জনবসতি ফসলি জমি ও সড়কের বুক চিরে ‘হঁঠাৎ নদী’!

  রংপুর ব্যুরো ০৮ আগস্ট ২০২০, ২০:৪৯:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

হঁঠাৎ সৃষ্টি হওয়া এই জলপ্রবাহ দেখতে নদীর মতো মনে হওয়ায় এলাকাবাসী এর নাম দিয়েছে ‘হঁঠাৎ নদী’! যুগান্তর

রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর জংলার দোলা এলাকায় হঠাৎ করে নতুন এক জলপ্রবাহ দেখা দিয়েছে। হঁঠাৎ সৃষ্টি হওয়া এই জলপ্রবাহ দেখতে নদীর মতো মনে হওয়ায় এলাকাবাসী এর নাম দিয়েছে ‘হঁঠাৎ নদী’! নদীটির কোথাও কোমর পানি, কোথাও বা হাঁটু পানি। প্রায় ৪০ ফুট চওড়া এবং তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীর স্রোত গিয়ে মিশেছে পাশের ঘাঘট নদীতে।

অনেকে মনে করছেন, অপরিকল্পিতভাবে ঘাঘট নদী ড্রেজিং করা এবং গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পানি জমেছে। এতে অতিরিক্ত পানি পথ খুঁজে নিয়ে নেমে যাচ্ছে ভাটির দিকে। তাই সৃষ্টি হয়ে নতুন নদী।

গ্রামবাসী কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি জানান, নদীটি যেখানে জেগে উঠেছে, একসময় ঠিক সেখানেই একটি নদী ছিল। কালের গর্ভে ওই নদী হারিয়ে গিয়েছিল। সেটাই আবার প্রকাশিত হচ্ছে। ইসরাঈল নামের (৬৫) এক ব্যক্তি বলেন, বাপ-দাদার কাছে শুনেছি, এখানে একসময় নদী ছিল। কিন্তু ঠিক কতকাল আগে সেখানে নদী ছিল, তা সঠিকভাবে কেউ বলতে পারেননি।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডে কাছেও এ-সংক্রান্ত কোনো রেকর্ড নেই। গত ২৯ জুলাই সকালে স্থানীয় কৃষকেরা আকস্মিকভাবে ওই নদী দেখে বিস্মিত হন। নতুন এ নদী দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমাচ্ছে। অনেকে নতুন নদীতে গোসলও করছে। স্থানীয় লোকজনের অনেকে ঘটনাটি অলৌকিক বলে মনে করছেন। তাই নদীটির নাম দিয়েছে ‘হঠাৎ নদী’।

স্থানীয় লোকজন জানান, রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের এবং পাশ্ববর্তী বেতগাড়ী ইউনিয়নের ধনতোলা বাজারাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের পানি এই পথ দিয়েই ঘাঘট নদীতে গিয়ে মিশে থাকে। খরায় ঘাঘট নদী পানিশূন্য থাকলেও বর্ষায় ঘাঘট নদী পানিতে টইটম্বুর হয়ে পড়ে। তারা আরও জানান, অতিবৃষ্টির কারণে নদীতে পানির প্রচণ্ড স্রোত থাকায় ও ঘাঘট নদী নতুন করে ড্রেজিং করায় উজানের তিন কিলোমিটার এলাকা ভেঙে গভীর খাদে পরিণত হয়েছে। এভাবেই গত এক সপ্তাহে নতুন এ নদীর জন্ম। নদীটির পেটে গেছে অন্তত ১০০ বিঘা জমি। এতে আউশ ধান ও পাটসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

রংপুর-৩ আসনের সাংসদ রাহগীর আল মাহী সাদ এরশাদ বলেন, আমি ওই এলাকা পরিদর্শন করবো। ফসল ও জমি হারানো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেয়া হবে।

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববি বলেন, আমি নতুন ওই নদীর খবর শুনেছি। দ্রুত সময়ে পরিদর্শনে যাব। ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণ করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম জানান, উজানে নতুন নতুন এলাকা ভেঙে নদী আরও দীর্ঘ হচ্ছে। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় এ নদীর সৃষ্টি হয়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, সেখানে নদী থাকার কোনো রেকর্ড তাদের কাছে নেই। তিনি আরও জানান, নিচু হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। এতে ভাটির দিকে পানির প্রচণ্ড চাপ থাকে। পানির প্রবল চাপে ফসলি জমি ভেঙে জলাধারে পরিণত হয়েছে।

এদিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্থানীয় হরিদেবপুর ইউপি চেয়ারম্যান ওই স্থান পরিদর্শনে যায়নি। তাই তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত