মানববন্ধন করানোর পর ভিজিএফের চাল বিতরণ চেয়ারম্যানের

  কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ৩০ জুলাই ২০২০, ২০:৩৩:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

স্ত্রীর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ থাকলেও নিজের রিপোর্ট নেগেটিভ আসার দুইদিনের মাথায় করোনা ঝুঁকি নিয়েই ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বিশাল মানববন্ধন করা হয়েছে। ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গত ২৫ ও ২৬ জুলাই বরিশালের কয়েকটি আঞ্চলিক দৈনিকে প্রকাশিত খবরকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় আলীপুর শেখ রাসেল সেতুর ওপর এ মানববন্ধন করা হয়।

এরপর মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ইউনিয়ন পরিষদে ঈদের বিশেষ ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে।

গোলাপ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা লতাচাপলী শাখার ব্যানারে ইউনিয়ন পরিষদের ত্রাণ ও ভিজিএফের সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিবন্ধী ও স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিনদের অনেকে হাতে বস্তা ও ব্যাগ নিয়ে এ মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসরত মহিলাদেরও ওই মানববন্ধনে অংশগ্রহণে বাধ্য করা হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অংশগ্রহণকারীদের কয়েকজন এ দাবি করেছেন।

এরপর ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাঝে ঈদের বিশেষ ভিজিএফের ৪৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।

মানববন্ধনে ইউপি চেয়ারম্যান নিজে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ইউপি সদস্যরাও ছিলেন। ইউপি চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লা পরিষদের একটি কক্ষে আইসোলেশনে থাকার পর ২৭ জুলাই তার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এর পরদিন ২৮ জুলাই থেকে পর্যায়ক্রমে ঈদের বিশেষ বরাদ্দ ১০ কেজি করে চাল ৭ হাজার ২০০ লোকের মাঝে বিতরণ করেন। এ সময় পূর্ব নির্ধারিত এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তাগিদ দিয়ে রাখেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবে লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে ইউনিয়ন সভাপতি ডা. সিদ্দিকুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, মহিপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামানের ইন্ধনে কুয়াকাটা খানাবাদ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুল ইসলাম খান সম্প্রতি প্রকাশিত খবরে চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক বানোয়াট বক্তব্য দিয়েছেন। ওই বক্তব্যে ওসির অপসারণও দাবি করা হয়েছে।

পরবর্তীকালে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে জহিরুল ইসলাম খানের জবরদখলে থাকার কথা উল্লেখ করে একটি প্রতিবন্ধী পরিবারের জমি উদ্ধারের দাবি জানান লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লা। এ সময় একই দাবিতে গোলাপ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা লতাচাপলী শাখার সভাপতি আ. রহিমও বক্তব্য রাখেন।

এ প্রসঙ্গে জহিরুল ইসলাম খান বলেন, কোনো প্রতিবন্ধী পরিবারের জমি আমার দখলে নেই। যার জমি আমার দখলে রয়েছে বলা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে কলেজের ওই জমিতে সেই পরিবারটিই অবৈধভাবে দখলে আছে। আমরা ব্যক্তিগতভাবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো কথা না বলে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।

ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, একজন করোনা নেগেটিভ হওয়া ব্যক্তির ১৪ দিনের জন্য হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার বিধান রয়েছে। বিষয়টি দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়, এটি উপজেলা প্রশাসনের দেখবার কথা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসনাত মো. শহিদুল হক বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে যে কেউ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে পারে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত