‘তুই মোরে মারিস না, টাহা-পয়সা যা আছে লইয়া যা’
jugantor
‘তুই মোরে মারিস না, টাহা-পয়সা যা আছে লইয়া যা’

  মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি  

০৯ আগস্ট ২০২০, ১৪:০৯:৫৫  |  অনলাইন সংস্করণ

‘তুই মোরে মারিস না, টাহা-পয়সা যা আছে লইয়া যা’
ছবি: যুগান্তর

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় চাঞ্চল্যকর অটোচালক আয়নাল হক (৩৫), তার স্ত্রী খুকু মনি (২৫) ও তাদের তিন বছরের একমাত্র শিশুকন্যা আশফিয়ার হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।

মুখোশধারী চার ঘাতক সিঁদ কেটে আয়নালের বসতঘরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকে মারধর করে নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে। এ সময় আয়নাল দস্যু অটোচালক অলিকে চিনে ফেলে অনুনয়-বিনয় করে বলেন, ‘অলি তুই মোরে মারিস না, টাহা-পয়সা যা আছে লইয়া যা।’

শনিবার রাতে জেলা পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান মঠবাড়িয়া থানা চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

এদিকে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের আট দিনের মধ্য মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে শুক্রবার দিনগত গভীর রাতে উপজেলার ধানীসাফা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান আসামি অলি বিশ্বাস (৩৮) ও রাকিবকে (২০) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত ঘাতক অলি উপজেলার ধানীসাফা গ্রামের মৃত তুজাম্বর আলী বিশ্বাসের ছেলে ও রাকিব একই গ্রামের কাওসার বেপারির ছেলে।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি আ জ মো. মাসুদুজ্জামান মিলু জানান, শনিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত অলি ও রাকিবের স্বীকারোক্তি মতে, এ লুট ও ট্রিপল মার্ডারে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র এবং লুটের টাকা উদ্ধার করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান বলেন, ঘাতকদের চিনতে পারাই কাল হলো আয়নালের। এর পর চার ঘাতক মিলে আয়নাল ও তার স্ত্রী খুকুকে হাত বেঁধে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে।

এ সময় আয়নালের তিন বছরের কন্যাশিশু আশফিয়া কান্নাকাটি করলে ঘাতকরা তাকেও গলাটিপে হত্যা করে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে।

তিনি আরও জানান, গত ৮ জুলাই আয়নাল স্থানীয় সাফা বন্দর কৃষি ব্যাংক থেকে ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করে বাড়ি ফেরার পথে একই এলাকার অলি দেখে ফেলে। এ ছাড়া অলি জানতে পারে যে আয়নালের স্ত্রী খুকু প্রতিবেশীর ঘরে রাখা কিছু স্বর্ণালঙ্কার সম্প্রতি ঘরে নিয়ে আসেন।

ওই টাকা ও স্বর্ণ লুট করার জন্য গত ৩০ জুলাই দিনগত গভীর রাতে আয়নালের ঘরে ঘাতক অলি ও রাকিবসহ চারজন প্রবেশ করে এ লুট ও হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

এর আগে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের মালেক (৫৫), শামীম গাজী (২৬), রহিম (১৯), মাহাবুব (২০), সাকিল (১৯), শাহিনকে (১৯) গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।

উলেখ্য, গত ৩১ জুলাই সকালে উপজেলার ধানীসাফা গ্রামের একটি বসতঘর থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত অটোচালক আয়নাল ও তার স্ত্রী খুকু মনি এবং তাদের একমাত্র কন্যাশিশু আশফিয়ার লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

‘তুই মোরে মারিস না, টাহা-পয়সা যা আছে লইয়া যা’

 মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি 
০৯ আগস্ট ২০২০, ০২:০৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
‘তুই মোরে মারিস না, টাহা-পয়সা যা আছে লইয়া যা’
ছবি: যুগান্তর

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় চাঞ্চল্যকর অটোচালক আয়নাল হক (৩৫), তার স্ত্রী খুকু মনি (২৫) ও তাদের তিন বছরের একমাত্র শিশুকন্যা আশফিয়ার হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।

মুখোশধারী চার ঘাতক সিঁদ কেটে আয়নালের বসতঘরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকে মারধর করে নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে। এ সময় আয়নাল দস্যু অটোচালক অলিকে চিনে ফেলে অনুনয়-বিনয় করে বলেন, ‘অলি তুই মোরে মারিস না, টাহা-পয়সা যা আছে লইয়া যা।’

শনিবার রাতে জেলা পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান মঠবাড়িয়া থানা চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

এদিকে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের আট দিনের মধ্য মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে শুক্রবার দিনগত গভীর রাতে উপজেলার ধানীসাফা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান আসামি অলি বিশ্বাস (৩৮) ও রাকিবকে (২০) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত ঘাতক অলি উপজেলার ধানীসাফা গ্রামের মৃততুজাম্বর আলী বিশ্বাসের ছেলে ও রাকিব একই গ্রামের কাওসার বেপারির ছেলে।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি আ জ মো. মাসুদুজ্জামান মিলু জানান, শনিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত অলি ও রাকিবের স্বীকারোক্তি মতে, এ লুট ও ট্রিপল মার্ডারে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র এবং লুটের টাকা উদ্ধার করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান বলেন, ঘাতকদের চিনতে পারাই কাল হলো আয়নালের। এর পর চার ঘাতক মিলে আয়নাল ও তার স্ত্রী খুকুকে হাত বেঁধে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে।

এ সময় আয়নালের তিন বছরের কন্যাশিশু আশফিয়া কান্নাকাটি করলে ঘাতকরা তাকেও গলাটিপে হত্যা করে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে।

তিনি আরও জানান, গত ৮ জুলাই আয়নাল স্থানীয় সাফা বন্দর কৃষি ব্যাংক থেকে ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করে বাড়ি ফেরার পথে একই এলাকার অলি দেখে ফেলে। এ ছাড়া অলি জানতে পারে যে আয়নালের স্ত্রী খুকু প্রতিবেশীর ঘরে রাখা কিছু স্বর্ণালঙ্কার সম্প্রতি ঘরে নিয়ে আসেন।

ওই টাকা ও স্বর্ণ লুট করার জন্য গত ৩০ জুলাই দিনগত গভীর রাতে আয়নালের ঘরে ঘাতক অলি ও রাকিবসহ চারজন প্রবেশ করে এ লুট ও হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

এর আগে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের মালেক (৫৫), শামীম গাজী (২৬), রহিম (১৯), মাহাবুব (২০), সাকিল (১৯), শাহিনকে (১৯) গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।

উলেখ্য, গত ৩১ জুলাই সকালে উপজেলার ধানীসাফা গ্রামের একটি বসতঘর থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত অটোচালক আয়নাল ও তার স্ত্রী খুকু মনি এবং তাদের একমাত্র কন্যাশিশু আশফিয়ার লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

 
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন