ছালেমার পা চেপে ধরে মেয়ে, দা দিয়ে কোপায় জামাই
jugantor
ছালেমার পা চেপে ধরে মেয়ে, দা দিয়ে কোপায় জামাই

  হবিগঞ্জ প্রতিনিধি  

০৫ আগস্ট ২০২০, ২০:৩৯:১৪  |  অনলাইন সংস্করণ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ছালেমা বেগমকে গলা কেটে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। মেয়ে আর সৌদি আরব প্রবাসী অপর মেয়ের জামাতার অবৈধ সম্পর্ক ধরে ফেলায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে তা ডাকাতি বলে প্রচারণার চেষ্টা চালানো হয়।

তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছে, অবৈধ মেলামেশা দেখে ফেলায় মোগল মিয়া ঘরে থাকা দা দিয়ে গলা, বুক ও ঘাড়ে কুপাতে থাকে। শান্তি বেগম মায়ের পা চেপে ধরে রাখে।

বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা।

আসামিদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে তিনি জানান, ওই উপজেলার করগাঁও গ্রামের হিরন মিয়ার স্ত্রী ছালেমা বেগম (৪৫) সাত সন্তানের জননী। স্বামী আরও একটি বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করেন। তিনি তার মেয়ে সেজমিন আক্তার শান্তি বেগমকে নিয়ে একই গ্রামে তার ভাগ্নে আব্দুর রহমানের ঘরে বসবাস করেন। তার বড় মেয়ে জেসমিন আক্তারকে বিয়ে দেয়া হয় একই গ্রামের মোগল মিয়ার কাছে। বিয়ের কিছু দিন পরই জেসমিন চলে যান সৌদি আরবে। আর তখন থেকেই মোগল মিয়া শাশুড়ির সঙ্গে বসবাস করেন।

এসপি জানান, এর মধ্যেই মোগল মিয়া শ্যালিকা সেজমিন আক্তার শান্তি বেগমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ছালেমা বেগম তাদের একাধিকবার সতর্ক করেন। ঈদুল আজহার দিন রাত দেড়টার দিকে ঘরের সবাই ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে মোগল মিয়া শ্যালিকাকে মোবাইলে ফোন করে তার ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তারা মেলামেশা করে। এক পর্যায়ে ঘুম ভেঙ্গে গেলে ছালেমা বেগম মেয়ের ঘরে গিয়ে তাদের ওই অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তিনি চিৎকার শুরু করে প্রতিবাদ জানান।

তিনি বলেন, তাৎক্ষনিক তারা ছালেমা বেগমের মুখ চেপে ধরেন। তাতেও দমাতে না পেরে মোগল মিয়া ঘরে থাকা দা দিয়ে গলা, বুক ও ঘাড়ে কুপাতে থাকেন। শান্তি বেগম মায়ের পা চেপে ধরেন। তার মৃত্যু নিশ্চিত করে মোগল মিয়া শ্যালিকাকে বলে সে চলে যাওয়ার পর যেন শান্তি বেগম চিৎকার করে ডাকাত ডাকাত বলে। আর আবদুল মুমিন ওরফে রুমান এবং নোমান উক্ত ঘটনা ঘটিয়েছে বলে যেন প্রচারণা চালায়।

এসপি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী শান্তি নিজের রক্তমাখা জামা পাল্টিয়ে তাই করেন। তার চিৎকারে লোকজন ছুটে আসেন। পরদিন মেয়ের বক্তব্য শোনে নিহতের স্বামী আবদুর রহমান উল্লেখিত দুইজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয় নবীগঞ্জ থানার এসআই মো. আবু সাঈদকে। তিনি ঘরে তল্লাশি চালিয়ে মোগল মিয়া ও শান্তি বেগমের রক্তমাখা জামা কাপড় উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ সময় তারা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।

ছালেমার পা চেপে ধরে মেয়ে, দা দিয়ে কোপায় জামাই

 হবিগঞ্জ প্রতিনিধি 
০৫ আগস্ট ২০২০, ০৮:৩৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ছালেমা বেগমকে গলা কেটে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। মেয়ে আর সৌদি আরব প্রবাসী অপর মেয়ের জামাতার অবৈধ সম্পর্ক ধরে ফেলায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে তা ডাকাতি বলে প্রচারণার চেষ্টা চালানো হয়।

তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছে, অবৈধ মেলামেশা দেখে ফেলায় মোগল মিয়া ঘরে থাকা দা দিয়ে গলা, বুক ও ঘাড়ে কুপাতে থাকে। শান্তি বেগম মায়ের পা চেপে ধরে রাখে।

বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা।

আসামিদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে তিনি জানান, ওই উপজেলার করগাঁও গ্রামের হিরন মিয়ার স্ত্রী ছালেমা বেগম (৪৫) সাত সন্তানের জননী। স্বামী আরও একটি বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করেন। তিনি তার মেয়ে সেজমিন আক্তার শান্তি বেগমকে নিয়ে একই গ্রামে তার ভাগ্নে আব্দুর রহমানের ঘরে বসবাস করেন। তার বড় মেয়ে জেসমিন আক্তারকে বিয়ে দেয়া হয় একই গ্রামের মোগল মিয়ার কাছে। বিয়ের কিছু দিন পরই জেসমিন চলে যান সৌদি আরবে। আর তখন থেকেই মোগল মিয়া শাশুড়ির সঙ্গে বসবাস করেন।

এসপি জানান, এর মধ্যেই মোগল মিয়া শ্যালিকা সেজমিন আক্তার শান্তি বেগমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ছালেমা বেগম তাদের একাধিকবার সতর্ক করেন। ঈদুল আজহার দিন রাত দেড়টার দিকে ঘরের সবাই ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে মোগল মিয়া শ্যালিকাকে মোবাইলে ফোন করে তার ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তারা মেলামেশা করে। এক পর্যায়ে ঘুম ভেঙ্গে গেলে ছালেমা বেগম মেয়ের ঘরে গিয়ে তাদের ওই অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তিনি চিৎকার শুরু করে প্রতিবাদ জানান।

তিনি বলেন, তাৎক্ষনিক তারা ছালেমা বেগমের মুখ চেপে ধরেন। তাতেও দমাতে না পেরে মোগল মিয়া ঘরে থাকা দা দিয়ে গলা, বুক ও ঘাড়ে কুপাতে থাকেন। শান্তি বেগম মায়ের পা চেপে ধরেন। তার মৃত্যু নিশ্চিত করে মোগল মিয়া শ্যালিকাকে বলে সে চলে যাওয়ার পর যেন শান্তি বেগম চিৎকার করে ডাকাত ডাকাত বলে। আর আবদুল মুমিন ওরফে রুমান এবং নোমান উক্ত ঘটনা ঘটিয়েছে বলে যেন প্রচারণা চালায়।

এসপি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী শান্তি নিজের রক্তমাখা জামা পাল্টিয়ে তাই করেন। তার চিৎকারে লোকজন ছুটে আসেন। পরদিন মেয়ের বক্তব্য শোনে নিহতের স্বামী আবদুর রহমান উল্লেখিত দুইজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয় নবীগঞ্জ থানার এসআই মো. আবু সাঈদকে। তিনি ঘরে তল্লাশি চালিয়ে মোগল মিয়া ও শান্তি বেগমের রক্তমাখা জামা কাপড় উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ সময় তারা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন