রাতে প্রতিশ্রুতি সকালেই ভঙ্গ!

  পাবনা প্রতিনিধি  ০৮ আগস্ট ২০২০, ০১:৪৬:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

‘রোগাক্রান্ত গরু জবাই না করে চিকিৎসা করাবেন’ রাতে মেয়র ও থানার ওসিকে প্রতিশ্রুতি দিলেও সকালেই কসাইরা তা ভঙ্গ করেছেন। শুক্রবার ভোরে তারা গরুটিকে জবাই করে জনগণের কাছে মাংস বিক্রি করে দিলেন। এ ঘটনা ঘটেছে পাবনার ভাঙ্গুরায়।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ভাঙ্গুড়া বাজার বেইলি ব্রিজ এলাকার ‘ভাই ভাই মাংস ভাণ্ডার’ এর ৭ কসাই পাবনার ফরিদপুর উপজেলার চড়পাড়া গ্রামের জনৈক ব্যক্তির বাড়ি থেকে একটি অসুস্থ গরু ৩২ হাজার টাকায় কেনেন। এ গরুটির ওজন প্রায় ৪ মণ।রাতে তারা গরুটি জবাই করতে ব্যর্থ হয়ে শুক্রবার গোপনে জবাই করে মাংস বিক্রি করেন। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পুলিশ জানায়, ভাঙ্গুড়া বাজারের কসাই মানিক হোসেন,আজমত আলী, মোন্নাফ আলী, আ. ছাত্তার, নয়ন হোসেন, বাচ্চু মোল্লা ও নজরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার বাসস্ট্যান্ডের পাশে পিলখানায় একটি অসুস্থ গরু জবাই করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ উপস্থিতি হলে তারা গরুটি রেখে তারা পালিয়ে যান। কিছু সময় পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ভাঙ্গুড়া পৌরসভার মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল।

মেয়র কসাই সর্দার মানিককে ফোনে ডেকে আনেন। তিনি এবং ভাঙ্গুড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাজমুল হক গরুটির অসুস্থতার বিষয় নিশ্চিত হয়ে গরুটিকে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দেন। কসাইরা গরুটি জবাই না করে চিকিৎসা করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সাত কসাই মিলে শুক্রবার সকালে ওই অসুস্থ গরুটি জবাই করে মাংস বিক্রি করে দেন।

অসুস্থ গরু জবাই ও মাংস বিক্রির বিষয়ে কসাই মানিক হোসেন বলেন, জনৈক পল্লী চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করে গরুটি জবাই ও মাংস বিক্রি করেছি।

ভাঙ্গুড়া থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল হক বলেন, গরুটি জবাই করা বন্ধ করা হয় রাতে। কিন্তু ভোরে তারা অপকর্মটি করেছে।

পৌর মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল বলেন, রাতে গরুটিকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে আসি। অথচ ভোরে তারা সেটি জবাই করে মাংস বিক্রি করে দেন। পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ নেয়া হবে।

পাবনা জেলা পানি সম্পদ কর্মকর্তা আল- মামুন হোসেন জানান, জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিয়ম রয়েছে। পরীক্ষা দুরের কথা তারা রোগাক্রান্ত গরুটিকে জবাই করে অন্যায় করেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। খোঁজ খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত