দৌলতদিয়ায় ঘরমুখী মানুষের ঢল, নেই সামাজিক দূরত্ব
jugantor
দৌলতদিয়ায় ঘরমুখী মানুষের ঢল, নেই সামাজিক দূরত্ব

  গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি  

৩০ জুলাই ২০২০, ২০:৫৭:৪০  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দক্ষিণ-পশ্চিমঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার খ্যাত দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন অসংখ্য মানুষ।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি লঞ্চ-ফেরিতেও ছিল উপচেপড়া ভিড়। কোথাও মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব।

সরেজমিন দেখা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাট এবং বাস টার্মিনাল এলাকায় ঘরমুখী মানুষের ঢল। ঘাটে এসে বিপুলসংখ্যক মানুষকে পড়তে হয় নানা দুর্ভোগে। দুপুর ১টা থেকে প্রায় বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা বর্ষণে হাজার হাজার মানুষ ভিজে একাকার হয়ে যান। তাদের জন্য নেই পর্যাপ্ত ছাউনির ব্যবস্থা।

জেলা প্রশাসনের অনুমতিসাপেক্ষে ঘাট এলাকায় দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের জন্য অতিরিক্ত ৭টি অস্থায়ী টিকিট কাউন্টার বসানো হলেও সেখানে যাত্রীসেবার বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেই। উপরন্তু প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাউন্টারগুলো থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন অনেক যাত্রী।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, নৌরুটে ১৬টি ফেরি সচল রয়েছে। ঘাট সমস্যা ঠিক করে দৌলতদিয়ার ৪টি ফেরিঘাট সচল হয়েছে। তবে পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতে ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। ফলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে নদী পারাপারে দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগছে প্রতিটি ফেরির।

এ কারণে দৌলতদিয়া প্রান্তে ২ শতাধিক যানবাহনের সিরিয়াল তৈরি হয়েছে। যানবাহনগুলোর মধ্যে বেশি যাত্রীবাহী বাস। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের থাকতে হচ্ছে সিরিয়ালে। তবে পশুবাহী ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ঈদের ৩ দিন আগে অর্থাৎ বুধবার থেকে অপনশীল মালবোঝাই যানবাহন ফেরিতে পারাপার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘাট এলাকায় চাপ অনেকটা কমেছে।

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আছে জেনেও কেন বাড়িতে আসছেন এমন প্রশ্নের জবাবে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার রেজাউল করিম, ফরিদপুরের রিপন মাহমুদ, গোয়ালন্দের ফরিদ হোসেন, সোয়েব হাসানসহ অনেকেই জানান, ঢাকায় তারা এতদিন অনেকটা দম বন্ধ হওয়া পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন। তাছাড়া বছরের বিশেষ এ সময় আপনজনদের কাছে আসতে না পারলে তাতে কষ্ট আরও বাড়বে। তাই ঝুঁকি থাকলেও প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে তারা বাড়িতে যাচ্ছেন।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, দৌলতদিয়ার ৪টি ফেরিঘাট ও রুটে ১৬টি ফেরি চলায় যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের দুর্ভোগ কিছুটা কমেছে। তবে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি পারাপারে সময় বেশি লাগছে। এ জন্য ঘাটে এখনও যানবাহনের কিছুটা সিরিয়াল হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে ঘরমুখো মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, ফেরি ও ঘাট কর্তৃপক্ষ এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বেশ কয়েক দফা সমন্বয় সভা করা হয়েছে। নেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি। তারা সার্বক্ষণিক ঘাট এলাকায় অবস্থান করে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও ভাড়া আদায় বন্ধ, চোর, দালাল, ছিনতাইকারীসহ সব অপকর্মকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

দৌলতদিয়ায় ঘরমুখী মানুষের ঢল, নেই সামাজিক দূরত্ব

 গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি 
৩০ জুলাই ২০২০, ০৮:৫৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দক্ষিণ-পশ্চিমঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার খ্যাত দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন অসংখ্য মানুষ। 

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি লঞ্চ-ফেরিতেও ছিল উপচেপড়া ভিড়। কোথাও মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব।

সরেজমিন দেখা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাট এবং বাস টার্মিনাল এলাকায় ঘরমুখী মানুষের ঢল। ঘাটে এসে বিপুলসংখ্যক মানুষকে পড়তে হয় নানা দুর্ভোগে। দুপুর ১টা থেকে প্রায় বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা বর্ষণে হাজার হাজার মানুষ ভিজে একাকার হয়ে যান। তাদের জন্য নেই পর্যাপ্ত ছাউনির ব্যবস্থা। 

জেলা প্রশাসনের অনুমতিসাপেক্ষে ঘাট এলাকায় দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের জন্য অতিরিক্ত ৭টি অস্থায়ী টিকিট কাউন্টার বসানো হলেও সেখানে যাত্রীসেবার বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেই। উপরন্তু প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাউন্টারগুলো থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন অনেক যাত্রী।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, নৌরুটে ১৬টি ফেরি সচল রয়েছে। ঘাট সমস্যা ঠিক করে দৌলতদিয়ার ৪টি ফেরিঘাট সচল হয়েছে। তবে পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতে ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। ফলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে নদী পারাপারে দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগছে প্রতিটি ফেরির। 

এ কারণে দৌলতদিয়া প্রান্তে ২ শতাধিক যানবাহনের সিরিয়াল তৈরি হয়েছে। যানবাহনগুলোর মধ্যে বেশি যাত্রীবাহী বাস। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের থাকতে হচ্ছে সিরিয়ালে। তবে পশুবাহী ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে। 

এ ছাড়া ঈদের ৩ দিন আগে অর্থাৎ বুধবার থেকে অপনশীল মালবোঝাই যানবাহন ফেরিতে পারাপার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘাট এলাকায় চাপ অনেকটা কমেছে।

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আছে জেনেও কেন বাড়িতে আসছেন এমন প্রশ্নের জবাবে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার রেজাউল করিম, ফরিদপুরের রিপন মাহমুদ, গোয়ালন্দের ফরিদ হোসেন, সোয়েব হাসানসহ অনেকেই জানান, ঢাকায় তারা এতদিন অনেকটা দম বন্ধ হওয়া পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন। তাছাড়া বছরের বিশেষ এ সময় আপনজনদের কাছে আসতে না পারলে তাতে কষ্ট আরও বাড়বে। তাই ঝুঁকি থাকলেও প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে তারা বাড়িতে যাচ্ছেন।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, দৌলতদিয়ার ৪টি ফেরিঘাট ও রুটে ১৬টি ফেরি চলায় যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের দুর্ভোগ কিছুটা কমেছে। তবে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি পারাপারে সময় বেশি লাগছে। এ জন্য ঘাটে এখনও যানবাহনের কিছুটা সিরিয়াল হচ্ছে। 

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে ঘরমুখো মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, ফেরি ও ঘাট কর্তৃপক্ষ এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বেশ কয়েক দফা সমন্বয় সভা করা হয়েছে। নেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি। তারা সার্বক্ষণিক ঘাট এলাকায় অবস্থান করে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও ভাড়া আদায় বন্ধ, চোর, দালাল, ছিনতাইকারীসহ সব অপকর্মকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন