প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেয়ার নামে আ’লীগ নেত্রীর অর্থ আত্মসাৎ

  ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ০৯ আগস্ট ২০২০, ২০:১৫:০০ | অনলাইন সংস্করণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার সাবেক ইউপি সদস্য চাঁদ সুলতানা সীমার বিরুদ্ধে অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের ভাতার টাকা আত্মসাৎ ও সরকারি ভাতার কার্ড করে দেয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা অরুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য চাঁদ সুলতানা সীমা ও তার সহযোগী জেসমিন বেগমের বিরুদ্ধে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। পরে ইউএনও অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরাইল থানার ওসিকে বলেছেন।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, চাঁদ সুলতানা সীমা ও জেসমিন বেগম রাজাপুর গ্রামের হতদরিদ্র অন্তত ২৫ জনের কাছ থেকে সরকারি ভাতা করিয়ে দেয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়াও গত ২৮ জুলাই জনতা ব্যাংক অরুয়াইল শাখা থেকে প্রতিবন্ধী নতুন ভাতা কার্ডধারী প্রত্যেকে ৯ হাজার টাকা করে উত্তোলন করেন। এ সময় রাজাপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ৮/১০ জনের কাছ থেকে ৩০০০ থেকে ৬০০০ টাকা পর্যন্ত জোরপূর্বক রেখে দেন চাঁদ সুলতানা সীমা ও জেসমিন বেগম।

রাজাপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম বলেন, চাঁদ সুলতানা সীমা গ্রামের হতদরিদ্র প্রতিবন্ধীদের ভাতার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তার কর্মকাণ্ডে এখানে দলের বদনাম হচ্ছে। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানানো হয়েছে।

রাজাপুর গ্রামের ইউপি সদস্য হানিফ মিয়া বলেন, যেসব প্রতিবন্ধীদের ভাতার টাকা কেড়ে নেন চাঁদ সুলতানা সীমা, তাদের (প্রতিবন্ধী) কান্নাকাটি দেখে আমি নিজে গিয়ে গরিব মানুষগুলোর টাকা ফেরত দিতে বলি। কিন্তু সীমা আমার কথা রাখেননি।

এ অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বাপন চক্রবর্তী বলেন, অভিযোগটি সরেজমিন তদন্তের জন্য থানা থেকে আমার কাছে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, অসহায় প্রতিবন্ধীদের ভাতার টাকা আত্মসাৎ করে চাঁদ সুলতানা সীমা গুরুতর অপরাধ করেছেন। তাকে গ্রেফতার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

সরাইল থানার ওসি আল মামুন মুহাম্মদ নাজমুল আহমেদ বলেন, সব কিছুর ঊর্ধ্বে থেকে পুলিশ বিষয়টি তদন্তপূর্বক অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কোনো তদবিরে কাজ হবে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেত্রী চাঁদ সুলতানা সীমা বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই বলব না। তারা (ভুক্তভোগী) আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত চলছে। আমি তদন্তেই মোকাবেলা করব।

এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, যেহেতু চাঁদ সুলতানা সীমা বর্তমানে ইউপি সদস্য নয়, সেহেতু বিষয়টি থানা পুলিশের কাছে দেয়া হয়েছে। এত বড় অন্যায় মেনে নেয়া যায় না, এ বিষয়ে নিয়মিত মামলা হওয়া উচিত।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত