কোম্পানীগঞ্জে ভয়াবহ লোডশেডিং, ৪৪ হাজার গ্রাহকের ভোগান্তি চরমে

  কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি ০৫ আগস্ট ২০২০, ১৯:২৭:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা ঘোষিত হওয়ার প্রায় এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পথে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা ঘোষিত হওয়ার প্রায় এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পথে। তারপরও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় আরইবির (পল্লী বিদ্যুৎ) ৪৪ হাজার গ্রাহকের দুর্ভোগের শেষ নেই। ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে আছে প্রায় ৩ লাখ মানুষ। সরকারি দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এখানকার সংসদ সদস্য এবং সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত আছেন। অথচ আরইবি এ বিষয়টির কোনো ভ্রূক্ষেপ করছে না।

পল্লীবিদ্যুতের দুর্ভোগাক্রান্ত গ্রাহকদের আক্ষেপ করে বলতে শোনা যায়, “চেরাগের নিচে অন্ধকার”। এ বিষয়ে এখানে যারা দায়িত্বে রয়েছেন তারাও হয়তো এমপি বা মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে সমস্যা নিয়ে কেউ কিছু বলছেন না। ফলে ভোগান্তি ক্রমান্বয়ে চরমে পৌঁছে যাচ্ছে। এখানকার রাজনৈতিক বিত্তশালীরা আইপিএস, সোলার প্যানেল এবং বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় তারা সাধারণ মানুষের ভোগান্তিটা বুঝতে পারেন না। মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনেক ভালো কাজ করার পরও, শুধুমাত্র বিদ্যুৎ নিয়ে জনভোগান্তি বেড়ে যাওয়ায় তার জনপ্রিয়তায় ধস নেমে আসছে বলে ভুক্তভোগীরা বলছেন।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের ৪৪ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তারিখে এ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। এ ঘোষণার পর এখনও অনেককেই বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করেতে দেখা যায়। আবেদন করে অনেকে মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও সংযোগ পাচ্ছেন না।

সাম্প্রতিক সময়ে অর্থাৎ গত কয়েক দিনে এখানে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে রয়েছে মানুষ। অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে। অঘোষিত লোডশেডিং দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবিরাম চলছে। গভীর রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ফলে মানুষ বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক নরনারী নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

লোডশেডিংজনিত সীমাহীন গরমের কারণে ভাইরাস জ্বর, সর্দি-কাশি ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্ট হওয়ায় জনসাধারণ আরও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।

স্থানীয় চিকিৎসরা বলছেন, অতিরিক্ত ভ্যাপসা গরম, আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বিরূপ প্রাকৃতিক অবস্থায় শিশু ও বয়স্করা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। নিয়মিত বিদ্যুৎ থাকলে যে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করে, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের নামে অস্বাভাবিক লুকোচুরি খেলার কারণে ভারসাম্য থাকে না। মানুষ অসহনীয় গরমে হাঁপিয়ে যায়। ফলে যা হওয়ার তাই হয়।

পল্লীবিদ্যুতের কোম্পানীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম এএইচএম আরিফুল ইসলাম জানান, পল্লী বিদ্যুতের ৪৪ হাজার গ্রাহকের চাহিদা মেটানোর জন্য ১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। এর বিপরীতে আমরা ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছি। যে ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে সেটা পিকআওয়ার টাইমে (সন্ধ্যার পর) তার জন্য লোড শেয়ারিং করা হচ্ছে। দিনের বেলায় বিদ্যুৎ স্বাভাবিকভাবে আছে। চৌমুহনী গ্রিডে পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় গত কয়েক দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।

পাওয়ার ট্রান্সফরমার মেরামত হতে আরও প্রায় ১ মাস সময় লাগতে পারে। বর্তমান সমস্যা উত্তরণের জন্য সাময়িকভাবে ফেনীর ৩৩ কেভি লাইন থেকে বিদ্যুৎ আনার লক্ষ্যে মেরামতের কাজ চলছে। আগামী ৫/৭ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হলে বর্তমানের সমস্যা আর থাকবে না।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত