করোনামুক্ত ইউএনও শুক্লা সরকারের ফেসবুক স্ট্যাটাস

  বন্দর (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ০৩ আগস্ট ২০২০, ১২:৫২:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর ইউএনও শুক্লা সরকার করোনা মুক্ত হয়েছেন। ঈদের দিন রাতে তিনি নিজেই তার ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে করোনা নেগেটিভ আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গত ১৯ জুলাই তিনি করোনায় আক্রান্ত হন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, ‘গত ১৯ জুলাই আমার কোভিড-১৯ পজিটিভ আসে। এরপর বন্দর উপজেলার সংসদ সদস্য, শ্রদ্ধেয় এমপি ভাবি, জেলা প্রশাসকসহ জেলা প্রশাসনের সিনিয়র স্যারেরা, জুনিয়র সহকর্মীরা আমার সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন, নিয়েছেন। সাহস যুগিয়েছেন ও বিভিন্নরকম পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সার্ভিসের সিনিয়র জুনিয়র সহকর্মীগণ সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নিয়েছেন।আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। সংসদ সদস্য এবং ভাবির নিকট বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। স্যারের স্নেহাশিস মনে থাকবে আজীবন।

উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় এবং বিশেষ করে ভাবি বারবার খোঁজ খবর নিয়েছেন। যোগাযোগ রেখেছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় আমার জন্য পরিষদের সবাইকে নিয়ে দোয়া করিয়েছেন। সম্মানিত ভাইস চেয়ারম্যানবৃন্দ, ইউপি চেয়ারম্যানগণ, সচিবগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ ও উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ সার্বক্ষণিক খোঁজ নিয়ে আমার এবং আমার পরিবারকে সাহস যুগিয়েছেন। এটা আমার জন্য পরম পাওয়া।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল সহকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. দিপু ভাই দারুণভাবে সহযোগিতা করেছেন প্রতিটি মুহূর্তে। তিনি একরাতে আমি বেশ অসুস্থ হয়ে পড়ায় রাত ১টায় আমার জন্য নিজে ওষুধ দিয়ে গেছেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানার ওসি, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, পিআইও, আরডিও, কৃষি অফিসার, শিক্ষা অফিসারবৃন্দসহ সব দফতরের প্রিয় সহকর্মীগণ যেভাবে আপনজনের মতো আমার পাশে ছিলেন। এক জীবনে একজন কর্মকর্তার এটি অনেক বড় প্রাপ্তি।

অফিসের প্রিয় ছোটভাই মাসুম, ফাহিম, আমিন, আতিক, প্রতাপ, এও সাহেব, দোলন, মিজান, মনজু, বাদলসহ সব সহকর্মীগণ পরম আত্মীয়ের ন্যায় এই বিপদে প্রতিটি মুহূর্তে পাশে থেকে আবদ্ধ করেছেন আজীবনের এক দ্বায়বদ্ধতায়। মহান রাব্বুল আলামিন সবার ভাল করুন।

মহান আল্লাহর অসীম দয়ায় এবং আপনাদের সবার দোয়ায় আজ আমার এবং আমার সহকর্মী আমিনের কোভিড ১৯ নেগেটিভ এসেছে। আলহামদুলিল্লাহ। প্রথম দিকে খুবই চিন্তিত ছিলাম কারণ আমার ঘরে আমার ছোট বাচ্চা, আমার অসুস্থ মা আছেন।

আপনারা অনেকেই আমার জন্য লিখেছেন। সমস্ত নিউজফিড আমার জন্য প্রার্থনা। এই ভালোবাসা আমাকে আরও বেশি দায়বদ্ধ করেছে! মনে হয়েছে আমি কিছুতেই এই ভালবাসার যোগ্য নই। সরকারি কাজে আমাকে আরও অনেক বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। কর্মসংস্থান নিয়ে অনেক কিছু করতে হবে সবাই মিলে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনেছি আপনাদের অনেকেই বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করেছেন৷ মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা হয়েছে বলেও জেনেছি। তবে এত ভালবাসার যোগ্য আমি নই কিছুতেই। আপনাদের ভালোবাসাময় সব দোয়া আমার পরম প্রাপ্তি। মনে হচ্ছে কিছুই করা হয়নি এখনো। তবে আল্লাহ চাইলে আমি চেষ্টা করবো আপনাদের জন্যে কাজ করার ইনশাল্লাহ।

আপনারা অনেকেই খোঁজ খবর নেয়ার জন্য ফোন করেছেন। বার্তা পাঠিয়েছেন। মেসেঞ্জারে লিখেছেন। অনেকে শুভেচ্ছা উপহার পাঠিয়েছেন। অনেকের ফোন ধরতে পারিনি। কথা বলায় প্রচণ্ড ক্লান্তি কাজ করছে। ক্ষমা করবেন আমাকে।

প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে খুব সাবধানে থাকবেন। স্বাস্থ্যবিধি না মানার কোনো সুযোগ নেই এই মুহূর্তে। যে কেউ যে কোনো মুহূর্তে আক্রান্ত হতে পারেন। আর একটা বিষয় যাদের মধ্যে উপসর্গ রয়েছে অনুগ্রহ করে বাসায় অবস্থান করুন।নিজে নিরাপদ থাকুন। অন্যকে নিরাপদ রাখতে ভূমিকা রাখুন।আপনারা আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করুন।

শারীরিক দুর্বলতা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারিনি।কাশিও আছে প্রচণ্ড। তাই দয়া করে জরুরি প্রয়োজনে মেসেজ দিবেন। কেউ মাস্ক ছাড়া দয়া করে বের হবেন না। সবাইকে ঈদ মোবারক।

সবার জন্য পরম করুণাময় মহান আল্লাহর কাছে ভাল রাখার ও ভাল থাকার জন্য প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের মনের হিংসা দ্বেষ, কলুষতা দূর করে দেন ইনশাআল্লাহ।’

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ইউএনও শুক্লা সরকার শুরু থেকেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ছুটে বেড়িয়েছেন। উপজেলাতে কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে ফলমূল নিয়ে মুহূর্তেই তাদের বাড়ি হাজির হয়েছেন। যুগিয়েছেন সাহস-শক্তি। দিনে এবং রাতের আঁধারে হত দরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন খাদ্য সামগ্রী।

সংক্রমণ রোধে সচেতনতা মূলক প্রচার প্রচারণায় ছিলেন ব্যস্ত। মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ করে যিনি আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। গত ১৯ জুলাই তিনি নিজেই করোনায় আক্রান্ত হন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত