রডের বদলে বাঁশ, প্রকাশ্যে ভবন ভেঙ্গে নিয়ে গেলেন ঠিকাদার
jugantor
রডের বদলে বাঁশ, প্রকাশ্যে ভবন ভেঙ্গে নিয়ে গেলেন ঠিকাদার

  আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি  

২৮ জুলাই ২০২০, ২২:২৪:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি (টুনি) দিয়ে আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করেন সাবেক ছাত্রলীগ আহ্বায়ক ঠিকাদার নুরুজামাল। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার ঠিকাদার প্রকাশ্যে তার লোকজন দিয়ে ভবন ভেঙ্গে বাঁশের কঞ্চি সরিয়ে নিয়েছেন।

ভবন ভেঙ্গে বাঁশের কঞ্চি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখেছেন বিদ্যালয় এলাকার শত-শত মানুষ। স্থানীয়রা রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণকারী ঠিকাদার নুরজামালকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করেছেন।

জানা গেছে, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর আমতলীর বৈঠাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণের জন্য ২০১৫ সালে দরপত্র আহ্বান করে। ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই কাজ পায় আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ঠিকাদার নুরজামাল।

ব্লক নির্মাণের শুরুতেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শুরু করেন নুরজামাল। কাজের শুরুতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এতে বাঁধা দেয়। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বাঁধা উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদার নুরজামাল কাজ করেন। তার ভয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ দেখভাল করতে পারেনি।

তৎকালীন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমের সঙ্গে আঁতাত করে ঠিকাদার নিজের ইচ্ছা মাফিক রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি (টুনি) দিয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করেছেন। ২০১৭ সালে ওই কাজ শেষ হয়। ওই সময়ে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোসা. সুলতানা রাজিয়ার কাছে প্রত্যায়ন চায়। কিন্তু কাজের মান ভালো না হওয়ায় তিনি প্রত্যায়ন দেননি এমন দাবি প্রধান শিক্ষকের।

ওয়াশ ব্লক নির্মাণের তিন বছরের মাথায় ল্যাট্রিন ও ওয়ালে ফাটল ধরে। ওই ফাটল মেরামতের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এ বছর ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। শনিবার ওই ওয়াশ ব্লকের মেরামতের কাজ শুরু করেন রাজ মিস্ত্রি সুলতান হাওলাদার। কাজের শুরু শুরুতেই ওয়াশ ব্লকের ল্যাট্রিন ও ওয়াল ভেঙ্গে পড়ে। এর পরই ল্যাট্রিন থেকে বেড়িয়ে আসে রডের বদলে বাঁশের কাঞ্চি।

তাৎক্ষণিক রাজ মিস্ত্রি সুলতান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয়দের খবর দেন। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মজিবুর রহমানকে জানান শিক্ষকরা। রোববার বিকালে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মজিবুর রহমান বিদ্যালয় ভাঙ্গা ওয়াশ ব্লক পরিদর্শন করেন। খবর পেয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম ও ঠিকাদার নুরজামাল গিয়ে ভাঙ্গা ওয়াশ ব্লক থেকে বাঁশের কঞ্চির ল্যাট্রিন ও কঞ্চি সরিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এ সময় স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন তারা। এ খবর বিভিন্ন মহল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার ঠিকাদার নুরজামাল নিজেকে আড়াল করতে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তার লোকজন দিয়ে ওয়াশ ব্লকের অবশিষ্টাংশ ভেঙ্গে বাঁশের কঞ্চি বের করে নিয়ে যান। ঠিকাদারের এমন দৃশ্য অবলোকন করেছেন স্থানীয় শত-শত মানুষ। তারা ঠিকাদার নুরজামালের বিচার দাবি করেছেন।

স্থানীয় মুরাদ খান, দেলোয়ার হোসেন ও এনামুল খান বলেন, ঠিকাদার নুরজামাল নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তার লোকজন দিয়ে ওয়াশ ব্লকের অবশিষ্টাংশ ভেঙ্গে বাঁশ বের করে নিয়ে গেছেন। ঠিকাদারের এমন অপকর্মের বিচার দাবি করছি।

বিদ্যালয় দফতরি মো. শাওন খলিফা বলেন, প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম ও ঠিকাদার নুরজামাল এসে বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা ভেঙ্গে পড়া ল্যাট্রিন সরিয়ে ফেলেছেন। আমি নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা শুনেনি। পরে গোপনে আমি ভাঙ্গা ল্যাট্রিনের দুইটি টুকরা লুকিয়ে রেখেছি।

রাজ মিস্ত্রি মো. সুলতান হাওলাদার বলেন, মেরামতের কাজ শুরু করা মাত্রই ওয়াশ ব্লকের ল্যাট্রিন ও ওয়াল ভেঙ্গে পড়লে বাঁশের কাঞ্চি দেখতে পাই। ধারণা করা হচ্ছে ওয়াশ ব্লকের ছাদ ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করেছে।

বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোসা. সুলতানা রাজিয়া বলেন, ঠিকাদার নুরজামাল নিজেকে রক্ষায় নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তার লোকজন দিয়ে ওয়াশ ব্লক ভেঙ্গে বাঁশের কঞ্চি বের করে নিয়ে গেছেন। আমি তাকে নিষেধ করেছি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ভবন ভাঙ্গতে পারেন না কিন্তু তিনি আমার কথা শুনেনি।

রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণের কথা অস্বীকার করে ঠিকাদার নুরজামাল বলেন, আমাকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। নতুন করে মেরামতের জন্য ওয়াশ ব্লক ভেঙ্গেছি।

আমতলী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ভবন ভেঙ্গে বাঁশ বের করে নিয়ে গেছে তা আমার জানা নেই। তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মুজিবুর রহমান বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঠিকাদার রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করেছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, আমি শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রডের বদলে বাঁশ, প্রকাশ্যে ভবন ভেঙ্গে নিয়ে গেলেন ঠিকাদার

 আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি 
২৮ জুলাই ২০২০, ১০:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি (টুনি) দিয়ে আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করেন সাবেক ছাত্রলীগ আহ্বায়ক ঠিকাদার নুরুজামাল। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার ঠিকাদার প্রকাশ্যে তার লোকজন দিয়ে ভবন ভেঙ্গে বাঁশের কঞ্চি সরিয়ে নিয়েছেন।

ভবন ভেঙ্গে বাঁশের কঞ্চি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখেছেন বিদ্যালয় এলাকার শত-শত মানুষ। স্থানীয়রা রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণকারী ঠিকাদার নুরজামালকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করেছেন।

জানা গেছে, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর আমতলীর বৈঠাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণের জন্য ২০১৫ সালে দরপত্র আহ্বান করে। ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই কাজ পায় আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ঠিকাদার নুরজামাল।

ব্লক নির্মাণের শুরুতেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শুরু করেন নুরজামাল। কাজের শুরুতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এতে বাঁধা দেয়। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বাঁধা উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদার নুরজামাল কাজ করেন। তার ভয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ দেখভাল করতে পারেনি।

তৎকালীন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমের সঙ্গে আঁতাত করে ঠিকাদার নিজের ইচ্ছা মাফিক রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি (টুনি) দিয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করেছেন। ২০১৭ সালে ওই কাজ শেষ হয়। ওই সময়ে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোসা. সুলতানা রাজিয়ার কাছে প্রত্যায়ন চায়। কিন্তু কাজের মান ভালো না হওয়ায় তিনি প্রত্যায়ন দেননি এমন দাবি প্রধান শিক্ষকের।

ওয়াশ ব্লক নির্মাণের তিন বছরের মাথায় ল্যাট্রিন ও ওয়ালে ফাটল ধরে। ওই ফাটল মেরামতের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এ বছর ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। শনিবার ওই ওয়াশ ব্লকের মেরামতের কাজ শুরু করেন রাজ মিস্ত্রি সুলতান হাওলাদার। কাজের শুরু শুরুতেই ওয়াশ ব্লকের ল্যাট্রিন ও ওয়াল ভেঙ্গে পড়ে। এর পরই ল্যাট্রিন থেকে বেড়িয়ে আসে রডের বদলে বাঁশের কাঞ্চি।

তাৎক্ষণিক রাজ মিস্ত্রি সুলতান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয়দের খবর দেন। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মজিবুর রহমানকে জানান শিক্ষকরা। রোববার বিকালে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মজিবুর রহমান বিদ্যালয় ভাঙ্গা ওয়াশ ব্লক পরিদর্শন করেন। খবর পেয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম ও ঠিকাদার নুরজামাল গিয়ে ভাঙ্গা ওয়াশ ব্লক থেকে বাঁশের কঞ্চির ল্যাট্রিন ও কঞ্চি সরিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এ সময় স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন তারা। এ খবর বিভিন্ন মহল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার ঠিকাদার নুরজামাল নিজেকে আড়াল করতে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তার লোকজন দিয়ে ওয়াশ ব্লকের অবশিষ্টাংশ ভেঙ্গে বাঁশের কঞ্চি বের করে নিয়ে যান। ঠিকাদারের এমন দৃশ্য অবলোকন করেছেন স্থানীয় শত-শত মানুষ। তারা ঠিকাদার নুরজামালের বিচার দাবি করেছেন।

স্থানীয় মুরাদ খান, দেলোয়ার হোসেন ও এনামুল খান বলেন, ঠিকাদার নুরজামাল নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তার লোকজন দিয়ে ওয়াশ ব্লকের অবশিষ্টাংশ ভেঙ্গে বাঁশ বের করে নিয়ে গেছেন। ঠিকাদারের এমন অপকর্মের বিচার দাবি করছি।

বিদ্যালয় দফতরি মো. শাওন খলিফা বলেন, প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম ও ঠিকাদার নুরজামাল এসে বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা ভেঙ্গে পড়া ল্যাট্রিন সরিয়ে ফেলেছেন। আমি নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা শুনেনি। পরে গোপনে আমি ভাঙ্গা ল্যাট্রিনের দুইটি টুকরা লুকিয়ে রেখেছি।

রাজ মিস্ত্রি মো. সুলতান হাওলাদার বলেন, মেরামতের কাজ শুরু করা মাত্রই ওয়াশ ব্লকের ল্যাট্রিন ও ওয়াল ভেঙ্গে পড়লে বাঁশের কাঞ্চি দেখতে পাই। ধারণা করা হচ্ছে ওয়াশ ব্লকের ছাদ ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করেছে।

বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোসা. সুলতানা রাজিয়া বলেন, ঠিকাদার নুরজামাল নিজেকে রক্ষায় নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তার লোকজন দিয়ে ওয়াশ ব্লক ভেঙ্গে বাঁশের কঞ্চি বের করে নিয়ে গেছেন। আমি তাকে নিষেধ করেছি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ভবন ভাঙ্গতে পারেন না কিন্তু তিনি আমার কথা শুনেনি।

রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণের কথা অস্বীকার করে ঠিকাদার নুরজামাল বলেন, আমাকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। নতুন করে মেরামতের জন্য ওয়াশ ব্লক ভেঙ্গেছি।

আমতলী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ভবন ভেঙ্গে বাঁশ বের করে নিয়ে গেছে তা আমার জানা নেই। তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মুজিবুর রহমান বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঠিকাদার রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করেছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, আমি শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।