ধলেশ্বরীর পানি বেড়ে ফতুল্লার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

পানিবন্দি সহস্রাধিক পরিবার: ধসে পড়েছে ৩ ভবন

  আলামিন প্রধান, ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) ০৭ আগস্ট ২০২০, ০৪:৪৮:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় তিন দিনে ৩ ইউনিয়নের তিনটি এলাকা ধলেশ্বরীর পানিতে ডুবে গেছে।এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় এক হাজার পরিবার। এরমধ্যে দুটি পাকা ও একটি আধাপাকা বাড়ি ভেঙ্গে গেছে।

এসব এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা পরিদর্শন করলেও এখনো কোন ত্রাণ বিতরণ করেননি।

কাশিপুর, এনায়েতনগর ও বক্তাবলী ইউনিয়নের তিনটি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত সোমবার রাত থেকে ধলেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে বাড়িঘরে পানি উঠতে থাকে।

তিনদিনে এ পানি বেড়ে কোন স্থানে হাটু আবার কোন স্থানে বুক সমান অর্থাৎ ৩ থেকে ৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে কাশিপুর ইউনিয়নের উত্তর নরসিংপুর এলাকার বিধবা লাকির একতলা পাকা ভবন ধসে পড়ে গেছে।তার পাশের রমজানের একতলা ভবনও ধসে পড়েছে।

একইদিন বক্তাবলী ইউনিয়নের পূর্ব গোপালনগর এলাকার মানিকের আধাপাকা বাড়িও ধসে পড়েছে।এ তিনটি পরিবার তিনদিন ধরে পানিতে বাঁশের মাচা তৈরি করে বসবাস করছেন।

লাকি বেগম জানান, রাতে হঠাৎ ভবনের একপাশ ধসে পড়ে। এসময় শব্দ পেয়ে ঘরের সবাইকে নিয়ে এক কাপড়ে বাহিরে বের হতেই পুরো ভবন মুহুর্তের মধ্যে ধসে পড়ে।ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারিনি।

পাশের বাড়ির রমজান মিয়া বলেন, লাকির বাড়ি ধসে পড়ার কিছুক্ষণ পর আমার ভবনও ধসে পড়ে।এখন খোলা আকাশের নিচে পানির ওপর মাচা তৈরি করে ৩ দিন ধরে বসবাস করছি।

মানিক মিয়া বলেন, পানি বাড়ির চারপাশে থাকলেও আমার ঘরে উঠেনি। কিন্তু হঠাৎই রাতে পুরো ঘরটা জাকুনি দেয়। এসময় ভূমিকম্প ভেবে ঘর থেকে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বেরুতেই মুহুর্তে আমার আধা পাকা ঘরটি ধসে পড়ে পানিতে তলিয়ে যায়।

ব্যবসায়ী আলীম শেখ বলেন, ৩ দিন আগে রাতে বাড়ি ফেরার সময় দেখেছি রাস্তার কিছু নিচে পানি জমেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার দরজার সামনে পানি। আমাদের পূর্ব গোপালনগর এলাকায় ৩ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে।

অসহায় এ পরিবারগুলোর মধ্যে অনেক দিনমজুর পরিবারও রয়েছে। এসব পরিবারে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানো প্রয়োজন।অনেকেই ঘরের ভিতর মাচা তৈরি করে বসবাস করছেন। আবার অনেকেই খোলা আকাশের নিচে উচু জমিতে চৌকির উপর বসবাস করছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদা বারিক জানান, খবর পেয়ে বন্যদুর্গত এলাকাগুলোতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে পরিদর্শন করেছি।অসহায় পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানোর চেস্টা চলছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত