ছাগলের চামড়া ১০ টাকা, গরুর ৫০!
jugantor
ছাগলের চামড়া ১০ টাকা, গরুর ৫০!

  সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি  

০৪ আগস্ট ২০২০, ১২:৪১:৫০  |  অনলাইন সংস্করণ

ছাগলের চামড়া ১০ টাকা, গরুর ৫০!
ফাইল ছবি

বাজারে এক কাপ চায়ের দাম ১০ টাকা। আর চায়ের সমান দামেই বিক্রি হচ্ছে ছাগলের চামড়া। আর গরুর চামড়া ৫০ টাকা মাত্র! সাটুরিয়ায় পানির দরে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশুর চামড়া। পানির দরে কিনেও উপজেলার বাজারগুলোতে চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

চামড়ার বাজারে এমন ধসের শিকার হয়ে ব্যবসায়ীরা হতাশ। এমন দরে চামড়া বিক্রি করে গরিবের হক আদায় করা যাচ্ছে না বলে  অভিযোগ কোরবানিদাতাদের।
 
গত কয়েক বছর আগেও কোরবানি ঈদে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ছাগলের চামড়া দেড় থেকে ২০০ এবং গরুর চামড়া এক থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ সেই চামড়া আজ বিক্রি করতে পারছেন না কোরবানিদাতারা। এবার ঈদে বড় বড় ছাগলের চামড়া ১০-৩০ টাকা এবং গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ৫০-২০০ টাকায়। ছোট ছাগলের চামড়া কেউ নিচ্ছেই না। আর ছোট ছোট গরুর চামড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মঙ্গলবার মাদ্রাসাশিক্ষক আবু সাঈদ বলেন, এবার ৯০ হাজার টাকার কোরবানির গরুর চামড়া কিনে ২০০ টাকা দরে বিক্রি করতে হয়েছে। আর নিজের একটি চামড়া তিনি তা মাদ্রাসায় দান করেছেন।

একই মহল্লার ব্যবসায়ী সারোয়ার রহমান বলেন, ১২ হাজার টাকা মূল্যের তার কোরবানির ছাগলের চামড়া তিনি বিক্রি করেছেন মাত্র ২০ টাকায়। এ টাকা গরিবদের হক। তিনি ওই টাকার সঙ্গে আরও টাকা দিয়ে গরিবদের দান করবেন বলে জানিয়েছেন।

আবার পানির দরে চামড়া কিনেও লাভ করতে পারছেন না মৌসুমি  ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, কম দামে চামড়া কিনেও বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে তাদের লোকসান হচ্ছে।
 
একাধিক চামড়া ব্যবসায়ী জানান, এবারের কোরবানি ঈদে চামড়ার স্মরণকালীন দরপতনে তাদের লোকসান সবচেয়ে বেশি। প্রতি বছর কোরবানির ঈদের এ ব্যবসায় টাকা খাটিয়ে তারা ভালো লাভ করতেন। কিন্তু এবারের চামড়ার দরপতনে তাদের তহবিল লোপাট হয়েছে।

অন্যদিকে ট্যানারি মালিকদের কাছে দীর্ঘদিনে বকেয়া পাওনার পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতির কারণে চরম পুঁজি সংকটে পড়েছেন উপজেলার চামড়া ব্যবসায়ীরা। পুঁজির অভাবে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তারা চামড়া কিনতে পারছেন না।

আবার ধারদেনা করে চামড়া কিনলেও মহাজন ও ট্যানারি মালিকদের কাছে নগদ মূল্যে বিক্রি করতে পারবেন কিনা সেই আশঙ্কাও কাজ করছে তাদের। ফলে চাহিদা কম থাকায় চামড়ার মূল্য স্বাভাবিক কারণেই কমে গেছে।

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম বলেন, স্থানীয় এতিমখানায় যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা পাইকারদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া বিক্রি করতে পারবে। তা ছাড়া কাঁচাচামড়া সংরক্ষণ করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

ছাগলের চামড়া ১০ টাকা, গরুর ৫০!

 সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি 
০৪ আগস্ট ২০২০, ১২:৪১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ছাগলের চামড়া ১০ টাকা, গরুর ৫০!
ফাইল ছবি

বাজারে এক কাপ চায়ের দাম ১০ টাকা। আর চায়ের সমান দামেই বিক্রি হচ্ছে ছাগলের চামড়া। আর গরুর চামড়া ৫০ টাকা মাত্র! সাটুরিয়ায় পানির দরে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশুর চামড়া। পানির দরে কিনেও উপজেলার বাজারগুলোতে চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

চামড়ার বাজারে এমন ধসের শিকার হয়ে ব্যবসায়ীরা হতাশ। এমন দরে চামড়া বিক্রি করে গরিবের হক আদায় করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ কোরবানিদাতাদের।

গত কয়েক বছর আগেও কোরবানি ঈদে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ছাগলের চামড়া দেড় থেকে ২০০ এবং গরুর চামড়া এক থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ সেই চামড়া আজ বিক্রি করতে পারছেন না কোরবানিদাতারা। এবার ঈদে বড় বড় ছাগলের চামড়া ১০-৩০ টাকা এবং গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ৫০-২০০ টাকায়। ছোট ছাগলের চামড়া কেউ নিচ্ছেই না। আর ছোট ছোট গরুর চামড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মঙ্গলবার মাদ্রাসাশিক্ষক আবু সাঈদ বলেন, এবার ৯০ হাজার টাকার কোরবানির গরুর চামড়া কিনে ২০০ টাকা দরে বিক্রি করতে হয়েছে। আর নিজের একটি চামড়া তিনি তা মাদ্রাসায় দান করেছেন।

একই মহল্লার ব্যবসায়ী সারোয়ার রহমান বলেন, ১২ হাজার টাকা মূল্যের তার কোরবানির ছাগলের চামড়া তিনি বিক্রি করেছেন মাত্র ২০ টাকায়। এ টাকা গরিবদের হক। তিনি ওই টাকার সঙ্গে আরও টাকা দিয়ে গরিবদের দান করবেন বলে জানিয়েছেন।

আবার পানির দরে চামড়া কিনেও লাভ করতে পারছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, কম দামে চামড়া কিনেও বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে তাদের লোকসান হচ্ছে।

একাধিক চামড়া ব্যবসায়ী জানান, এবারের কোরবানি ঈদে চামড়ার স্মরণকালীন দরপতনে তাদের লোকসান সবচেয়ে বেশি। প্রতি বছর কোরবানির ঈদের এ ব্যবসায় টাকা খাটিয়ে তারা ভালো লাভ করতেন। কিন্তু এবারের চামড়ার দরপতনে তাদের তহবিল লোপাট হয়েছে।

অন্যদিকে ট্যানারি মালিকদের কাছে দীর্ঘদিনে বকেয়া পাওনার পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতির কারণে চরম পুঁজি সংকটে পড়েছেন উপজেলার চামড়া ব্যবসায়ীরা। পুঁজির অভাবে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তারা চামড়া কিনতে পারছেন না।

আবার ধারদেনা করে চামড়া কিনলেও মহাজন ও ট্যানারি মালিকদের কাছে নগদ মূল্যে বিক্রি করতে পারবেন কিনা সেই আশঙ্কাও কাজ করছে তাদের। ফলে চাহিদা কম থাকায় চামড়ার মূল্য স্বাভাবিক কারণেই কমে গেছে।

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম বলেন, স্থানীয় এতিমখানায় যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা পাইকারদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া বিক্রি করতে পারবে। তা ছাড়া কাঁচাচামড়া সংরক্ষণ করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

 
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন