চামড়া কেনায় আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের
jugantor
চামড়া কেনায় আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের

  রংপুর ব্যুরো  

০৬ আগস্ট ২০২০, ২৩:১৮:১৪  |  অনলাইন সংস্করণ

চামড়া কেনাবেচার জন্য রংপুরের শাপলা চত্বর হাজীপাড়া বিখ্যাত। প্রতি বছর কোরবানির ঈদের সময় এ আড়তে চামড়া বিকিকিনিতে ব্যস্ত থাকেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। তবে এ বছরের চিত্র ভিন্ন। চামড়া কেনার ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের তেমন আগ্রহ নেই। বেশির ভাগ ব্যবসায়ী তাদের গুদাম বন্ধ করে রেখেছেন। চামড়া কেনাবেচার এ আড়তে এখন সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে।

গত কয়েক দিন ধরে নগরীর হাজীপাড়ার চামড়াপট্টি এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। গত বছরের লোকসান আর বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দাভাবের কারণে চামড়া শিল্পে জড়িত বড় বড় ব্যবসায়ীরা এবার হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। যেখানে ঈদের দিন নামাজের পরপরই চামড়াপট্টিতে গুদাম খুলে বসতেন ব্যবসায়ীরা। এবার তারা চামড়া না কেনার সিদ্ধান্তে বন্ধ রেখেছেন বেশিরভাগ গুদাম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার গত বছরের চেয়ে এবার প্রতিবর্গ ফুট চামড়ার দাম ১০ টাকা কমিয়েছে। রাজধানীতে লবণযুক্ত গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ছাগল ১৫ থেকে ১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ২৮ থেকে ৩২ টাকা এবং ছাগলের চামড়ার দাম ১৩ থেকে ১৫ টাকা। এই দামে চামড়া কেনাবেচা সম্ভব নয় বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

মূলত সুষ্ঠুভাবে মনিটরিং না থাকায় চামড়া শিল্পে ধস নেমেছে বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। বর্তমানে ব্যবসায়ীদের আর্থিক অবস্থা ভালো নেই। ১৫০টির বেশি ট্যানারির মধ্যে সাভারে এখন চালু হয়েছে মাত্র ১০ থেকে ১২টি। এ কারণে ঢাকাতেও চামড়া কেনার চাহিদা কম। আর ঢাকার বাইরের ব্যবসায়ীদের অনেকেই আগের পাওনা টাকা পাননি। এখন নগদ টাকায় চামড়া কিনে নতুন করে লোকসানের ভয়ে আছেন তারা। এ কারণে অনেকেই চামড়া কিনবেন কিনা, তা নিয়ে দোটানায় রয়েছেন।

জানা গেছে, হাজীপাড়া চামড়াপট্টি এলাকার সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী আজগর আলী, আফজাল হোসেন, মাহবুবার রহমান বেলাল, মুরাদ খান, ইব্রাহিম, গফফার হোসেনসহ বেশ কয়েকজন এবছর চামড়া না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সরেজমিন এসব ব্যবসায়ীর গুদাম ঘরও তালাবন্ধ দেখা গেছে। তবে এলাকার প্রায় ১০-১২ জন ফড়িয়া এবং হাতেগোনা ৩-৪ জন ব্যবসায়ী চামড়া কিনেছেন।

স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী মোখলেছুর রহমান, মশিয়ার রহমান, শামছুল হক ও মজিবর রহমান জানান, চামড়া বিক্রি করতে আসা লোকেরা দাম বেশি চাইছেন। কিন্তু সরকার নির্ধারিত দরে চামড়া কিনতে গেলে একেকটা ভালো গরুর চামড়া দেড়শ' থেকে তিনশ' টাকার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

গত বছরের অপ্রত্যাশিত লোকসান আর বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আর্থিক সমস্যার কারণে ঈদের চামড়া কেনা থেকে বিরত রয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা মাহবুবার রহমান বেলাল। তিনি বলেন, ‘আমরা নগদ টাকায় চামড়া কিনে বাকিতে বিক্রি করি। প্রতি বছর ট্যানারি মালিক ও বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছে আমাদের কোটি কোটি টাকা পাওনা থেকে যায়। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে চামড়া কেনাবেচা চলত। কিন্তু গত বছরের লোকসান সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। এ কারণে এবার ঈদে চামড়া না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

হাজীপাড়া এলাকায় গরুর চামড়া বিক্রি করতে এসেছিলেন হাবিব রহমান নামে এক ব্যক্তি। তিনি জানান, চামড়া কেনার ব্যাপারে কারও মধ্যে আগ্রহ নেই। কয়েকজন ফড়িয়া চামড়া কিনছেন, তবে তারা দাম অনেক কম বলছেন। তিনি ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছিলেন। সেই গরুর চামড়া মাত্র সাড়ে ৪০০ টাকায় বিক্রি করেছেন।

অন্যদিকে রংপুর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল লতিফ খান জানান, চামড়া কিনে কোথায় বিক্রি করা হবে, এ নিয়েই ব্যবসায়ীরা বেশি চিন্তিত। এখন চামড়ার দাম নেই। তার মধ্যে আর্থিকভাবে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। দেশের প্রয় দুই শতাধিক ট্যানারির মধ্যে এখন হাতেগোনা ১৫ থেকে ২০টি ট্যানারি চালু রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেউ চামড়া কিনে নতুন করে লোকসানের বোঝা ভারি করতে চাইছেন না। তারপরও অনেকেই চামড়া কিনতে শুরু করেছেন।

চামড়া কেনায় আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের

 রংপুর ব্যুরো 
০৬ আগস্ট ২০২০, ১১:১৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

চামড়া কেনাবেচার জন্য রংপুরের শাপলা চত্বর হাজীপাড়া বিখ্যাত। প্রতি বছর কোরবানির ঈদের সময় এ আড়তে চামড়া বিকিকিনিতে ব্যস্ত থাকেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। তবে এ বছরের চিত্র ভিন্ন। চামড়া কেনার ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের তেমন আগ্রহ নেই। বেশির ভাগ ব্যবসায়ী তাদের গুদাম বন্ধ করে রেখেছেন। চামড়া কেনাবেচার এ আড়তে এখন সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে।

গত কয়েক দিন ধরে নগরীর হাজীপাড়ার চামড়াপট্টি এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। গত বছরের লোকসান আর বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দাভাবের কারণে চামড়া শিল্পে জড়িত বড় বড় ব্যবসায়ীরা এবার হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। যেখানে ঈদের দিন নামাজের পরপরই চামড়াপট্টিতে গুদাম খুলে বসতেন ব্যবসায়ীরা। এবার তারা চামড়া না কেনার সিদ্ধান্তে বন্ধ রেখেছেন বেশিরভাগ গুদাম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার গত বছরের চেয়ে এবার প্রতিবর্গ ফুট চামড়ার দাম ১০ টাকা কমিয়েছে। রাজধানীতে লবণযুক্ত গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ছাগল ১৫ থেকে ১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ২৮ থেকে ৩২ টাকা এবং ছাগলের চামড়ার দাম ১৩ থেকে ১৫ টাকা। এই দামে চামড়া কেনাবেচা সম্ভব নয় বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

মূলত সুষ্ঠুভাবে মনিটরিং না থাকায় চামড়া শিল্পে ধস নেমেছে বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। বর্তমানে ব্যবসায়ীদের আর্থিক অবস্থা ভালো নেই। ১৫০টির বেশি ট্যানারির মধ্যে সাভারে এখন চালু হয়েছে মাত্র ১০ থেকে ১২টি। এ কারণে ঢাকাতেও চামড়া কেনার চাহিদা কম। আর ঢাকার বাইরের ব্যবসায়ীদের অনেকেই আগের পাওনা টাকা পাননি। এখন নগদ টাকায় চামড়া কিনে নতুন করে লোকসানের ভয়ে আছেন তারা। এ কারণে অনেকেই চামড়া কিনবেন কিনা, তা নিয়ে দোটানায় রয়েছেন।

জানা গেছে, হাজীপাড়া চামড়াপট্টি এলাকার সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী আজগর আলী, আফজাল হোসেন, মাহবুবার রহমান বেলাল, মুরাদ খান, ইব্রাহিম, গফফার হোসেনসহ বেশ কয়েকজন এবছর চামড়া না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সরেজমিন এসব ব্যবসায়ীর গুদাম ঘরও তালাবন্ধ দেখা গেছে। তবে এলাকার প্রায় ১০-১২ জন ফড়িয়া এবং হাতেগোনা ৩-৪ জন ব্যবসায়ী চামড়া কিনেছেন।

স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী মোখলেছুর রহমান, মশিয়ার রহমান, শামছুল হক ও মজিবর রহমান জানান, চামড়া বিক্রি করতে আসা লোকেরা দাম বেশি চাইছেন। কিন্তু সরকার নির্ধারিত দরে চামড়া কিনতে গেলে একেকটা ভালো গরুর চামড়া দেড়শ' থেকে তিনশ' টাকার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

গত বছরের অপ্রত্যাশিত লোকসান আর বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আর্থিক সমস্যার কারণে ঈদের চামড়া কেনা থেকে বিরত রয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা মাহবুবার রহমান বেলাল। তিনি বলেন, ‘আমরা নগদ টাকায় চামড়া কিনে বাকিতে বিক্রি করি। প্রতি বছর ট্যানারি মালিক ও বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছে আমাদের কোটি কোটি টাকা পাওনা থেকে যায়। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে চামড়া কেনাবেচা চলত। কিন্তু গত বছরের লোকসান সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। এ কারণে এবার ঈদে চামড়া না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

হাজীপাড়া এলাকায় গরুর চামড়া বিক্রি করতে এসেছিলেন হাবিব রহমান নামে এক ব্যক্তি। তিনি জানান, চামড়া কেনার ব্যাপারে কারও মধ্যে আগ্রহ নেই। কয়েকজন ফড়িয়া চামড়া কিনছেন, তবে তারা দাম অনেক কম বলছেন। তিনি ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছিলেন। সেই গরুর চামড়া মাত্র সাড়ে ৪০০ টাকায় বিক্রি করেছেন।

অন্যদিকে রংপুর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল লতিফ খান জানান, চামড়া কিনে কোথায় বিক্রি করা হবে, এ নিয়েই ব্যবসায়ীরা বেশি চিন্তিত। এখন চামড়ার দাম নেই। তার মধ্যে আর্থিকভাবে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। দেশের প্রয় দুই শতাধিক ট্যানারির মধ্যে এখন হাতেগোনা ১৫ থেকে ২০টি ট্যানারি চালু রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেউ চামড়া কিনে নতুন করে লোকসানের বোঝা ভারি করতে চাইছেন না। তারপরও অনেকেই চামড়া কিনতে শুরু করেছেন।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন