বোমাতঙ্কে র‌্যাব-পুলিশ-সেনাবাহিনীর ২২ ঘণ্টার অভিযান
jugantor
বোমাতঙ্কে র‌্যাব-পুলিশ-সেনাবাহিনীর ২২ ঘণ্টার অভিযান

  সিলেট ব্যুরো  

০৬ আগস্ট ২০২০, ২২:৩৬:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

সিলেটে মোটরবাইকে বেঁধে রাখা বোমাসদৃশ একটি গ্লান্ডার মেশিন (টাইলস কাটার যন্ত্র) নিয়ে তোলপাড় হয়ে গেল। প্রায় ২২ ঘণ্টা পর জানা গেল সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) ট্রাফিক সার্জেন্টের মোটরবাইকে রাখা বোমাসদৃশ বস্তুটি একটি গ্লান্ডার মেশিন।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় র‌্যাব-পুলিশ-সেনাবাহিনীর প্রায় ২২ ঘণ্টার যৌথ অভিযান শেষে এমনটি জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের বোমা ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ এবং অভিযানের দলনেতা লে. কর্নেল রাহাত।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা জানেন- বুধবার সন্ধ্যার সময় একজন পুলিশ সদস্যের মোটরসাইকেলে একটি অবজেক্ট, একটা সাসপেক্ট (সন্দেহজনক বস্তু) পাওয়া যায়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এই অবজেক্টটা ইন্সপেকশন ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। সেনাবাহিনীর সদর দফতর থেকে নির্দেশনা পেয়ে সিলেটে থাকা ১৭ পদাতিক ডিভিশনের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ও বোমা ধ্বংসকরণ টিম নিয়ে আমরা এখানে আসি।

লে. কর্নেল রাহাত বলেন, আমরা এখানে এসে আমাদের পদ্ধতি অবলম্বন করেছি, পরিদর্শন করেছি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এটা একটা গ্লান্ডার মেশিন। কিন্তু অধিকতর তদন্তের জন্য এবং এখানে যাতে অন্য ধরনের সন্দেহজনক বস্তু না থাকে, এটা নিশ্চিত করতে আমাদের নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করেছি এবং আরও নিশ্চিত হতে আমরা এটাকে খুলেছি।

তিনি আরও বলেন, হতে পারে ভুলবশত অথবা হতে পারে কেউ এটা পুলিশ সদস্যের গাড়িতে রেখে একটা আতঙ্ক ছড়াতে চেয়েছিল।

এ সময় সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, আমরা দুই দিক থেকে চিন্তা করতে পারি। কেউ ভুলবশত গ্লান্ডার মেশিনটা এখানে রেখে যেতে পারেন। আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি, সরকারি গাড়ি, সেজন্য আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বা জনমনে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টির জন্য হয়তো কেউ রেখে থাকতে পারেন। এ নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় এসএমপির ট্রাফিক সার্জেন্ট চয়ন নাইডু তার ব্যবহৃত কালো রঙের পালসার মোটরবাইকটি চৌহাট্টা পয়েন্টে পুলিশ বক্সের পাশে রাখেন।

এ বিষয়ে সার্জেন্ট চয়ন নাইডু যুগান্তরকে বলেন, ডিউটি শেষে ফেরার পথে চৌহাট্টা মোড়ে মোটরবাইকটি রেখে চশমা কিনতে পাশের একটি দোকানে প্রবেশ করি। দোকান থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলে উঠতে গিয়ে পা রাখার স্থানে বোমাসদৃশ (গ্লান্ডার মেশিন) বস্তু দেখতে পাই। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই।

চয়ন নাইডুর কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন এসএমপির উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ, অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) জ্যোর্তিময় সরকার, কোতোয়ালি থানার ওসি সেলিম মিঞাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা জায়গাটি ফিতা টেনে ঘিরে রাখেন। চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশের ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা। এরপর র‌্যাব-৯ এর  বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলও ঘটনাস্থলে আসে। তবে র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল বোমাসদৃশ বস্তুটি অপসারণে রাজি না হওয়ায় ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়াটার্সের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে জানানো হয়। রাতভর ওই জায়গাটি ঘিরে রাখে পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা। মুহূর্তেই চৌহাট্টা পয়েন্টে পুলিশের মোটরবাইকে বোমা রাখা হয়েছে বলে গুঞ্জন ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সিলেটজুড়ে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছে সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। তারা ওই বস্তুটি উদ্ধার কাজ শুরু করেন। বেলা ৩টার দিকে মোটরবাইক থেকে ওই বস্তুটি অপসারণ করেন সেনা সদস্যরা। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিকাল ৪টার দিকে লে. কর্নেল রাহাত জানান, অপসারণ করা বস্তুটি একটি টাইলস কাটার যন্ত্র। কোনো বিস্ফোরক নয়।

এর মাধ্যমে অবসান হয় রাত-দিনের বোমা আতঙ্কের।

বোমাতঙ্কে র‌্যাব-পুলিশ-সেনাবাহিনীর ২২ ঘণ্টার অভিযান

 সিলেট ব্যুরো 
০৬ আগস্ট ২০২০, ১০:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সিলেটে মোটরবাইকে বেঁধে রাখা বোমাসদৃশ একটি গ্লান্ডার মেশিন (টাইলস কাটার যন্ত্র) নিয়ে তোলপাড় হয়ে গেল। প্রায় ২২ ঘণ্টা পর জানা গেল সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) ট্রাফিক সার্জেন্টের মোটরবাইকে রাখা বোমাসদৃশ বস্তুটি একটি গ্লান্ডার মেশিন।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় র‌্যাব-পুলিশ-সেনাবাহিনীর প্রায় ২২ ঘণ্টার যৌথ অভিযান শেষে এমনটি জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের বোমা ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ এবং অভিযানের দলনেতা লে. কর্নেল রাহাত।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা জানেন- বুধবার সন্ধ্যার সময় একজন পুলিশ সদস্যের মোটরসাইকেলে একটি অবজেক্ট, একটা সাসপেক্ট (সন্দেহজনক বস্তু) পাওয়া যায়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এই অবজেক্টটা ইন্সপেকশন ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। সেনাবাহিনীর সদর দফতর থেকে নির্দেশনা পেয়ে সিলেটে থাকা ১৭ পদাতিক ডিভিশনের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ও বোমা ধ্বংসকরণ টিম নিয়ে আমরা এখানে আসি।

লে. কর্নেল রাহাত বলেন, আমরা এখানে এসে আমাদের পদ্ধতি অবলম্বন করেছি, পরিদর্শন করেছি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এটা একটা গ্লান্ডার মেশিন। কিন্তু অধিকতর তদন্তের জন্য এবং এখানে যাতে অন্য ধরনের সন্দেহজনক বস্তু না থাকে, এটা নিশ্চিত করতে আমাদের নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করেছি এবং আরও নিশ্চিত হতে আমরা এটাকে খুলেছি।

তিনি আরও বলেন, হতে পারে ভুলবশত অথবা হতে পারে কেউ এটা পুলিশ সদস্যের গাড়িতে রেখে একটা আতঙ্ক ছড়াতে চেয়েছিল।

এ সময় সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, আমরা দুই দিক থেকে চিন্তা করতে পারি। কেউ ভুলবশত গ্লান্ডার মেশিনটা এখানে রেখে যেতে পারেন। আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি, সরকারি গাড়ি, সেজন্য আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বা জনমনে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টির জন্য হয়তো কেউ রেখে থাকতে পারেন। এ নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় এসএমপির ট্রাফিক সার্জেন্ট চয়ন নাইডু তার ব্যবহৃত কালো রঙের পালসার মোটরবাইকটি চৌহাট্টা পয়েন্টে পুলিশ বক্সের পাশে রাখেন।

এ বিষয়ে সার্জেন্ট চয়ন নাইডু যুগান্তরকে বলেন, ডিউটি শেষে ফেরার পথে চৌহাট্টা মোড়ে মোটরবাইকটি রেখে চশমা কিনতে পাশের একটি দোকানে প্রবেশ করি। দোকান থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলে উঠতে গিয়ে পা রাখার স্থানে বোমাসদৃশ (গ্লান্ডার মেশিন) বস্তু দেখতে পাই। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই।

চয়ন নাইডুর কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন এসএমপির উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ, অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) জ্যোর্তিময় সরকার, কোতোয়ালি থানার ওসি সেলিম মিঞাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা জায়গাটি ফিতা টেনে ঘিরে রাখেন। চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশের ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা। এরপর র‌্যাব-৯ এর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলও ঘটনাস্থলে আসে। তবে র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল বোমাসদৃশ বস্তুটি অপসারণে রাজি না হওয়ায় ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়াটার্সের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে জানানো হয়। রাতভর ওই জায়গাটি ঘিরে রাখে পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা। মুহূর্তেই চৌহাট্টা পয়েন্টে পুলিশের মোটরবাইকে বোমা রাখা হয়েছে বলে গুঞ্জন ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সিলেটজুড়ে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছে সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। তারা ওই বস্তুটি উদ্ধার কাজ শুরু করেন। বেলা ৩টার দিকে মোটরবাইক থেকে ওই বস্তুটি অপসারণ করেন সেনা সদস্যরা। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিকাল ৪টার দিকে লে. কর্নেল রাহাত জানান, অপসারণ করা বস্তুটি একটি টাইলস কাটার যন্ত্র। কোনো বিস্ফোরক নয়।

এর মাধ্যমে অবসান হয় রাত-দিনের বোমা আতঙ্কের।