অর্ধশতক পর বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত সেই মুক্তিযোদ্ধা আর নেই

  রাজশাহী ব্যুরো ৩০ জুলাই ২০২০, ১৭:৫০:১০ | অনলাইন সংস্করণ

বীরবিক্রম আবদুল খালেক। ছবি: সংগৃহীত

দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় অর্ধশতক পরে খেতাব পাওয়া রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা বীরবিক্রম আবদুল খালেক আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

বুধবার দিবাগত গভীর রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। বীরবিক্রম আবদুল খালেকের বাড়ি গোদাগাড়ীর চাপাল গ্রামে। করোনার উপসর্গ নিয়ে গত সোমবার তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা শনাক্ত হয়নি।

গত ৬ জুন নতুন প্রকাশিত খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটে তার নাম ওঠে। গেজেট বিভ্রাটের কারণে তার বীরবিক্রম স্বীকৃতি পেতে বিলম্ব হয়েছে।

বীরবিক্রম আবদুল খালেকের বড় ছেলে মাসুম আক্তার জামান জানান, হাসপাতালে ভর্তি করার তিন-চারদিন আগে থেকে তার বাবার জ্বর ও কাশির সমস্যা দেখা দেয়। গত রোববার রাতে তিনি মাথার যন্ত্রণায় খুব কাতরাচ্ছিলেন। তাই সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই তিনি মারা যান।

জামান আরও জানান, গেজেট বিভ্রাটের কারণে এতদিন বীরবিক্রম আব্দুল খালেক স্বীকৃতি পাননি। ২০১১ সালে জনতা ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঠিকানাবিহীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে তার বাবার নাম এবং নৌবাহিনীর পদবী ও সার্ভিস নম্বর দেয়া ছিল। তার ভিত্তিতে তারা গেজেট সংশোধন করার জন্য আবেদন করেন। সে আবেদন মন্ত্রণালয় থেকে হারিয়ে যায়। এভাবে অনেক ভোগান্তির পর গত বছর নতুন করে আবার আবেদন করেন। এরপর বীরবিক্রম স্বীকৃতি মেলে।

এতদিন পর এই স্বীকৃতিতে খুশি হতে পারেননি আব্দুল খালেক। খেতাব পাওয়ার পর গত ২৫ জুন তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেছিলেন, '৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর একাত্তরের দোসররা আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে। তিনি গ্রামছাড়া হন। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি ফেরারি ছিলেন। এতদিন কেন তার স্বীকৃতি বুঝিয়ে দেয়া হয়নি? কোথায়, কীভাবে ছিলেন কেউ কেন তার খোঁজ নেয়নি?

মুক্তযুদ্ধকালে গোদাগাড়ীর খেতুর গ্রামে সিরাজুল চেয়ারম্যানের বাড়িতে ছিল পাকিস্তানি হায়েনাদের ঘাঁটি। একাত্তরের ৩ সেপ্টেম্বর সেখানে গ্রেনেড হামলা করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন বীর সৈনিক আব্দুল খালেক। কিন্তু গ্রেনেড ছোঁড়ার আগেই আহত হন তিনি। শত্রুবাহিনীর একটা গুলি বুক ভেদ করে চলে যায় তার। জীবনের মায়া ত্যাগ করে সাত নম্বর সেক্টরের আরও বেশকিছু সম্মুখসমরে অংশ নেন তিনি।

এ দিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বীরবিক্রম আব্দুল খালেকের নিজ গ্রামে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় গার্ড অব অনারের মাধ্যমে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করা হয়। এরপর তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।

এ সময় রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলার সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানীসহ স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তি ও মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত