সোনাতলায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল বিতরণে অনিয়ম
jugantor
সোনাতলায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল বিতরণে অনিয়ম

  বগুড়া ব্যুরো  

০৫ আগস্ট ২০২০, ২৩:১৮:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত চেয়ারম্যান শামসুল হক মাষ্টারের বিরুদ্ধে বন্যাদুর্গতদের মাঝে সাধারণ সহায়তার (জিআর) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি অধিকাংশ ইউপি সদস্যকে (মেম্বার) না জানিয়ে নিজের ইচ্ছামতো তালিকা তৈরি করেন। এছাড়া চাল ওজনে কম দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে বঞ্চিত ইউপি সদস্য, সংরক্ষিত সদস্য ও দুস্থদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামসুল হক মাষ্টার জানান, ৯ ওয়ার্ডের মধ্যে তিনটিতে ৬৩৩ জনের মাঝে ১৫ কেজি করে প্রায় সাড়ে ৯ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে বরাদ্দ পেলে অবশিষ্ট ৬ ওয়ার্ডে দেয়া হবে। তিনি তার ভাবমূর্তি রক্ষায় এ ব্যাপারে রিপোর্ট না করতে ‘বিশেষ অনুরোধ’ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলা উপজেলার বন্যাদুর্গত তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ১১ গ্রামের ৬৩৩ জন দুস্থের মাঝে ১৫ কেজি করে প্রায় সাড়ে ৯ টন চাল বিতরণের জন্য জিআর বরাদ্দ আসে। চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল হক মাষ্টার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে শুধু ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বারদের সঙ্গে নিয়ে পছন্দের তালিকা তৈরি করেন। মঙ্গলবার চেয়ারম্যান চালগুলো বিতরণ করেছেন। অপর ছয়টি ওয়ার্ডের মেম্বাররা জানতে পারলে তাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অনেক দুস্থ অভিযোগ করেন, তাদের ১৫ কেজির স্থলে ১১-১২ কেজি চাল দেয়া হয়েছে।

সংরক্ষিত-১ (১, ২, ও ৩ নম্বর) ওয়ার্ডের মেম্বার রওশন আরা অভিযোগ করেন, ইউনিয়নে কোনো বরাদ্দ এলে চেয়ারম্যান তাদের অবহিত করেন না। তিনি নিজের ইচ্ছামতো পছন্দের দুস্থদের তালিকা তৈরি ও বিতরণ করে থাকেন। এতে তাদের এলাকার দুস্থদের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করলেও তিনি তা কর্ণপাত করেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেম্বাররা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান আগে টিনের বাড়িতে থাকলেও এখন কোটি টাকা খরচ করে বিল্ডিং করছেন।

জিআরের চাল বিতরণ প্রসঙ্গে সোনাতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মিনহাদুজ্জামান লীটন জানান, তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুল হক মাষ্টার ত্রাণ বিতরণের আগে তাকে সঙ্গে নিয়ে ভেটিকতাইর, বাংশাবাড়ি, মোহাব্বতেরপাড়া, দাউরিয়ারপাড়াসহ পাঁচটি গ্রামে তালিকা তৈরি করতে গিয়েছিলেন। চেয়ারম্যানের (শামসুল হক মাষ্টার) দেয়া শর্তানুসারে দলীয় কোনো নেতাকর্মীকে সঙ্গে নেয়া হয়নি। সেখানে দুজন মেম্বার উপস্থিত ও তিন মেম্বার অনুপস্থিত ছিলেন। ত্রাণ বিতরণের পর তিন ওয়ার্ডের মেম্বার ফোন করে তাদের বঞ্চিত করার অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামসুল হক মাষ্টার জানান, তিনি জিআরের সাড়ে ৯ টন চাল নয় ওয়ার্ডের মধ্যে তিন ওয়ার্ডে (৩, ৪ ও ৭ নম্বর) ৫২৫ জনের মাঝে বিতরণ করেছেন। অবশিষ্ট কিছু চাল গ্রামপুলিশ, পরিষদের কর্মচারী ও পরিচিতদের দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বরাদ্দ পেলে অবশিষ্ট ছয়টি ওয়ার্ডে দেয়া হবে।

তিনি দাবি করেন, কাউকে চাল ওজনে কম দেয়া হয়নি। তিনি কোন চাল আত্মসাৎ বা বিক্রি করেননি। তিনি শিক্ষক ছিলেন, এ নিয়ে পত্রিকায় লিখলে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে। তাই রিপোর্ট না করতে ‘বিশেষ অনুরোধ’ করেন।

সোনাতলায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল বিতরণে অনিয়ম

 বগুড়া ব্যুরো 
০৫ আগস্ট ২০২০, ১১:১৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত চেয়ারম্যান শামসুল হক মাষ্টারেরবিরুদ্ধে বন্যাদুর্গতদের মাঝে সাধারণ সহায়তার (জিআর) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি অধিকাংশ ইউপি সদস্যকে (মেম্বার) না জানিয়ে নিজের ইচ্ছামতো তালিকা তৈরি করেন। এছাড়া চাল ওজনে কম দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে বঞ্চিত ইউপি সদস্য, সংরক্ষিত সদস্য ও দুস্থদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতিশামসুল হক মাষ্টারজানান, ৯ ওয়ার্ডের মধ্যে তিনটিতে ৬৩৩ জনের মাঝে ১৫ কেজি করে প্রায় সাড়ে ৯ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে বরাদ্দ পেলে অবশিষ্ট ৬ ওয়ার্ডে দেয়া হবে। তিনি তার ভাবমূর্তি রক্ষায় এ ব্যাপারে রিপোর্ট না করতে ‘বিশেষ অনুরোধ’ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলা উপজেলার বন্যাদুর্গত তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ১১ গ্রামের ৬৩৩ জন দুস্থের মাঝে ১৫ কেজি করে প্রায় সাড়ে ৯ টন চাল বিতরণের জন্য জিআর বরাদ্দ আসে। চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল হক মাষ্টার৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে শুধু ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বারদের সঙ্গে নিয়ে পছন্দের তালিকা তৈরি করেন। মঙ্গলবার চেয়ারম্যান চালগুলো বিতরণ করেছেন। অপর ছয়টি ওয়ার্ডের মেম্বাররা জানতে পারলে তাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অনেক দুস্থ অভিযোগ করেন, তাদের ১৫ কেজির স্থলে ১১-১২ কেজি চাল দেয়া হয়েছে।

সংরক্ষিত-১ (১, ২, ও ৩ নম্বর) ওয়ার্ডের মেম্বার রওশন আরা অভিযোগ করেন, ইউনিয়নে কোনো বরাদ্দ এলে চেয়ারম্যান তাদের অবহিত করেন না। তিনি নিজের ইচ্ছামতো পছন্দের দুস্থদের তালিকা তৈরি ও বিতরণ করে থাকেন। এতে তাদের এলাকার দুস্থদের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করলেও তিনি তা কর্ণপাত করেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেম্বাররা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান আগে টিনের বাড়িতে থাকলেও এখন কোটি টাকা খরচ করে বিল্ডিং করছেন।

জিআরের চাল বিতরণ প্রসঙ্গে সোনাতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মিনহাদুজ্জামান লীটন জানান, তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুল হক মাষ্টারত্রাণ বিতরণের আগে তাকে সঙ্গে নিয়ে ভেটিকতাইর, বাংশাবাড়ি, মোহাব্বতেরপাড়া, দাউরিয়ারপাড়াসহ পাঁচটি গ্রামে তালিকা তৈরি করতে গিয়েছিলেন। চেয়ারম্যানের (শামসুল হক মাষ্টার) দেয়া শর্তানুসারে দলীয় কোনো নেতাকর্মীকে সঙ্গে নেয়া হয়নি। সেখানে দুজন মেম্বার উপস্থিত ও তিন মেম্বার অনুপস্থিত ছিলেন। ত্রাণ বিতরণের পর তিন ওয়ার্ডের মেম্বার ফোন করে তাদের বঞ্চিত করার অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামসুল হক মাষ্টারজানান, তিনি জিআরের সাড়ে ৯ টন চাল নয় ওয়ার্ডের মধ্যে তিন ওয়ার্ডে (৩, ৪ ও ৭ নম্বর) ৫২৫ জনের মাঝে বিতরণ করেছেন। অবশিষ্ট কিছু চাল গ্রামপুলিশ, পরিষদের কর্মচারী ও পরিচিতদের দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বরাদ্দ পেলে অবশিষ্ট ছয়টি ওয়ার্ডে দেয়া হবে।

তিনি দাবি করেন, কাউকে চাল ওজনে কম দেয়া হয়নি। তিনি কোন চাল আত্মসাৎ বা বিক্রি করেননি। তিনি শিক্ষক ছিলেন, এ নিয়ে পত্রিকায় লিখলে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে। তাই রিপোর্ট না করতে ‘বিশেষ অনুরোধ’ করেন।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন