হিসেবে ভারতে লাশ দাফনের খবরে দুই পরিবারের সদস্যরা মারাত্মকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন।

নিহত জুয়েল আহমদের ভাই রুবেল আহমদ ও সোহেল আহমদ জানান, ছবি দেখে জুয়েল ও নুনুকে শনাক্ত করার পর তাদের লাশ আনার জন্য ২০ জুলাই বিজিবির লাঠিটিলা ক্যাম্পে এনআইডি কার্ড, ছবি ও ইউপি চেয়ারম্যানের কাগজপত্র জমা দেই। ৮ দিনের মাথায় শুনা যায় বিজিবি লাশের পরিচয় পাওয়ার তথ্য গোপন করায় সোমবার সন্ধ্যায় বিএসএফ বেওয়ারিশ হেসেবে লাশগুলো সেখানে মাটিচাপা দিয়েছে। তারা সরকারের প্রতি এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গাজী শহীদুল্লাহ জানান, ভারতে বেওয়ারিশ হিসেবে ৩ বাংলাদেশির লাশের শেষকৃত্য সম্পন্নের বিষয়টি বিএসএফ তাদেরকে (বিজিবি) জানায়নি।

গণধোলাইয়ে নিহত ৩ বাংলাদেশির শেষকৃত্য হল ভারতে

 বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 
২৮ জুলাই ২০২০, ১০:১২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে গণধোলাইয়ে নিহত ৩ বাংলাদেশি যুবকের লাশ উদ্ধারের ৮ দিনের মাথায় বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দাফন করেছে করিমগঞ্জ জেলা পুলিশ।

এ সময়ে বিএসএফ-বিজিবির মধ্যে ৪বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২ লাশের পরিচয় উদ্ধারের পরও বিজিবি লাশ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করায় সোমবার সন্ধ্যায় আসামের করিমগঞ্জ জেলা পুলিশ একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ৩ লাশের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

তবে ৫২ বিজিবি বলেছে, এ ব্যাপারে বিএসএফ তাদেরকে কিছুই জানায়নি।   

২০ জুলাই রাতে দুইজনের পরিচয় শনাক্তের পর তাদের লাশ দেশে আনতে বিজিবির নিকট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয় নিহতদের স্বজনরা। কিন্তু ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে লাশ গ্রহণে বিজিবির অনীহা প্রকাশ, বিএসএফের নিকট পরিচয় পাওয়ার তথ্য গোপন ও বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দাফনের প্রাপ্ত খবরে ক্ষোভের আগুনে পুড়ছে নিহতদের পরিবার-পরিজনসহ গোটা এলাকাবাসী। তারা সরকারের প্রতি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানান। 

জানা গেছে, ভারতের করিমগঞ্জের পাথারকান্দি ভুবরীঘাট চা বাগানে গত ১৮ জুলাই রাতে গরুচোর সন্দেহে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে ৩ বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু ঘটে। বিএসএফ ও পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিরা প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করেন মৃত ব্যক্তিরা বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার জামকান্দি এলাকার বাসিন্দা। জুড়ী বিজিবি ও থানা পুলিশ জামকান্দি এলাকায় খোঁজ করেও বিএসএফের পাঠানো তথ্যমতে কাউকে পায়নি।

অবশেষে ২০ জুলাই দুইজনকে বড়লেখায় শনাক্ত করা হয়। তারা হল উপজেলার তালিমপুর ইউপির কাঞ্চনপুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে জুয়েল আহমদ (২৬) ও আকদ্দছ মিয়ার ছেলে নুনু মিয়া (৩২)। তারা পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক। এরপরই নিহতদের স্বজনরা লাশ আনতে তৎপর হন।

ওই রাতেই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সত্যায়িত কাগজপত্র জমা দেন বিজিবির লাঠিটিলা ক্যাম্পে। এরপর থেকেই স্বজনরা লাশের অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকেন। ৮ দিনের মাথায় মঙ্গলবার জানতে পারেন বিজিবি লাশ গ্রহণে অস্বীকার করায় ভারত সরকার সোমবার সন্ধ্যায় বেওয়ারিশ হিসেবে ৩ লাশের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছে। এতে দুই লাশের পরিবার-পরিজনসহ এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।    

তালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ কান্তি দাস জানান, ২০ জুলাই তিনি ২ লাশের পরিচয় শনাক্তের বিষয় বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ককে জানান। লাশ আনার জন্য নিহতদের স্বজন সোহেল আহমদ ও রুবেল আহমদ বিজিবির লাঠিটিলা ক্যাম্পে এনআইডি কার্ড, ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে আসেন। তারা লাশ দেশে ফেরার প্রহর গুনছিলেন। এর মধ্যে বেওয়ারিশ হিসেবে ভারতে লাশ দাফনের খবরে দুই পরিবারের সদস্যরা মারাত্মকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন।  

নিহত জুয়েল আহমদের ভাই রুবেল আহমদ ও সোহেল আহমদ জানান, ছবি দেখে জুয়েল ও নুনুকে শনাক্ত করার পর তাদের লাশ আনার জন্য ২০ জুলাই বিজিবির লাঠিটিলা ক্যাম্পে এনআইডি কার্ড, ছবি ও ইউপি চেয়ারম্যানের কাগজপত্র জমা দেই। ৮ দিনের মাথায় শুনা যায় বিজিবি লাশের পরিচয় পাওয়ার তথ্য গোপন করায় সোমবার সন্ধ্যায় বিএসএফ বেওয়ারিশ হেসেবে লাশগুলো সেখানে মাটিচাপা দিয়েছে। তারা সরকারের প্রতি এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গাজী শহীদুল্লাহ জানান, ভারতে বেওয়ারিশ হিসেবে ৩ বাংলাদেশির লাশের শেষকৃত্য সম্পন্নের বিষয়টি বিএসএফ তাদেরকে (বিজিবি) জানায়নি।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন