‘বাপুরে আল্লাহ তোংগোরে ম্যালা নেকী দিব’
jugantor
‘বাপুরে আল্লাহ তোংগোরে ম্যালা নেকী দিব’

  রফিক মোল্লা, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ)  

২৮ জুলাই ২০২০, ২২:৩৬:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

ইনসাব আলী (৭১)। বয়সের ভারে নানা রোগে জর্জরিত। থাকেন দোচালা একটি ভাঙ্গা ঘরে চকি পেতে। ঘরের ভেতর কোমর পানি। চকিতে বন্যার পানি ছুইঁ ছুঁই। উঠানেও পানিতে থইথই। বাড়ির আঙিনার বাইরে বন্যার পানির স্রোত বইছে।

বয়োবৃদ্ধ ইনসাবের বাড়ি সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার স্থল ইউনিয়নের উত্তর তেঘুরি গ্রামে। এবারের বন্যায় কোনো খাদ্য সহায়তা জোটেনি ওই বৃদ্ধের কপালে।

মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুকে সংগ্রহীত অর্থায়নে সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি টিম গলা পানি ভেঙ্গে আকস্মিকভাবে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ওই বৃদ্ধের ঘরে হাজির।

এ সময় ওই বৃদ্ধ মানবিক যুবকদের কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, ‘এই ডওনের (বন্যার স্রোত) সময় বেবাকেই টানে (শুকনো) গ্যাছে। বাইত্ত্যে (বাড়ি) কেহই নাইক্যা। একলা একলা হারাদিন রাত এহানেই থাহি। চহির নিচেই সাপ- পোহা আইসে। ভয়ঢর ফালায়া পইরা থাকি। বিপদের দিনে তোমরা মেলা খাওয়ারতা নিয়া আইছো। বাপুরে আল্লাহ তোংগোরে ম্যালা নেকী দিব।’

এ দিকে যমুনা চরের তেঘুরি ও গোসাইবাড়ি গ্রামের শতাধিক বাড়িতে গলাপানি ভেঙ্গে মাথায় খাদ্যদ্রব্যের বস্তা নিয়ে হাজির হন ফেসবুক টিমের সদস্যরা। তারা বন্যার্ত পরিবারের মধ্যে চাল, ময়দা, মুড়ি, চিড়া, চিনি, ডাল, স্যালাইন, লবণ, দিয়াশলাই তুলে দেন। এ ছাড়া বানভাসি পরিবারের শিশুদের মধ্যে শিশু খাদ্য বিতরণ করেন ফেসবুক আইকন মামুন বিশ্বাস।

এ সময় এনায়েতপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক যুগান্তর প্রতিনিধি রফিক মোল্লা, মানবতার ফেসবুক টিমের সদস্য শাহরিয়ার ইমন, শাহনী ও হাবীব উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, যমুনা চরের ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৩৯টি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বন্যার পানি প্রবেশ করায় তলিয়ে গেছে শত শত ঘরবাড়ি। এতে অধিকাংশ পরিবার ঘরের মধ্য বাঁশের উঁচু মাচা বেঁধে অবর্ণনীয় কষ্টে দিনযাপন করছে। উপজেলার স্থল ইউনিয়নের তেঘুরি, গোসাইবাড়ি, নওহাটা, স্থলচর, সদিয়া চাঁদপুরের বোয়ালকান্দি, রেহাইমৌশা, উমারপুর গ্রামের মিনাদিয়া, বাউশা ও শৌলজানা, বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বিনানই, ঘুশুরিয়াসহ খাষকাউলিয়া ও খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামের হাজার হাজার ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। গবাদিপশু রাখার যায়গাগুলো একটু উঁচু হওয়ায় সেখানেই গাদাগাদি করে গরু-ছাগলের সঙ্গে মানুষ বসবাস করছে।

‘বাপুরে আল্লাহ তোংগোরে ম্যালা নেকী দিব’

 রফিক মোল্লা, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) 
২৮ জুলাই ২০২০, ১০:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ইনসাব আলী (৭১)। বয়সের ভারে নানা রোগে জর্জরিত। থাকেন দোচালা একটি ভাঙ্গা ঘরে চকি পেতে। ঘরের ভেতর কোমর পানি। চকিতে বন্যার পানি ছুইঁ ছুঁই। উঠানেও পানিতে থইথই। বাড়ির আঙিনার বাইরে বন্যার পানির স্রোত বইছে।

বয়োবৃদ্ধ ইনসাবের বাড়ি সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার স্থল ইউনিয়নের উত্তর তেঘুরি গ্রামে। এবারের বন্যায় কোনো খাদ্য সহায়তা জোটেনি ওই বৃদ্ধের কপালে।

মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুকে সংগ্রহীত অর্থায়নে সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি টিম গলা পানি ভেঙ্গে আকস্মিকভাবে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ওই বৃদ্ধের ঘরে হাজির।

এ সময় ওই বৃদ্ধ মানবিক যুবকদের কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, ‘এই ডওনের (বন্যার স্রোত) সময় বেবাকেই টানে (শুকনো) গ্যাছে। বাইত্ত্যে (বাড়ি) কেহই নাইক্যা। একলা একলা হারাদিন রাত এহানেই থাহি। চহির নিচেই সাপ- পোহা আইসে। ভয়ঢর ফালায়া পইরা থাকি। বিপদের দিনে তোমরা মেলা খাওয়ারতা নিয়া আইছো। বাপুরে আল্লাহ তোংগোরে ম্যালা নেকী দিব।’

এ দিকে যমুনা চরের তেঘুরি ও গোসাইবাড়ি গ্রামের শতাধিক বাড়িতে গলাপানি ভেঙ্গে মাথায় খাদ্যদ্রব্যের বস্তা নিয়ে হাজির হন ফেসবুক টিমের সদস্যরা। তারা বন্যার্ত পরিবারের মধ্যে চাল, ময়দা, মুড়ি, চিড়া, চিনি, ডাল, স্যালাইন, লবণ, দিয়াশলাই তুলে দেন। এ ছাড়া বানভাসি পরিবারের শিশুদের মধ্যে শিশু খাদ্য বিতরণ করেন ফেসবুক আইকন মামুন বিশ্বাস।

এ সময় এনায়েতপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক যুগান্তর প্রতিনিধি রফিক মোল্লা, মানবতার ফেসবুক টিমের সদস্য শাহরিয়ার ইমন, শাহনী ও হাবীব উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, যমুনা চরের ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৩৯টি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বন্যার পানি প্রবেশ করায় তলিয়ে গেছে শত শত ঘরবাড়ি। এতে অধিকাংশ পরিবার ঘরের মধ্য বাঁশের উঁচু মাচা বেঁধে অবর্ণনীয় কষ্টে দিনযাপন করছে। উপজেলার স্থল ইউনিয়নের তেঘুরি, গোসাইবাড়ি, নওহাটা, স্থলচর, সদিয়া চাঁদপুরের বোয়ালকান্দি, রেহাইমৌশা, উমারপুর গ্রামের মিনাদিয়া, বাউশা ও শৌলজানা, বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বিনানই, ঘুশুরিয়াসহ খাষকাউলিয়া ও খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামের হাজার হাজার ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। গবাদিপশু রাখার যায়গাগুলো একটু উঁচু হওয়ায় সেখানেই গাদাগাদি করে গরু-ছাগলের সঙ্গে মানুষ বসবাস করছে।